আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

২৯৫ বিলিয়ন গিগাবাইট তথ্যের পৃথিবী

তবে তাই হোক, ক্লান্তিহীন তিল তিল আরোহনে সত্য হোক বিক্খুব্ধ এই জীবন _____

বর্তমান সময়কে বলা হয় তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। তবে শুধু বর্তমান সময় বলেই নয়, পৃথিবীর শুরু থেকেই মানুষ নির্ভরশীল তথ্যের উপর। যার কাছে যত বেশী তথ্য, সে তত বেশী সমৃদ্ধ। ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার কয়েকজন গবেষক সম্প্রতি গবেষণা চালিয়েছেন পৃথিবীর মোট তথ্যের পরিমাপ জানতে। আর তাদের গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী পৃথিবীর মোট তথ্যের পরিমাণ ২৯৫ এক্সাবাইট।

হঁ্যা, এতদিন আমরা ডিজিটাল তথ্যের পরিমাপ করেছি মেগাবাইট বা গিগাবাইটে। তথ্যের পরিমাণ বেশী হওয়ায় সাধারণ মানুষের কাছে এখন টেরাবাইট এককটিও বেশ পরিচিত। যদিও টেরাবাইট পরিমাণ ডাটা সাধারণ মানুষের জন্য যথেষ্টই। তবে এরচেয়েও বড় একক হচ্ছে পেটাবাইট এবং এক্সাবাইট। এক জহাজার টেরাবাইটে এক পেটাবাইট এবং এক হাজার পেটাবাইটে এক এক্সাবাইট।

যার অর্থ এক বিলিয়ন গিগাবাইটে এক এক্সাবাইট। অর্থাৎ পৃথিবীর মোট তথ্যের পরিমাণ ২৯৫ বিলিয়ন গিগাবাইট। পৃথিবীতে বিভিন্ন কম্পিউটারে ব্যবহূত হার্ডডিস্কের গড় ধারণ ক্ষমতা ২৫০ গিগাবাইট ধরা হলে মোট ডাটা ধারণ করতে প্রয়োজন হবে ১.২ বিলিয়ন হার্ডডিস্ক। পিসি এবং অপটিক্যাল ডিস্ক (সিডি, ডিভিডি) থেকে শুরু করে ছাপানো বিজ্ঞাপন, বই সহ মোট ৬০টি প্রযুক্তির ডাটা হিসাব করে গবেষকরা এ বিপুল পরিমাণ তথ্যের হিসাব করেছেন। মোট এই তথ্যের পরিমাণের বিশালতা বোঝাতে সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মার্টিন হিলবার্ট বলেন, 'এই সব তথ্য নিয়ে বই প্রকাশ করা হলে যে পরিমাণ বই হবে, তা দিয়ে পুরো চীনকে ১৩ স্তরে ঢেকে দেয়া যাবে।

' তিনি আরও জানান, 'এসব তথ্য দিয়ে যদি অপটিক্যাল ডিস্ক তৈরি করে ডিস্কগুলো সাজিয়ে রাখতে হয়, তবে ডিস্কের স্তুপের উচ্চতা ছাড়িয়ে যাবে চাঁদকেও'। ১৯৮৬ সাল থেকে শুরু করে ২০০৭ সালের ডাটা নিয়ে পরিচালিত এ গবেষণায় প্রায় সব ধরনের ডিজিটাল তথ্য ধারণকারী মাধ্যমকে বিবেচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে। রয়েছে হার্ডডিস্ক থেকে ফ্লপিডিস্ক এবং এক্স-রে ফিল্ম থেকে ক্রেডিট কার্ডের মাইক্রোচিপ। ১৯৮৬ সাল থেকেই যথার্থ ডিজিটাল যুগ শুরু হওয়ায় ওই বছর থেকেই তথ্য হিসাবে আনা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, ২০০০ সালে পৃথিবীর মোট তথ্যের মাত্র ২৫% ছিলো ডিজিটাল ফরম্যাটে। বাকী ৭৫ ভাগ ছিলো অডিও-ভিডিও ক্যাসেট এবং এরকম অ্যানালগ ফরম্যাটে। ২০০৭ সাল নাগাদ এ সকল তথ্যের ৯৪ ভাগ রূপান্তরিত হয় ডিজিটাল মাধ্যমে। গবেষণাচালিত ২ দশকের তথ্যের ব্যবহার সবচেয়ে বেশী বেড়েছে কম্পিউটারেই। দেখা যায়, এ সময়ে প্রতিবছর কম্পিউটিং ক্ষমতা বেড়েছে শতকরা ৫৮ ভাগ।

২৯৫ এক্সাবাইট তথ্যকে বেশী মনে হলেও প্রকৃতির ধারণ ক্ষমতার তুলনায় এটি অত্যন্ত ক্ষুদ্র পরিমাণ বলেই জানিয়েছেন ড. হিলবার্ট। বিপুল এই পরিমাণ তথ্যের ব্যবহারে বিশ্বব্যাপী উন্নত দেশগুলোর সালে অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের পার্থক্যটাও পরিস্কার হয়ে যাচ্ছে। ২০০২ সালে যেখানে উন্নত দেশগুলো বাকী বিশ্বের তুলনায় ৮ গুণ বেশী তথ্য ব্যবহার করতো, ২০০৭ সালে এই পরিমাণ দাঁড়ায় ১৫ গুণ। সুত্র

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।