Miles to go before I sleep.....
বিএসএফ নিরীহ বাংলাদেশীদেরকে নির্বিচারে গুলি করে মারতেছে অনেক বছর থেকে। ইদানিং সেটা আরো অনেক বেড়ে গিয়েছে। অথচ সরকার এ বিষয়ে কোনকিছুই করছেনা। সব সরকারের আমলেই আমরা একই ব্যাপারই লক্ষ্য করেছি। যারা প্রতিবাদ করছে তাদের মধ্যেও বিভিন্ন শ্রেণীর লোক আছে।
অনেকে মনে করছে এই সুযোগ, আ'লীগকে একহাত দেখিয়ে দিয়!! আবার অনেকে জাতীয়তাবাদী শক্তিতে বলীয়ান হয়ে প্রতিবাদ করছে। যদি একই অন্যায় আমাদের আর্মী করত তখন তারা চুপচাপ থাকত। অনেকে জেনুইনলি প্রতিবাদ করছে, সে আ'লীগ করে না বিএনপি করে, জাতীয়তাবাদী কি না, সেসবের চেয়ে তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে নিরীহ সিভিলিয়ান মারছে এক সাম্রাজ্যবাদী শক্তি। আবার ভারতের দালালও আছে স্বাভাবিকভাবেই। এদের অনেকেই বুদ্ধিজীবি শ্রেণীতে আছেন।
এরা কোনরকমের প্রতিবাদ তো দূরের কথা, ইস্যুটাকে অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করবে।
যে যে কারনেই প্রতিবাদ করুক, আমরা দেখতে পারছি সরকার ব্যাপারটাকে কোনমতেই সিরিয়াসলি নিচ্ছেনা। তাই আমাদেরকে নিজেদেরকেই কিছু করতে হবে। যে দৃষ্টিভংগী থেকেই প্রতিবাদ করি না কেন, আমাদেরকে সবচেয়ে কার্যকর উপায়ে প্রতিবাদ করতে হবে যাতে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষন করতে পারি। প্রতিবাদটাকে আনুষ্ঠানিক কায়দায় নিয়ে যেতে হবে এবং এর জন্য একটা লুজ সংগঠনও করা যেতে পারে।
সামহয়ার একটা বিরাট প্লাটফর্ম, এর থেকেই সবচেয়ে কার্যকরভাবে প্রতিবাদকারীদেরকে মোবালাইজ করা যেতে পারে। আমি অনুরোধ করব এই জাতীয় ইস্যুতে আমরা যেন নাস্তিক-আস্তিক, আ'লীগ-বিএনপি ভাগ না হয়ে যায়। নাস্তিক-আস্তিক, আ'লীগ-বিএনপি সবার রক্তই লাল, ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদীদের গুলিতে আমাদের যে ভাইবোনেরা মারা পড়ছে তাদের রক্তের দাম আমাদের আইডিয়লজিকাল ডিফারেন্সের চেয়ে অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ। তাই সবাই মিলে যদি প্রতিবাদ সংগঠিত না করি, তাহলে প্রতিবাদ কার্যকর হবেনা।
আন্তর্জাতিক মাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করার সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায় হচ্ছে বিশ্বকাপের প্রথম বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে সংগঠিতভাবে ভারতীয় বর্বরতার প্রতিবাদ করা।
এজন্য দরকার হবে আমরা যারা বিশ্বকাপের টিকিট পেয়েছি তাদেরকে প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে প্রতিবাদ করতে হবে। স্বভাবতই "ভারতের বর্বরতার প্রতিবাদ করছি" ধরণের কোন প্ল্যাকার্ড স্ট্যাডিয়ামে নিয়ে ঢুকতে দিবেনা। তাই যেটা করতে হবে সেটা হচ্ছে, চার/ছক্কার যে প্ল্যাকার্ড থাকে সেসব প্ল্যাকার্ডে স্ট্যাডিয়ামে ঢুকে যাওয়ার পর মার্কার দিয়ে লিখতে হবে "বিএসএফ - স্টক কিলিং এট বর্ডার" বা এরকম জাতীয় কিছু। অবশ্যই সেটা ইংরেজী-বাংলায় দু-ভাষায়ই হতে হবে। আবার স্লোগান যেন যুদ্ধাংদেহী না হয় এবং ভুল না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
হিন্দুধর্মকে আক্রমণ করে বা ভারতের জাতীয় নেতা যেমন নেহেরু, গান্ধী এদেরকে আক্রমণ না করে প্ল্যাকার্ড লিখতে হবে। যার যার মত প্ল্যাকার্ড না বানিয়ে সংগঠিতভাবে প্ল্যাকার্ড বানাতে হবে, এতে অহেতুক কন্ট্রভারসি থেকে বেঁচে থাকা যাবে এবং আমাদের উদ্দেশ্য সফল হবে।
এটাকে যত সহজ মনে হচ্ছে ব্যাপারটা অত সহজ হবেনা। যদি তেমন বড় সংখ্যক দর্শক এটাতে অংশগ্রহণ না করে তাহলে খুব কার্যকর কোন ইম্প্যাক্ট পড়বে বলে মনে হয়না। তাছাড়া প্রতিবাদটা প্রথমদিনেই সফল করতে হবে, কেননা পরবর্তী খেলার দিন থেকে এই ধরনের প্রতিবাদের বিপক্ষে সরকার বা ভারতীয় চাপ থাকবে।
তাই আগে থেকে সংগঠিত হওয়াটা জরুরী। আমাদের কাজ হবে যত বেশী সংখ্যক বাংলাদেশী দর্শককে এই প্রতিবাদে অংশগ্রহণ করানো যায়। এজন্য কয়েকটা পদক্ষেপ জরুরী।
১। সামহয়ার থেকে যারা প্রতিবাদে আগ্রহী তাদের নিয়ে একটা প্রাথমিক মিটিং করতে হবে।
আমরা জানি সামহয়ার থেকে এর আগেও বিভিন্ন ক্যাম্পেইন খুবই সাফল্যের সাথে করা হয়েছে। যেমন শ্বাশ্বতের জন্য ফান্ড রেইজ করা। তাই ২১ তারিখ যে ব্লগারদের প্রতিবাদের জন্য একত্রিত করার প্ল্যান আছে সেদিনই একটা কমিটি গঠন করতে হবে। কমিটিতে তারাই থাকবে যারা প্রচুর সময় দিতে পারবে এবং নেতৃত্বের গুণাবলী আছে। তবে মনে রাখতে হবে এই কমিটি নিয়ে যেন রাজনীতি শুরু হয়ে না যায়।
এই কমিটিতে যাদের বিশ্বকাপে প্রথমদিন খেলা দেখার টিকিট কাটা আছে তাদেরকে রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া আগের সামহয়ারের ক্যাম্পেইনগুলোতে যারা প্রচুর সময় ও শ্রম দিয়েছেন তাদেরকেও রাখাটা জরুরী। বামপন্থী ছাত্ররাজনীতির সাথে যারা জড়িত তাদেরকেও রাখা যেতে পারে। তবে কারো রাজনৈতিক পরিচয়টা যেন বড় হয়ে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
২।
যারা টিকিট পাননি তাদের ন্যুনতম দায়িত্ব হচ্ছে প্রত্যেকে কমপক্ষে একজন টিকিট পেয়েছে এরকম কাউকে কনভিন্স করা। সামুতে যারা মেম্বার না তাদের কাছে পৌঁছানোর সবচেয়ে ভাল উপায় হবে এটা। তাদেরকে খেলার আগের দিন বা কয়েকদিন আগে অন্তত কোথাও জড়ো করা এবং আমরা কি করতে যাচ্ছি তা তাদেরকে বিস্তারিত জানানো। তারা যদি অনেকেই সামুর ব্যাপারে আপত্তি করে তাহলে তাদেরকে জানাতে হবে যে যদিও সামু থেকে এটা ফর্মালি সংগঠন করা হচ্ছে, তবে সামুর কোন ব্যানার এখানে থাকবেনা। আমরা সবাই একটা চরম হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছি এটাই আমাদের একমাত্র পরিচয়।
সামু থেকে সংগঠন করার একমাত্র কারন এটা সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বাংলা ব্লগারদের স্থান।
৩। কিভাবে কিরকম প্ল্যাকার্ড বহন করা হবে, কিভাবে প্ল্যাকার্ডে স্লোগান লিখতে হবে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মনে রাখতে হবে সবার প্ল্যাকার্ডের স্লোগান যেন কাছাকাছি হয়, ভুলভাল স্লোগান যেন না থাকে। স্লোগানটা বাংলা-ইংরেজী দু'ভাষাতেই হওয়াটা জরুরী।
তাই স্লোগানটা কি হবে সেটা সিদ্ধান্ত নিয়ে সেটা কিভাবে লিখতে হবে সেটা সবাইকে জানিয়ে দিতে হবে।
৪। স্টেডিয়ামের ভিতরে কোন সময়ে, কোন মোডে স্লোগান-প্ল্যাকার্ড বহন করতে হবে সেটা সিদ্ধান্ত হবে। উল্লেখ্য যে প্রতিবাদটা যেন এমন মনে না হয় যে আমরা ভারতীয় ক্রিকেট দলের বিরোধী বা ভারত রাষ্ঠ্রের বিরোধী বা কোন মৌলবাদী সংগঠনের সদস্য। নাহয় প্রতিবাদটা ব্যাকফায়ার করবে।
আমাদের মনে রাখতে হবে আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে বিএসএফ-এর বর্বরতাটা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরা। এজন্য স্পোর্রটসম্যানলইক মেন্টালিটি দেখিয়ে ভারতীয়রা চার/ছক্কা মারলে যারা প্ল্যাকার্ড বহন করবে তারা এক্টিভলি অভিনন্দন জানাতে পারে। যদি ম্যাচে ভারতীয়রা জিতে যায় তাতেও আমরা অভিনন্দন জানাব। ভারতের কাছ থেকে ম্যাচ জিতাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ নিঃসন্দেহে, কিন্তু তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে বিএসএফের হত্যাকান্ড বন্ধ করা। এতে আমরা হয়ত বিবেকসম্পন্ন ভারতীয়দেরও পাশে পেতে পারি।
ভারতীয় জনগনের কিছু বিবেকসম্পন্ন অংশকে পাশে পাওয়াটা আমাদের জন্য বড় জয়।
৫। খেলার পরে যাতে এই প্রতিবাদটা ভাল কাভারেজ পায় সেটা দেখতে হবে। যাদের আন্তর্জাতিক মিডিয়ার বিভিন্ন সাংবাদিকর সাথে পরিচয় আছে তাদের কাছে রিচ করার চেষ্টা করতে হবে।
৬।
ফেইসবুকে যারা আছেন তারা এই প্রতিবাদ বিষয়ে ফ্র্যান্ডলিস্টের বন্ধুদেরকে প্রতিবাদে শামিল করার জন্য সক্রিয়ভাবে চেষ্টা করতে হবে। দরকার হলে হাতেপায়ে ধরে হলেও প্রতিবাদ করানোর জন্য রাজি করাতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে আমাদের উদ্দেশ্য অনেক মহৎ, সেজন্য নিজেকে একটু যদি নীচে নামাতে হয় তাও আমাদের সেটা মেনে নিতে হবে।
৭। এই কমিটিতে কার কি রাজনৈতিক বা ধর্মীয় দৃষ্টিভংগী এসব বিষয় যেন না আসে।
আবার কোন রাজনৈতিক দল যেন এই প্রতিবাদের ফায়দা তুলার চেষ্টা না করে। কমিটিকে কোন বিশেষ রাজনৈতিক বা ধর্মীয় চরিত্রের বলে প্রতীয়মান করতে পারলে আমাদের প্রতিবাদ ফলপ্রসু হবেনা। এজন্য অর্গানাইজেশান আর নেতৃত্বে যারা থাকবে তাদেরকে সামুর পরিচিত এবং অ-বিতর্কিত ব্লগারদের মধ্যে হওয়া উচিৎ।
৮। ব্লগার শামসীর খুবই সুন্দর প্রস্তাব দিয়েছেন।
যদি প্রতিবাদমূলক টি-শার্ট বানানো যায় আর দর্শকরা এরকম টি-শার্ট শার্ট বা অন্য টি-শার্টের ভিতরে পড়ে, তাহলে স্ট্যাডিয়ামে ঢুকে উপরের শার্ট/টি-শার্ট খুলে ভিতরের টি-শার্ট দেখানো যাবে। এটা খুবই হেলদী প্রতিবাদের মাধ্যম হবে মনে করি। তবে টি-শার্ট হয়ত প্ল্যাকার্ডের মত অত ভিজিবল না, তাই দুই প্রতিবাদের মাধ্যমই ব্যবহার করা যেতে পারে।
এতে কোন সন্দেহ নাই যে যদি আমরা সেদিন ভালমতে সংগঠিত উপায়ে প্রতিবাদ করি তাহলে ভারতীয় সরকারের উপর একটা ভাল চাপ আসবে। প্রতিবাদের ক্ষেত্রে কি কি বাঁধা আসতে পারে সেসব বিষয়ে ভাবতে হবে এবং সবকিছুর জন্য আগে থেকে প্রস্তুত থাকতে হবে, সবাইকে জানিয়ে দিতে হবে প্ল্যান-বি কি হবে।
আমার এ পয়েন্টগুলোই এখন মনে আসছে। পরে আরো কিছু মনে আসলে যোগ করে দিব। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক কাজ হচ্ছে একটা সক্রিয় কমিটি গঠন করা যারা পরামর্শের ভিত্তিতে পরবর্তী কর্মপন্থা গ্রহণ করবে। আপনাদের সাজেশান থাকলে কমেন্টে বললে এড করে দেওয়া হবে।
আমি মনে করি সামু'র পক্ষ থেকে এই ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া দরকার।
বিশেষ করে টি-শার্ট বিষয়ক প্রস্তাবনা নিয়ে আরো কথা বলা দরকার।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।