আমাদের ভার্সিটিতে অনেক ছেলে আছে যারা রাতে জেগে থাকে আর দিন এর বেলা ক্লাস টাইম এ ক্লাস এ বসে ঘুমায়। আমি তাদের থেকে ও খারাপ কারন আমি রাতে ও ঘুমাই আবার ক্লাস এ গিয়ে সবার আগে হাই তুলি। সারা দিন ঠিক কিন্ত ক্লাস এ গেলেই এই সমস্যা,পরে আমি অনেক চিন্তা করে বের করলাম স্যারদের লেকচার এর মাঝে কি এমন জিনিস আছে যা আমার এই হেন সমস্যার জন্য দায়ী। এক ক্লাস টেস্ট এর সময় আমার এক বন্ধুকে মাথা নিচু করে ঘুমাতে দেখে আমার মনের অজান্তে বলে ফেলি এত ঘুম ঘুমায় কিভাবে?এই ঘুম এর রহস্য খুজতে হলে আমাকে সেই আদি কাল এ যেতে হবে, যেদিন আমি হল এ উঠি নোটিশ বোর্ড এ তাকিয়া দেখিতে পাইলাম “... এই রুম এ চোথা পাওয়া যায় “ আমি ভাবলাম চোথা হয়ত কোন এক অশ্লীল শব্দের পরিমার্জিত রূপ,অনেক জ্ঞান খরচ করে যা জানিতে পারিলাম তাহা হইল এই খানে নাকি যাবতীয় ক্লাস নোট ই চোথা, অনেক ভাল একটা জিনিস শিখেছি তাই পুলুকিত হলাম, পরে এই চোথার মহিমা ও গুরুত্ব দেখে ভাবলাম এই খানে দেখি নিজের জীবন এর থেকেও এর দাম বেশী,যারা চোথা বানায় তারা মোটামুটি অন্য গ্রহের প্রাণী হিসাবে বিবেচিত হয়, আর যারা ওঁদের থেকে ওই গুলা ফটোকপি করে পরীক্ষার খাতায় উগলায় ওদের স্থান যে জাহান্নাম এর সর্ব নিম্ন স্তর এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমি ওই নিম্ন স্তর এর প্রাণী, সারা কুয়েট লাইফ এ এতো ফটোকপি করছি তা দিয়া যদি একটা ফটোকপি মেশিন কিনে নিজে দোকান দিতাম তাইলে এত দিনে আমার একটা কনসট্রাকশন ফার্ম থাকতো, যদিও ১ম বর্ষে বাবা কে বলছিলাম “ বাবা আমাকে ধর্ম সাগর পাড় একটা দোকান দিয়া দাও তবু আমি কুয়েট পড়মু না, পরে নিজে নিজে ই চিন্তা করিয়া দেখলাম দোকানদার হইলে বিয়া করিতে ব্যাপক সমস্যা , আমাদের গ্রাম এর এক দোকানদার এর বিয়া তো দুর ওরে গ্রাম থাইকা বের করে দিসে, বের করার আগে এমন মাইর দিসে তা দেখে আমার এই খায়েশ ছাই চাপা দিলাম, ওই দোকানদার এর কি এমন অপরাধ??? তার দোকানটা ছিল গাঁজার দোকান, এই কারনে মারবে? আমার মন তা মানতে পারে নি।
কি আর করা সারা দিন শুধু চোথা আর চোথা, ক্লাশ এ তো কোন কালে মনোযোগ দেই নি তাই কারো হাতে কোন কিছু দেখলে ই ভাবতাম ওরে শিওর ওর হাতের চোথা থেকে ই পরীক্ষায় সব কিছু কমন পরব, আর কই যাই, করাও ফটোকপি, এমন ও আছে এক ই জিনিস ৩ বার ও করছি,চোথা ফটোকপি করলে যদি cgpa বাড়ত তাইলে ফাইনাল পরীক্ষা দেয়ার আগে ই আমারে স্যার বানানোর জন্য মন্ত্রী পরিষদ আবেদন করত। এতো দিন এ আমি ক্লাস নিতাম আর পোলাপান রে কানে ধরাই দাড়া করিয়ে রাখতাম। অনেক এর মনে একটা ভুল ধারণা আছে যে শুধু মাত্র চোথা বানাতে ই যত কষ্ট, আমি তো মনে করি চোথা ফটোকপি করা তার থেকে বড় কষ্ট,কত্ত ঝামেলা, দোকানে যাওয়া, গেলেও দেখা যাবে কারেন্ট নাই। এতো দিন স্যাররা যে পরিমাণ assignment দিসে ওই গুলা যদি কপি না করতাম তাইলে রাস্তা ঘাটে, এমন কি টয়লেট এ ও লিখতে থাকতাম। আমি সকল প্রকার কপি ই অনেক মনোযোগ সহকারে করতাম , কপি করায় এতো ই মগ্ন থাকতাম যে অন্নের নাম রোল পর্যন্ত কপি করতাম।
স্যাররা ও কম যায় না কেও যাতে কপি না করতে পারে ওই কারনে সবার জন্য সব কিছুর মান আলাদা করে দিত, এতে আমার সাময়িক সমস্যা হলে ও আমি খুব তাড়াতাড়ি এই থেকে মুক্তি পাওয়ার পথ বের করলাম, সব মান আমার গুলা ই বসাতাম কিন্ত যখন calculation আসতো তখন ই অন্নের টা কপি স্টার্ট করতাম। আর যায় কই ? মান ঠিক তো সব ঠিক। কুয়েট এ আইসা আমার কিছু না বাড়লে ও আমার ইমাজিনেশন পাওয়ার এমন বাড়া বাড়ছে যে কোন প্রকার calculator ছাড়া লিখতে পারি। ৩য় বর্ষে rcc তে d এর মান বের করতে হলে সুপার কম্পিউটার হলে ভাল হয়, সেই calculation আমি অনুমান করে বাসাইছি। এই খানে পড়ার জন্য যে কষ্ট অরা লাগে এর থেকে ফাকি দেয়ার সিস্টেম বের করতে ই বেশী টাইম লাগে, কিছু দিন আগে নিজে ক্লাস নোট লিখছিলাম পড়তে গিয়ে দেখি মন ভরে না ,ফটোকপি ছাড়া আমি এখন কিছু পড়তে পারি না, তাই কি আর করা অন্নের ক্লাস নোট ফটোকপি করে এখন পড়তে বসব, ভাবসি কুয়েট থেকে বের হওয়ার পরে অতি দ্রুত ডাক্তার এর কাছে যাব,তখন হয়ত ডাক্তার এর কাছে গিয়ে বলব” আমি দিনে তো ঘুমাতে পারি ই না রাত এ ও আমার ঘুম হয় না “
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।