সামুতে অর্থহীন অশুদ্ধ বাংলা ও বাংলিশ শব্দ পরিহার করি
আজ পহেলা বৈশাখ। বাংলা ১৪১৮ সনের প্রথম দিন। বাঙালির চিরন্তন ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় উৎসব-আনন্দে অবগাহন করার দিন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে একাকার আজ নববর্ষে আমাদেরও প্রত্যাশা : 'এসো, এসো, এসো হে বৈশাখ/তাপস নিঃশ্বাস বায়ে... মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে/বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক.../মুছে যাক গ্লানি ঘুচে যাক জরা/অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা। ' শাশ্বত সেই শুচিশুভ্রতার স্বপ্নে অতীতের
জীর্ণ মালিন্যকে পেছনে ফেলে আজ নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার দিন।
নতুন স্বপ্নের হালখাতা খোলার দিন পহেলা বৈশাখ। তাই নববর্ষ বাঙালি ঐতিহ্যের অহঙ্কার।
নববর্ষ উদযাপনে রাজধানীসহ সারাদেশ এখন উৎসবে মাতোয়ারা। সবার প্রাণে যেন বেজে উঠেছে আজ বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুলের সেই দৃপ্ত আকাঙ্ক্ষা : 'তোরা সব জয়ধ্বনি কর/তোরা সব জয়ধ্বনি কর/ঐ নূতনের কেতন ওড়ে কালবোশেখীর ঝড় ... তোরা সব জয়ধ্বনি কর। ' এই সুরধ্বনির ভেতর দিয়েই নতুন বছরে সব অপ্রাপ্তি আর ব্যর্থতার গ্গ্নানি ভুলে সমৃদ্ধি কামনায় উদযাপিত হবে নববর্ষ।
চৈত্রের শেষ দিনে গ্রাম ও শহরে ব্যবসায়ীরা গত বছরের বিকিকিনির হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে দিয়েছেন। আজ খুলবেন তারা হালখাতা। বিভিন্ন স্থানে বসেছে বৈশাখী মেলা। পটুয়া আর মৃৎশিল্পীরা মেলায় নিয়ে আসছেন তাদের সৃজন সম্ভার। নাগরদোলায় চড়া আর খেলনা, পুতুল, বাঁশিসহ বৈশাখী মেলার রকমারি পণ্য কেনার দুর্নিবার আকর্ষণে ছেলে-বুড়ো সবাই আজ মেলামুখো।
গ্রামবাংলার বৈশাখী মেলা শহরাঞ্চলেও সম্প্রসারিত হয়েছে। রমনার বটমূলে ষাট দশকে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার নবউন্মেষকালে ছায়ানট সেই যে কাকডাকা ভোরে নববর্ষকে আবাহনী গান গেয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল, সেটি আজ রাজধানীবাসীর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। বাংলা নববর্ষ আমাদের জাতীয় সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ। আজ সমগ্র রাজধানীর পথ মিশে যাবে রমনায় এসে।
সামুর সকল বন্ধু ব্লগার, ভিজিটর, মডারেটর, সম্পাদকগণ ও শুভানুধ্যায়ীদের জন্য শুভ নববর্ষ ১৪১৮'র শুভেচ্ছা।
নুতন বছরের প্রতিটি দিন কাটুক আপনাদের আনন্দে, সুন্দরে এই প্রত্যাশায়
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।