আমি পৃথিবীতে প্রতিনিধি সৃষ্টিকারী! বলল, তারা তো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে। বললেন, আমি যা জানি, তোমরা তা জানো না!
অবশেষে আমার ডেস্কটপটা ইহধাম ত্যাগ করল, সশব্দে নয়, অনেকটাই নিরবে। প্রিয় ডেস্কটপ... এই প্রথম কোন কনফিগারেশন নিয়ে আমি তুষ্ট ছিলাম। পাঁচটা বছর সন্তুষ্টিতে কাটিয়েছি। ১.৮ গি.হা. কোর টু ডুয়ো।
লিটল জায়ান্ট। কিনব- সেই উপায় নেই তো কী হয়েছে, ঘেঁটে দেখে মন খারাপ করতে তো আর অসুবিধা নেই!
সেই পুরনো কথা, টেকি নই। তাই ভুলচুক হয়ে যেতেই পারে। নেটঘাঁটাঘাঁটি করে সিদ্ধান্তে আসি, অনেকটা ঘুঁটেকুড়ানিদের মত।
তো, বিভিন্ন দামের মধ্যে কয়েকটা ডেস্কটপ কনফিগ করব আমরা।
সবদিক দিয়ে পারফেক্টের কাছাকাছি যাবার চেষ্টা করব।
সব কনফিগারেশনেরই কমন ফিচার্স
ডিসপ্লে: সব কনফিগারেশনেই একই ডিসপ্লে বরাদ্দ রাখছি। অবশ্যই স্যামস্যাং। পৃথিবীতে এই এক বান্দা, যারা সর্বপ্রথম মাস-ডিস্ট্রিবিউশনে আই-ফ্রেন্ডলি মনিটর নিয়ে এসেছে। এবং এখনো শুধু তাদেরই রাজত্ব।
লেইটেস্ট একটা স্যামসং, তা এলইডি হোক বা এলসিডি, শুধু দুটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে, ১. ডিসপ্লেটা যেন ম্যাট হয়। ২. মনিটরের আকৃতি যেন ১৮.৫ ইঞ্চি হয়। অনেক ঘেঁটেঘুঁটে এই সিদ্ধান্তে আসার তিনটা কারণ- ১. স্বাস্থ্য। চোখ গেলে আর মনিটর দিয়ে কী হবে? চোখের চোদ্দটা বাজানোর পিছনে মনিটরের অবদান তেরোভাগ। তাই স্যামসংয়ের ম্যাট ডিসপ্লে।
২. ১৮.৫ ইঞ্চি হল সবদিক দিয়ে ইউজার ফ্রেন্ডলি। আমার শুধু মুভিসুভি দেখলে ষাট ইঞ্চিও চলে, কিন্তু কম্পিউটারে কেউই শুধু মুভি দেখে না। সতের ইঞ্চি বা তার কম হলে চোখের উপর চাপ পড়ে, আবার উনিশ ইঞ্চির বেশি হলেও চোখের পেশির উপর চাপ পড়ে (যদিও আমরা কোটিবার চোখের পেশি অ্যাডজাস্ট করি একদিনে, তবু খুব খেয়াল করলাম, আমার বাইশ ইঞ্চিটা দিয়ে কোণা মেইন্টেন্যান্সে ঝামেলা হয়। সাড়ে আঠারোয় হয় না। চোখ বেশি ঘুরাতে হয় না।
) প্রফেশনালদের জন্যও এটা আদর্শ আকৃতি বলেই মনে করি। অবশ্য ওয়েব ডেভলপ, গ্রাফিক ডিজাইন এবং প্রোগ্রামিং অথবা ভিডিও রেন্ডারারদের জন্য (হ্যাকারদের জন্য তো অবশ্যই...) ওই বড় মনিটরের চেয়ে সুবিধাজনক হল, সাড়ে আঠারো ইঞ্চির একটা মনিটরের পাশে পনের ষোল ইঞ্চির দ্বিতীয় স্কয়ার মনিটর রেখে সোয়াপ করে কাজ করা। ৩. প্রাইস। বাংলাদেশে এবং সারা বিশ্বেই স্যামসং হাতের নাগালে।
ইউপিএস: এটাও চার কনফিগারের জন্য একই জিনিস।
সাড়ে আটশো ভি/এ থেকে শুরু করে বারোশ ভি/এ পর্যন্ত নিজের পছন্দমত। খুবই কম দাম। একটু ব্র্যান্ড দেখে কিনলে ভাল সার্ভিস দিবে। আমার সেন্ডনটা সার্ভিস দিয়েছিল তেরো বছর। ইউপিএস ছাড়া ডেস্কটপ? নহে নহে প্রিয়, এ নয় আঁখি জল!
কিবোর্ড-মাউস: অবশ্যই এফোর টেক।
আর কোনটাতে এই জীবনে শান্তি পাইনি। কিবোর্ডটা এ শেইপ হ্যান্ড ফ্রেন্ডলি চিজ হতে হবে। এখন সম্ভবত ডেস্কটপে এই কিবোর্ড আর পাওয়া যায় না। ল্যাপির মডেলটার নাম হল, কেএলএস-ফাইভ। ওটাই কিনি।
মাউসও, এফোরটেক ব্যবহার করতে হবে। মাউস-কিবোর্ড কোনটাই নানা মাল্টিমিডিয়া বাটন সহ টেকিটুকি জিনিস নয়। প্লেইন, বোল্ড অ্যান্ড বিগ। কিবোর্ডের দাম ৫৫০। মাউস ৫০০ থেকে ৬৫০ এর মধ্যে বিভিন্ন হ্যান্ড শেইপের জন্য ৫/৬ টা মডেল আছে।
বাজারে ১২০ টাকায়ও মাউস পাওয়া যায়, সার্ভিসও মন্দ না। কিন্তু কাজের মাঝে কিবোর্ড/মাউস নষ্ট হবার অভিজ্ঞতা যাদের আছে তারাই বোঝে মর্মযাতনা। ব-হু বছর টিকবে এফোরটেক। লাস্ট কিবোর্ড ব্যবহার করছি চার বছর। মাউস ব্যবহার করেছি ৩-৬ বছর একেকটা।
কেসিং: থার্মাল কেসিং নিন আর কমদামি- সবই বছর দুয়েকের বেশি টেকে। তাও ২০০০ থেকে ৩০০০ বাজেট রাখাটা ভাল। কারণ, মাদারবোর্ড-প্রসেসর নষ্ট হয় মূলত সার্জ সইতে না পারার জন্য। আর ইলেক্ট্রিক সার্জ ম্যানেজ করতে জানে যেসব পাওয়ার সাপ্লাই বক্স, সেগুলোর দাম এট লিস্ট ৪০০০ থেকে ৮০০০ টাকা। এতটা আমরা ঢালতে পারব না।
সো একটু ভাল দেখে কেনাই ভাল।
হাড্ডি: অবশ্যই ৭,২০০ আরপিএম। অবশ্যই ১ টেরা অথবা ২ টেরা। কারণ, 'জায়গা নাই' সিন্ড্রোম হচ্ছে কম্পু ইউজের সবচে বাজে সিন্ড্রোম। অসহ্য! ১ টেরার দাম পড়বে ৫,৫০০'র মত।
দুই টেরা ৮,৮০০'র মত। কারণ তো সরল, এমন কোন কম্পু ইউজার নেই, যার এমন কোন ক্লোজ ফ্রেন্ড নেই, যার কাছে একটা পাঁচশো বা এক টেরার পোর্টেবল ভর্তি মুভি অথবা ডকুমেন্টারি অথবা টিউটোরিয়াল অথবা সিরিয়াল/সিরিজ নেই।
তার মানে হল, আজকে কম্পিউটার কিনব, পরদিন আফসোস করব, আগে বলবি না দোস, তোর কাছে এত্তকিছু আছে!
এখানে অ্যাপলের একটু বদনাম করে নেই। পাগলা গারদের ওয়ার্ডেন ওরফে ফিউশন ফাইভ কেন যে আন্তর্জালে প্রয়াত মহানায়ক স্টিভ জবসকে ইয়ে করতে চেয়েছিলেন সেই কয়েক বছর আগেই, সেটা তখন বুঝতে পারিনি। এখন পারি।
অ্যাপলের ল্যাপি-ডেপিগুলোয় ইচ্ছামতন ৫,২০০ আরপিএমের হাড্ডি ইনক্লুড করা থাকে আজো। মাই ফুট! পৃথিবীর সেরা ব্র্যান্ডের লেটেস্ট কম্পুতে যদি আজো ৫১২ এমবি গ্রাফিক্স কার্ড আর ৫,২০০ আরপিএমের হাড্ডি থাকে, তো তোমাকে গোণায় ধরার কারণ নাই শুধুই রেটিনা (যা আবার ম্যাট নয়, আই ফ্রেন্ডলি নয়) ডিসপ্লে আর মাউন্টেইন লায়ন ওএস এক্স এর জন্য। তফাত যাও।
অপটিক্যাল: যে-কোন ক্ষেতনামা ব্র্যান্ডের ডিভিডি রাইটার কিনে নেন। পারফর্ম্যান্স তো গড়পড়তা একই।
সাউন্ড: এ বিষয়ে কিছুই বলব না। কারণ ভাল আউটপুট পেতে চাইলে ওইযে, ৬,০০০ বাজেট রাখতেই হবে। কোন মাফ নাই। আর তা স্যাক্রিফাইস করলে (আমরা সবাই আল্টিমেটলি না পেরে করি) ৮০০-১২০০ এর মধ্যে টু পিস কিনে নিন মাইক্রোল্যাব বা ক্রিয়েটিভের। ১৪০০-১৫০০ এর সাব উফার সহ থ্রি পিসের দিকে তাকাবেন না, চোখ নষ্ট হয়ে যাবে।
হয়ত কানও।
টিভি কার্ড (অপশনাল): মানুষ যে কেন এক্সটার্নাল টিভি কার্ড ব্যবহার করে আজো বুঝলাম না। কারণ কি শুধুই এটা যে, কম্পু চালু করতে হয় না, আর আউটপুটটা একটু বেটার আসে? তাই হয়ত। সেইসাথে কোন একটা কু-সংস্কার যে, টিভিকে টিভির মত থাকতে দাও। আরে, কত শত ঘন্টার প্রোগ্রাম যে রেকর্ড করলাম ইন্টার্নাল দিয়ে! সফটওয়্যারটা একটু ব্যবহার করতে পারলেই হল।
লংজিভিটিও দা-রুণ। এভারমিডিয়ার টিভিকার্ডের দাম এবং আউটপুটে আমি শুরু থেকেই তুষ্ট। এরাউন্ড তিন হাজার টাকা।
রেন্ডম এক্সেস মেমরি: প্রথম দুটা পিসির জন্য সাজেস্ট করা যায় ১৩৩৩ বাসের চার গিগার ডিডিআর থ্রি M Tec 4GB DDR3 1333 মাত্র ১৭,৫০ টাকা! ডিল বলে একেই! অর্ধেক দাম। একটা দুই গিগার ডিডিআরথ্রি স্লট ভরতে গেলেও ১৭,০০ টাকা চলে যাবে অন্য যে কোন ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রে।
রায়ানসে পাবেন। তবে জিনিস কেমন সেটা বলতে পারছি না।
পরের কনফিগের ক্ষেত্রে অবশ্য ১৬০০ মেগাহার্টজের চার গিগার দুটা, মোট আট গিগা রেম থাকা ভাল মনে করছি।
সফটওয়্যার কনফিগ: এটাকে আমরা চিরকালই অবহেলা করে এসেছি। অবহেলার কারণ হয়ত এই, যে কোন সময় তো রিকনফিগ করে নেয়া যাচ্ছে।
এখন সব কম্পিউটারই ৬৪ বিট হয়। তাই সফটওয়্যার সবক্ষেত্রে (স্টেবল পেলে) ৬৪ ব্যবহার করা দরকার যা আমরা আদপে করি না। আর কম্পুর শোরুমে তো মাশাল্লাহ, চোখ বন্ধ করে ৩২ বিট ওএস মেরে দেয় ৬৪ বিট প্রসেসর মাদারবোর্ডের সাথে।
উইন্ডোজ এইট সেভেন থেকে অনেকটাই লাইট। বেশিরভাগ সফটই চলে, বিজয়ের একটা ভার্শনও চলে।
এইটের পরের আপগ্রেড ৮.১ (কোডনেম ব্লু) অনেকটাই সুবিধাজনক। সেভেনের অনেক ক্ল্যাসিক অপশন ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
তো, আমি বলব এইটের ব্লু ভার্শনের পাশাপাশি লিনাক্স মিন্ট ফিফটিন এর যে কোন একটা ডেস্কটপ এনভায়রনমেন্ট ইন্সটল করে নেয়াটা একান্তই ফরজ। টেকনোলজিতে কোন বিশেষ অবস্থান আসবে আর ফ্রি বলে সেটাকে চেখেও দেখব না, তা কী করে হয়! মিন্ট ফিফটিনের সিনামোন যদিও প্রথম ভার্শন এবং সেটায় বেশ কিছু বাগ আছে যা পরবর্তীতে ঠিক করা হয়েছে, তবু ডেস্কটপ এনভায়রনমেন্ট হিসাবে সিনামোন সবচে বেশি পছন্দ হল। এরপর, ব্লাইন্ডিং লাইট ভার্শন যদি চান, তাহলে এক্স-ফেইস হল গুরু।
মিন্ট ফিফটিনের এক্স-ফেইস ভার্শনটা এমনকি ৪০০ বাস স্পিডের ৪০০ মেগাবাইট রেমেও চলবে, তাহলে আপনার ১৩৩৩ বাস স্পিডের ৪,০০০ মেগা রেমে কেমন চলবে!
আমরা মূলত কম্পুতে কী ইউজ করি? সেইতো ফায়ারফক্স, স্কাইপ, ভিএলসি প্লেয়ার এইসব হাবিজাবি। এজন্য কি উইন্ডোজ ব্যবহার করা লাগে! লিনাক্সে এসব অ্যাপ বিল্ট ইন থাকছে।
উইন্ডোজের মত লিনাক্স বুড়ো হয় না, ভাইরাস বলতে এক বস্তু ইউন্ডোজ থেকে একশো ভাগের একভাগ যেখানে এন্টি ভাইরাস ফ্রি, ডেস্কটপ এনভায়রনমেন্ট এবং ডিসট্রো (অপারেটিং সিস্টেম) শতশত, খালি সমস্যা হল, কিছু উইন্ডোজের সফটওয়্যার আমরা পছন্দ করি, সেগুলো লিন্যাক্সে পাওয়া যায় না। এইতো? লিন্যাক্সে উইন্ডোজের সফট ব্যবহারের জন্যও খুবই জনপ্রিয় কিছু সফট আছে। সেগুলোর অধীনে উইন্ডোজের সফট ব্যবহার করা যাবে।
গতিও অসাধারণ।
পাশাপাশি ব্যবহার করে অভ্যস্ত হওয়া আরকী!
উইন্ডোজকে তরুণ ও দ্রুত রাখতে আমার কিন্তু অ্যাডভান্সড সিস্টেম কেয়ারই বেশি ভাল লাগে। শুধু রেজিস্ট্রি আর ভালনারিবিলিটিতে হাত না দিলেই হল। সবচে বড় ফাইলগুলো খুজে বের করা, ডুপ্লিকেট ফাইল খোঁজা সহ র্যাম ঠিক করা আরো বিশটা মাইক্রো অ্যাপ আছে। সেটার সিস্টেম বুস্টও পছন্দ হয়।
এন্টিভাইরাসের মধ্যে বিনামূল্যে হলে সেইতো অ্যাভাস্ট। আর টাকা দিয়ে কিনলে অবশ্যই তিন পিসি কিনুন। তিন বন্ধুরই দু'শ করে টাকা বাঁচবে। আর কেনার ক্ষেত্রে নরটন হল অতি প্রাচীণ একটা এন্টিভাইরাস, এবং সারা দুনিয়ার সবচে লাইট এন্টিভাইরাস, পিসি স্লো না হওয়া দিয়ে কথা।
৬৪ বিট ওয়াটারফক্স ভাল লেগেছে, ৬৪ বিট অপেরাও চলে।
ক্রোম যে বেস্ট, সেটা মানতে কষ্ট হলেও কিসসু করার নাই। মোট কথা, পারতপক্ষে প্রতিটা সফট (স্টেবল হলে) ৬৪ বিট ব্যবহার করুন। সিনেট সাহায্য করবে।
অপ্রচলিত সফটগুলোর মধ্যে কিছু কিছু আছে, যেগুলো সিনেট ডাউনলোড ডট কম থেকে নামিয়ে একবার ব্যবহার করলে বলবেন, এ ছাড়া চললাম কী করে! তার মধ্যে আছে স্টপওয়াচ, ক্যালেন্ডার, রিমাইন্ডার, মাইন্ড-ম্যাপ সফট। তবে রিভিউ দেখে নামাতে হবে।
এছাড়াও কিনতে হবে এমন সফটের প্যাচ করার চেয়ে ফ্রি সফট বেশি ভাল লাগে, আর ফ্রি সফটের চেয়ে ওপেন সোর্স সফট সবচে প্রিয়। কারণ, তাতে গোপন অ্যাড থাকে না, গোপন সার্ভে থাকে না বা ভাইরাস থাকে না এবং মানুষের জিনিস প্যাচ করে ব্যবহার করার ফলে কিছু ফিচার অন আর কিছু ফিচার অফ থাকে না। তারচে বড় কথা হল, ওপেন সোর্সকে আপন সোর্স মনে হয়।
আগেই হাড্ডিটাকে ভাগ করে নেয়া ভাল। সি ড্রাইভ ৬০/৭০ গিগা হলেই দুটা অপারেটিং সিস্টেম ইন্সটল করেও আরো গড়ের মাঠের মত জায়গা খালি থাকবে।
পারতপক্ষে যথাসম্ভব কম পার্টিশন করুন। সি ড্রাইভ বাদে ২/৩/ বড়জোর ৪ টা। তাতে ১/২ টেরা সর্বমোট হোক না কেন! হাড্ডির পার্টিশন বড় বড় এবং কম হলে হাড্ডি ফাইল রাইট-রিরাইট-ডিফ্রাগের ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকে ফলে ভবিষ্যত ব্যাড সেক্টর আসে না।
আর আমরা যে কেন টার্ন অফ করি, হয়ত অভ্যাসেই। সব কাজ খোলা অবস্থায় হাইবারনেট দিয়ে রাখাটা দারুণ কাজের।
স্টার্টআপ টাইম বাঁচবে সাঙ্ঘাতিক, শাটডাউন টাইমও বাঁচবে, সেইসাথে কাজগুলো এমনকি ভিডিও প্লেব্যাকও যেখানে ছিল সেখান থেকে শুরু হবে।
অনেক হল! এবার আসুন বাকি কনফিগে ডুব দেই-
১. সবচে কম মূল্যে
প্রসেসর: যে প্রসেসরটা দেখা যাচ্ছে চার্টে, সেটাই। 'সেলেরন?ও-ও-য়া-ক্' বলার দিন শেষ! এই বান্দার বেঞ্চমার্ক হল ২,৮০০-৩,০০০! দাম মাত্র ৬০ ডলার, বাংলাদেশেও মাত্র ৪,৮০০ টাকা। যা কিনা যে কোন পুরনো কোর আই থ্রি বা কোর আই ফাইভের সেকেন্ড হ্যান্ড প্রাইসের চেয়েও কম, পারফর্ম্যান্স সেগুলো থেকে তা-থৈ তা-থৈ ভাল। এ রেঞ্জে অনেক কোর আই থ্রি-ফাইভ-সেভেন তো আছেই, সার্ভার জেয়নও আছে।
বিক্রয় ডটকমে এড দেখলাম, কোর আই থ্রি প্রসেসর বিক্রি করবে, ৬০০০ টাকা। দারুণ ডিল, তাই না? আসলেই ভাল ডিল ছিল যদি এই ডুয়াল কোরটা না আসত। কারণ, ওই সেকেন্ড হ্যান্ড ছয় হাজারির বেঞ্চমার্ক হল ২,৩০০ এবং এই ঝাঁ-তকতকে পাঁচহাজারির বেঞ্চমার্ক হল ২,৮০০। খুবই স্পষ্ট এবং বড় তফাত।
আরেকটা মজার ইনফো শেয়ার করি, এটাই পৃথিবীর সবচে সেরা প্রাইস ভার্সাস পারফর্ম্যান্স প্রসেসর! গুড লর্ড! এটা আবিষ্কারের পর তো আমার চক্ষু ছানাবড়া! যাই হোক, পরবর্তী স্বপ্নের কনফিগারেশনে আমরা প্রাইস ভার্সাস পারফরর্ম্যান্স এ বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা প্রসেসরটা নিয়ে আলাপ করব।
এটার সুবিধা হল, ১৩৩৩ বাস সাপোর্ট, ডুয়েল কোর, ২২ ন্যানোমিটার টেকনোলজি, ৩ এমবি ক্যাশ।
অসুবিধা (!) হল, ইন্টেলের অনেক ধানাই পানাই হুদাই ফাঁসাই টেকনোলজি ইনক্লুড করা হয়নাই। গুষ্টি কিলাই সেসব টেকনোলজির, সেগুলো তোমরা পাতিতে করে কোর আই সিরিজের জন্য তুলে রাখোগে, আমরা অলরেডি এটার বেঞ্চমার্ক দেখে বসে আছি।
আমি ব্যক্তিগতভাবে অবাক হয়েছি আরো একটা বিষয়ে। সেটা হল, এই প্রথম নিজের চোখে কোন ইন্টেল প্রসেসরকে দেখলাম প্রাইস ভার্সাস পারফর্ম্যান্স এ জিততে।
এখন অপেক্ষা করছি এএমডি কী চমক দেয় সেটার জন্য। এই থার্ড জেনারেশনের ডুয়েল কোরকে টেক্কা দিতে এএমডি নিশ্চই তার সেম্ফ্রন সিরিজ আপগ্রেড করবে। প্রসেসরটা তখন আরো দুই হাজার কমে পাবেন।
মাদারবোর্ড: গিগাবাইটের একটা পছন্দ হয়েছে। অনেক অনেক এক্সটেন্ডেড ফিচার।
এ প্রসেসরে তো কাজে লাগবেই, পরের প্রসেসরেও কাজে লাগবে, যদি সেটা আপগ্রেড হয় থার্ড জেনারেশন বা ফোর্থ জেনারেশনের কোর আই সিরিজে। আর ফোর্থ জেনারেশন কোর আই সিরিজের প্রতি আকর্ষণ না রাখাই ভাল। কারণ, স্পিড বাড়ছে মাত্র দশ পার্সেন্ট। পুরোটাই পাওয়ার সেভের বিষয়, ল্যাপটপে ভাল।
তো এই টোটাল পিসিটার প্রাইস পড়বে (সাউন্ড-ইউপিএস সহ) মাত্র ২৭ থেকে ৩৬ হাজারের মধ্যে (অন্য জিনিসগুলার মূল্য ও মান কম থেকে বেশি ধরে)।
বাজি ধরে বলতে পারি, স্বপ্নের পিসি। কোর আই সিরিজ ফার্স্ট বা সেকেন্ড জেনারেশন এর কাছে খুব কিছু না। আর গড়পড়তা ল্যাপটপ? দূগিম! দূরে গিয়া মর।
২. অনেকটাই বেশি
অনেকটা মনে করুন, ঘুমিয়ে ঘুমিয়েই এই পিসি দেখেছেন। এখানে একটু সংশোধন হবে।
ঘুমিয়েও এই পিসি দেখা সম্ভব না। ঘুম ভেঙে যাবে। সারারাত আর ঘুম আসবে না।
প্রসেসর:
AMD FX-8350 Eight-Core
Description: Socket: AM3+, Clockspeed: 4.0 GHz, Turbo Speed: 4.2 GHz, No of Cores: 4 (2 logical cores per physical), Max TDP: 125 W
Other names: AMD Ftm)-8350 Eight-Core Processor
Overall Rank: 40
Last Price Change: $193.97 USD (2012-10-24)
এটার কোন প্রশংসাই করলাম না। সম্ভবত ক্যাশই আছে ১৬ মেগা।
এটার প্রশংসা করার মানে হয় না। শুধু কথা হল, এমন পারফর্ম পেতে হলে, এরচে অন্তত তিন/ চারগুণ দাম দিতে হবে ইন্টেলের ক্ষেত্রে।
মাদারবোর্ড: যথাযোগ্য একটা নিয়ে নিতে হবে। হাজার বারো থেকে শুরু করে হাজার ষোল দাম পড়বে।
সলিড স্টেট ড্রাইভ: এই জিনিসের আসল পারফর্ম্যান্স চাখতে হলে হার্ডড্রাইভ থাকলে কাজ হবে না।
সলিড স্টেট ড্রাইভ অথবা পিসিআই এক্সপ্রেস সলিড স্টেট ড্রাইভ চাই।
সলিড স্টেট ড্রাইভের মাহাত্ম্যটা কোথায়! এম্নিতে আমরা তো হার্ডডিস্কের ডাটা ট্রান্সফার রেট দেখি উইন সেভেনে। বাস্তবে ৩০ থেকে ৬০ মেগাবাইট পার সেকেন্ড। তো, ৩০ থেকে ৬০ এমবিপিএস স্পিডের হার্ড ডিস্ক কখনোই এই প্রসেসরকে ব্যবহার করতে পারবে না। ক্ষমতা রয়েই যাবে, রয়েই যাবে।
স্যামসং এইট ফোর্টি প্রো সিরিজ ২.৫ ইঞ্চি ১২৮ গিগা সাটা ৬ গিগাবিট পার সেকেন্ড সলিড স্টেট ড্রাইভ হল মোক্ষম।
রিড রাইট স্পিড আপটু ৫৫০ এমবিপিএস। কিন্তু আমরা ধরেই নেই, ছোটবড় ফাইল মিলিয়ে গড়পড়তা ৩৫০ থেকে ৪০০ এমবিপিএস স্পিড পাব। তাহলেও হার্ড ডিস্ক থেকে ১০ গুণ স্পিড পাচ্ছি।
কারণ, হাড্ডি হল গোল জিনিস।
এটার প্রান্তে যে স্পিডে ডাটা রিড হয়, ভিতরদিকে কষ্মিনকালেও সে স্পিডে ডাটা রিড হয় না। অর্থাৎ, যে হাড্ডির ট্রান্সফার রেট হল সর্ব্বোচ্চ ১০০ এমবিপিএস, সেটাও কিন্তু ডিস্কের ভিতরদিকে কখনোই ৩৫-৪০ এমবিপিএসের বেশি রেটে ডাটা দিতে পারবে না। আমার এক বন্ধু মেলবোর্নে ওর কলেজের ২৭ টা ল্যাব-অ্যাপলকে আড়াইদিন ডু নট ক্রস লাইন দিয়ে তারপর তিন মিনিটের ভিডিও রেন্ডার দিয়েছিল। অথচ সেই একই রেন্ডার দিল তার ব্লাইন্ডিং মেশিনে। সেখানে এসএসডি ছিল।
সাতাশটা পিসির আড়াই দিনের কাজের সমান কাজ হল একটা পিসিতে মাত্র সাড়ে আট ঘন্টায়! অন্তত ফটোশপ-ইলাস্ট্রেটর এর কাজেও এর ব্যবহার দারুণ। আর অকাজের কাজ গেইম খেলাতেও সুপ্পার। কম্পিউটার স্টার্টআপ টাইম এবং সময় নষ্ট করা বাঁচানোর জন্য অনন্য।
অন্যদিকে স্যামসংয়ের এই জায়ান্ট সর্বনিম্ন ডাটা স্পিড দিবে ৩৮০ মেগাবাইট পার সেকেন্ড।
দাম ১৪০ ডলারের মত।
বাংলাদেশের হিসাবে ১১,০০০ ই ধরি, যদি কাউকে দিয়ে আনানো যায়।
পিসিআই এক্সপ্রেস সলিড স্টেট ড্রাইভ: স্যামসং বানাচ্ছে। নিশ্চই, যথারীতি, তারা যখন কোন একটা জিনিস বানাবে, সেটার মান হবে বাজারের বারোটা বাজানো ভাল মান, আবার পাশাপাশি সেটার দাম হবে বাজারের চোদ্দটা বাজানো কমদাম। অর্থাৎ গ্রাজুয়ালি তারা পুরো বাজারের সবকিছুর দাম নামিয়ে ফেলবে ওই ক্যাটাগরিতে। ইতোমধ্যে অ্যাপল পিসিআই ড্রাইভ দিয়ে ল্যাপি ডেপি বানাচ্ছে।
সেটা নাকি স্যামসং থেকেই কিনছে, কারণ ওসিজেড থেকে কেনার উপায় নাই। দাম বেশি। আর স্যামসংও সেই একই সময় ঘোষণা দিল, তারা মাস-প্রোডাকশনে যাচ্ছে ১,৫০০ মেগাবাইট পার সেকেন্ড পিসিআই এক্সপ্রেস ড্রাইভের। অর্থাৎ, প্রতি সেকেন্ডে দেড় গিগা ডাটা রিড অথবা রাইট হবে কথিত 'হার্ড ডিস্ক' থেকেই! পিসিআই এক্সপ্রেস এসএসডির মাহাত্ম্য অন্য কোথাও। যারা খুবই ভারি কাজ করে, যেমন ভিডিও রেন্ডারিং, তারা বোঝে কষ্টটা কোথায়।
এই মেশিনে ভিডিও রেন্ডার কী ভয়ানক হবে! পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সলিড স্টেট ড্রাইভ থেকেও তিন গুণ!
এখন দামটা খুব বেশিই বলা চলে, ২৪০ গিগার ওসিজেড ৬৪০ ডলার হিসেবে ৫০ হাজার টাকা।
ভিডিও রেম: একটা বিষয় কিন্তু সত্যি, ব্যবসায়ীরা হল খাদক। তারা ইচ্ছা করে একটা সুবিধা দেবে তো আরেকটা বন্ধ করে রাখবে। ভিডিও গেম খেলার জন্য ২ গিগার একটা গ্রাফিক্স কার্ডের দাম যদি হয় ২০ হাজার টাকা, তাহলে আবার রেন্ডার দেয়ার জন্য তারচে কম মানের ১ গিগার একটা গ্রাফিক্স কার্ডের দাম পড়বে ২০ হাজার কিন্তু রেন্ডার পারফর্ম্যান্স ওই গেমিং কার্ড থেকে অনেক ভাল হবে। এই বিচিত্রিতার জন্য এখানে আর ঘাঁটলাম না, শুধু ধরেই নেই, ভিডিও কার্ড বা গ্রাফিক্স কার্ডের জন্য হাজার বিশেকের মত বরাদ্দ রাখতে হবে।
রেম: এতে ১৩৩৩ বাস ব্যবহার না করাটাই স্বাভাবিক। ১৬০০ বাসের একটা ৮ গিগার চেয়ে দুইটা ৪ গিগার একই মডেলের রেম ব্যবহার করতে গেলে, ৫,৫০০-৬,৫০০ টাকা খসবে। দুইটা রেম ব্যবহার করাই ভাল। নিরাপদ।
তাহলে এই পিসির সম্ভাব্য কনফিগ হবে এইরকম-
১. আগের পিসির সবকিছু বেস্টটা রইল, ২৬,০০০; প্রসেসর-মাদারবোর্ড ২৮,০০০; আরো একটা চার গিগা সস্তা ১৩৩৩ রেম ১,৮০০; কোন সলিড স্টেট নাই, কোন এক্সট্রা গ্রাফিক্স প্রসেসর নাই।
৫৬ হাজার টাকায় অ্যাপল পড়িমড়ি সিরিজের দেড় দুই লাখ টাকার ল্যাপটপ ডেস্কটপ থেকে তোফা জিনিস।
২. উপরের কনফিগের সবই রইল। শুধু হাড্ডির বদলে ১২৮ গিগার স্যামসং ৫৫০ মেগাবাইট পার সেকেন্ড। হাড্ডি থেকে ৮,৮০০ বাদ যাবে, মাত্র ২ হাজার টোটাল যোগ হবে। পারফর্ম্যান্স ইম্যান্স।
৫৮ হাজার টাকা।
৩. রেম ১৬০০ মেগাহার্টজ (৩,০০০/=+), ভাল একটা পাওয়ার সাপ্লাই (৩,০০০/=+), ভাল একটা ভিডিও রেম ২০,০০০/=+ সব মিলিয়ে ৮৫ হাজার। অ্যাপল বা যে কোন ব্র্যান্ড এর লাখ দুয়েক টাকার মেশিন এর কাছে আসার সাহস পাবে না, বেআদবি হবে মনে করবে। চোখা প্রফেশনালদের জন্য। মোটামুটি সুপার কম্পিউটার।
৪. সাথে শুধু ২ টেরার হাড্ডিটা ইনক্লুড করে নিলে, ৯৩ হাজার।
৫. ঘুমিয়েও না দেখা মেশিন। স্যামসং এসএসডি বাদ। দশ মাইনাস। চল্লিশ হাজার প্লাস হবে।
পিসিআই এক্সপ্রেস ওসিজেড ২৪০ গিগা ১৫০০ মেগাবাইট পার সেকেন্ডের জায়ান্ট। ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। এই শেষের মেশিনটা দিয়ে নিশ্চিন্তে হলিউড মুভির মানের রেন্ডার দেয়া যাবে। আসলে এই শেষের মেশিনটা আমাদের জন্য অনেক আশা নিয়ে এসেছে। একটা সময় ছিল, এ মানের মেশিন নেই দেখেই বাংলাদেশে মানুষ কার্টুন মেকিং বা এনিমেটেড মুভি বানানোর চেষ্টা করত না আর মিডিয়া হাউস/ বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলো সাবান আর চানাচুরের অ্যাডের অ্যানিমেশন দিত মুম্বাইতে গিয়ে।
স্বপ্ন আছে, একদিন এনিমেশন হাউজ হবে এই লেটেস্ট টেকনো অবলম্বন করে।
যাই হোক, এই সর্বশেষ কনফিগটা কিন্তু অকল্পনীয় নয় দামের দিক দিয়ে। বাংলাদেশে দেদার বিক্রি হয় দেড় লাখের অ্যাপল। ভাব নেয়ার জন্য হলে ঠিক আছে, কিন্তু ব্যবহারের জন্য যারা দামি অ্যাপল ট্যাপল ব্যবহার করেন, তাদের অনেক দূর নিয়ে যাবে এমনধারা কনফিগারেশন।
প্রকৃতপক্ষেই খিচুড়ি পোস্ট হল।
অনেকগুলো টুকরা করে পোস্ট করার আশা করলে শেষ পর্যন্ত কন্টিনিউ করা যায় না, তাই একবারে শেষ। সবশেষে ল্যাপি ব্যবহারকারী ভাইদের জন্য মজার উপহার রইল। একটা অ্যান্ডু মোবাইল ফোন খুলতে যতক্ষণ লাগে, ততক্ষণ বা তারচে কম সময়ে যদি আপনার মধ্যম মানের ল্যাপিটা অন হয়ে যায়? মানে, ৬ থেকে ১৮ সেকেন্ডে? হ্যা। উইন্ডোজের পাশাপাশি ব্যবহার করতে পারেন এক্স-ফেস ডিইর যে কোন লেটেস্ট লিনাক্স অথবা সামনে আসছে আসল জিনিস। এখনো পর্যালোচনা স্টেজে আছে।
বলা হচ্ছে, ব্যবহার করা হবে এই অপারেটিং সিস্টেম ৬০% ল্যাপটপ, নোটবুক এবং নেটবুকে। মোবলিন ব্যবহার করে দেখুন (সাবধান, এখনো অডিও ভিডিও চালানোর সমাধান হয়নি পুরোপুরি...)। মনে হবে, মোবাইল ফোন ব্যবহার করা অনেক স্লো।
বিষয়টা ছিল সিম্পল, আমি একটা মেশিন কিনতে চাই, সেটা কেমন হতে পারে... ঘেঁটে মনে হল, শেয়ার করা যায়। হয়ত কারো কাজে এসেও পড়তে পারে।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।