আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

অনুভূতিতে সহেলী’র -বুকের জমিনে ছোট পারিজাত এক

∞ দিনের শুরু রাতের শেষক্ষণে যাকে খুজে পাও আমি সেই সকাল ∞
“দীর্ঘ হতে দীর্ঘতর ক্ষন পার করে প্রসন্ন তুমি এসে দুয়ারে দাড়ালে মোহনবাঁশী হাতে সুরের মুর্ছনায় বাধঁবাঙ্গা জোয়ারে ভাসালে আমায়, কাঁদালে আমায় কোমল বানীতে; চোখের জলে আমার সুখের আশ্রয়, বহুদিন পরে আমি কাঁদলাম, তুমি কাঁদালে আমারে সুখের আদরে” ব্লগের প্রিয় মুখ সহেলী তার লেখা বাছাই করা কিছু কবিতা আর গল্প নিয়ে ব্লগার স্বপ্নজয় এর গ্রাফিক্স ডিজাইনে ও ব্লগার বাবুনি সুপ্তি সম্পাদনায় মে-২০১০ এ প্রকাশিত হয় বুকের জমিনে ছোট পারিজাত এক.........এর পি.ডি.এফ সংকলন। যার মাঝে ঠাই পেয়েছে ৪৫ টি কবিতা ও ৪টি গল্প। অত্যান্ত নান্দনিক ডিজাইন করা এই পি.ডি.এফ টি ৬৯ পৃষ্টায় সজ্জিত। যার প্রতিটি পৃষ্টায় ঠাই পেয়েছে সহেলীর লেখা অত্যান্ত সুন্দর আর মাধুর্যময় কিছু রচনা। আর এই সুন্দর লেখা গুলোকে পি.ডি.এফ আকারে রুপান্তরিত করতে উদ্যোক্তা ছিলেন ব্লগার অস্পরা ।

সংকলনে ব্যবহৃত ছবিগুলো নেয়া হয়েছে অন্তজাল থেকে। ঃ পি.ডি.এফ সংকলন ঃ বুকের জমিনে ছোট পারিজাত এক........... সহেলীর লেখা কবিতা গুলোর মধ্যে আমরা আলাদা কিছু পাই তার প্রত্যেকটি লেখায় কিছু নিজস্ব ধারা আছে। আর সেই ধারা যদি এমনিভাবেই টিকে থাকে তো আমরা আশা করতে পারি আরো সুন্দর সব রচনা একদিন ছাপার অক্ষরে বই আকারে শোভা পাবে আমাদের সংগ্রহের বইভান্ডারে। আমার দৃষ্টিতে পড়া তার বেশ কিছু কবিতার মিশ্র অনুভূতি ঃ “তুমি আমার নতুন দিন, দিনের শুরু ,ঘুম ভাঙ্গা ভোরে কাছে আসা স্বপনচোর;” (সহজ স্বীকারোক্তি) ভালোবাসার দেয়ালে ছড়িয়ে দেয়া অনুভূতি গুলো একটু একটু করে প্রকাশ পেয়েছে এই কবিতায়। না বলা কিছু কথা আর দুজনার কিছু স্মৃতিকে নিয়ে লেখা কবিতাটি।

আমাদের প্রতিদিনকার অভিনয় নিয়ে একটা কবিতাও রয়েছে সংকলনটিতে, কবিতাটির নাম- আর কত অভিনয়,তোমার আমার। যেখানে দুজনার একটি পথ ছিলো অজানা হাওয়ার তোড়ে, কি থেকে কি হয়ে গেলো। আমাদের অভিনয় চলে প্রতিদিন, যে যার চরিত্রে আমরা অভিনয় করে যাই। আমাদের লুকোচুরি চলে এভাবেই, সাথী থাকে রোদ-বৃষ্টির খেলা। নিজেকে আল্পনায় রাঙ্গিয়ে সহেলী লিখেছেন আরেকটি দ্যুতিময় কবিতা............. “ মনের উঠোনে একখন্ড জমিতে নিবিড় যতনে চাষ করেছো সাধারণ এই আমাকে, সার-জল,সাজ-সজ্জা সব তোমার নিজের মত করে,কম বেশী হয়ে গেলেও পরামর্শ নেয়ার মানুষ ছিলে না তুমি কোনকালে;” (শিস দেয় একই পাখী) কবি সুলতানা শিরিন সাজীকে উৎসর্গ করা একটা কবিতায় শব্দের আল্পনাগুলো অপেক্ষার প্রতীক হয়ে আছে।

নিজেকে চিনতে না পারার একটা আকুতি তাতে মেশানো। বন্ধুকে নিয়ে দারুন একটা কবিতা আছে এই পি.ডি.এফ টিতে। বন্ধুর দেয়া কষ্ট, বন্ধুর দেয়া আঘাত; কি, নেই ছোট্ট এই কবিতায়। আমি কবিতার চরনদ্বয় পড়ে আবেগে আপ্লুত হয়েছি বহুবার। আমি বহুবার ভেসেছি কবিতার স্রোতে।

“এখনো বর্ষা নামে” বৃষ্টির স্মৃতিকে ঘিরে কবি এ,কবিতায় লিখেছেন বৃষ্টি বন্ধনার কথা। তিনি আপন হাতে তুলে এনেছেন সেজুতিকে............ আবারও একটা অপেক্ষার দেখা পাই কবিতার শেষান্তে। হয়তো কবি সেই বৃষ্টিতে একদিন মনের রাস্তায় হেঁটে ছিলেন। আমাদের মনে পড়ে কিংবা মনে থাকে এমন কিছু কথা আর এমন কিছু স্মৃতি যা ভুলতে গিয়ে মনে পড়ে আরো \ আর তাই সেই মনে রাখাকে নিয়ে লেখা.... “একদিন একই ঠিকানা ছিল তোমার আমার আমাদের, সবুজ চত্বর ছিল, ছিল নীল আকাশ ঠিকানা ভুল করি আজ বারো মাস ” “মনে পড়ে” মন যখন পালিয়ে বেড়াতে চায়; কোথায় যাবে এই মন পায়না খুজে কোন গন্তব্য; ঠিক সেই সময় কবিতার চরণ’রা সঙ্গি হতে কাছে ডাকে। মনের ঘরে কে,যে কখন দিয়েছে তালা সেটার উত্তর খুজতে গিয়েই হয়তো এই কবিতার আয়োজনটা হয়েছিল ঠিক নিচের লাইনগুলোর মতো করে........... পালিয়ে তুমি চাইছো যেতে নিজেরই কাছ থেকে,দুরহ অতি- কতটা যাবে,কতটা পথ বাকী? নিজের চোখের আড়াল হতে পর্দা কোথায় পাবে, তার চে’ভাল চোখ দুটোকে পাঠাও তেপান্তরে।

মনের ঘরে তালা দিয়ে চাবি রাখ বুকে,লাভ কিবল আগেই যখন ঢুকেছো সে সিন্দুক। “কি লাভ বল” পি.ডি.এফ সংকলনটির ১৩ তম পাতায় লেখা “প্রিয় সাদা ঘোড়া” নামের কবিতাটি একটা সুন্দর স্মৃতিকে নিয়ে লেখা কবিতার লাইনগুলো চলেছে শৈশবের কল্পনায়, খুজে পাই প্রানের প্রিয় সখাকে তুলে দেওয়া নিজের সবচেয়ে প্রিয় জিনিসটি। দুই পি.ডি.এফটা পড়তে পড়তে একটু আনমনে হয়ে গিয়েছিলাম,বাইরে তখন প্রচন্ড কুয়াশা পড়ছে,দরজায় চোখ রেখে কি,যে খুজছিলাম তা,নিজেই জানিনা; আবার যখন চোখ রাখতে যাবো ঠিক তখনি মনে হলো একটু চা কিংবা কফি হলে এই সময়টাতে মন্দ হতোনা; সেই মুহুর্তে সেটা পাবার কোন সম্ভবনা নেই তাই আবারো পি.ডি.এফ-এর পাতায় চোখ রাখলাম...... “হ্যালো,ফোন ধরেছিলে না কেন? কি উত্তর দেব,সব প্রশ্নের উত্তর হয়? তাই নিরুত্তর” কবিতাটার শুরু এভাবেই তাই আর থামতে পারলাম না আমি মন্ত্রমুগ্ধ’র মতো পড়তে লেগে গেলাম। একটা ভালোবাসা আর একটা আকুতি, একটা আদেশ আর একটা সহানুভূতির নিপুন ছোয়া পুরো কবিতাময়। আমি বসে গেলাম নিজের জীবনের সাথে মিলিয়ে নিতে; কোন এক কালে আমাকেও কেউ করতো এমন সব অনুরোধ, আমি ভীষণ রকমের অবাধ্য ছিলাম সেই সকল দিনগুলোতে।

আজ এই রাতে কবিতার আয়োজনে আমি হারাতে পারি সমস্ত ব্যাথাদের। ভালোবাসি রবীন্দ্র,ভালোবাসি কবিতা,ভালোবাসি তোমার কিংবা তোমাদের ভালোলাগা কিংবা খারাপ লাগার অনুভূতির ভাগ নিতে আর ভালোবাসি অকারণে জমে থাকা কথার ঝুপরিতে একটু স্বস্তির আমেজ ফোঁটাতে। ১৯ তম পাতায় লেখা সুন্দর একটা শব্দের তরঙ্গমালা অন্তর্হিতা; এই কবিতাটি ভাষার অরণ্যে ভেসে চলা প্রতিষ্ঠিত কবির গদ্যের মতো যাতে ভাষার আর আবেগের সমন্বয় রয়েছে। ঠিক শব্দের আলো-খেলায় পরিপূর্ন “এক একদিন হারিয়ে যাই ও তুমি ভাল বলে ক্লান্তহীন অপার আনন্দে পথচলা আমার ” নামক কবিতাদ্বয়। “ নিজেকে আজকাল দুর্বোধ্য মনে হয় কবিতাটি জীবনের হিসাব না মেলা আর অপরাগতার কবিতা”।

আরেকটি শব্দ ছন্দময় কবিতা হলো “কাছে না থেকেও বড় বেশী তুমিময় হয়ে আছি” কবিতাটি। কবি’র একটা কবিতায় খুজে পেলাম অন্যরকম কিছু “আমি নারী কীর্তিমতী, সর্বগুনে গুনান্বিতা, জলে-ডাঙ্গায় সন্তরনে পারদর্শী সমান ব্যাকরণে পন্ডিত,শুদ্ধ ভাষাবিদ, রন্ধনে কুশলী,বুননে নিপুন, অতিথিপরায়ন” “করতলে বিষের অপেক্ষায়” “এই তো সেদিন এক জনে দুই হলে দুইয়ে হলে এক; এমনই একটা কবিতা আলোড়ন করেছে আমাকে। আমি কবিতায় পেয়েছি ভালোবেসে কাউকে দেয়া কিছু উপকরণ। “মেঘ হয়ে যাও তুমি,মেঘ হলে তোমাকে মানায়” শিরোনামের কবিতা খানি কবি মেঘের বন্ধনা করেছে মানস চক্ষ্যের অনুভূতিতে। ফুলের নাম ব্লিডিং হার্ট কিংবা নিয়ম অনিয়মের সংঘাত শিরেনামের কবিতাগুলো অন্যরকম লেগেছে।

পি.ডি.এফের ৪০তম পাতায় একটি সংলাপ কবিতা আছে। যেটা আবৃত্তি করতে ভালো লেগেছে; আমার মনে হয়েছে এটা প্রতিষ্ঠিত কোন কবির কবিতা। “ঝিনুকেরও কান্না থাকে ও কখনো কখনো ভুল ও ফুল হয়ে ফোটে নামের কবিতায় আমি কিছু নতুনত্ব খুজে পেয়েছি। “তুমি হও সেই তুমি” শিরোনামের ছোট্ট কবিতাটা কিন্তুও কম আলোড়ন তুলেনি কাব্যময়তায়। “ থাক না তোলা বন্ধ মনের অন্ধকারে” আর “ছবি ছিলো মনে, গভীর গোপনে” কবিতা দুটি আমি বারবার পড়েছি কেননা ফেলে আসা দিনের ঘরে টোকা মারতে কবি নিপুন হাতে দক্ষতা দেখিয়েছে।

দেখা হলে কি হয়; দেখা হলে কি ফিরে পাওয়া যায় শিরোনামের অনবদ্য কবিতাটিই এই সংকলনের শেষ কবিতা বলা যায় সহেলীর লেখা এই কবিতাটা অন্যরকম একটা কবিতা পরিচিত আক্ষেপের দ্বারে ঘুরে বেড়ানো। সংকলনে পড়া গল্পগুলিতে আমার অনুভূতিঃ না বলা ভালোবাসা মনের কাছে হেরে যাওয়া আবার না পাওয়ার ইচ্ছের কাছে হেরে যাওয়া এই নিয়েই সহেলীর লেখা অনবদ্য গল্পঃ শুভলগ্ন,অপেক্ষার আর্তি। আবীর আর লাবনীর বন্ধুত্ব আর তাদের না বলা প্রানের একটা টান; লাবনীর আকুতি আর কপট রাগে মেশানো গল্পটাতে আমি খুজে পাই ভালোবাসার একটা আহবান; আবীরকে কাছে ডাকতে চেয়েও লাবনী থমকে গেছে কেননা তার সহপাঠী কেউ একজন তারই জীবনের সঙ্গিনী। ওদের দু’জনার মনের প্রান্তরে জেগে থাকা অনুভূতি গুলো নির্মল ভাবেই টিকে থাকুক অনন্তকাল এই গল্পের মতো। পি.ডি.এফ’টির ৫৭ তম পাতায় একটি নাকফুল এবং তিনদিন তিনরাত্রীর গল্প নামক লেখাটা।

এই গল্পটার শেষ আর দশটা সাধারণ গল্পের মতো কিন্তু শুরুটা একটু ভিন্ন। প্রথমেই দেখতে পাই হীরা গল্পের একমাত্র নারী চরিত্র আর গল্পের নায়িকা। কমনওয়লথভুক্ত দেশ গুলোর একটা সম্মেলনে যোগ দিতে দিল্লীতে হীরার আগমন ঘটে; একসময়ের ভালো বন্ধুত্ব দিয়েই ওদের সম্পর্কের শুরু তারপর দুজনার ভালো লাগা, আর শিহরনে মাতানো দিনগুলো যেখান বাসা বাঁধে কিছু আকুতি কিছু ভালোবাসা। দাম্পত্য জীবনের নাগরিক বাদল হয়তো এভাবেই কি›তু নিজের বউ শিউলির সন্দেহের কাছে থমকে যায়। অনেক দিন বাদে দেখা আর জমে থাকা একটা ভয় কাজ করে হীরার মনে তারপর ঘটে যেতে থাকে ঘটনাগুলো তিনরাত্রীর কহানে মুখরিত হয দু’জনে।

গল্পের পটভূমি যথেষ্ট সুন্দর আর কবির হাতে ফুটে উঠেছে সাবলীল উপস্থাপনা। শিহরন আর আন্তরিকতার স্পর্শ গল্পটাকে সুন্দর করে তুলেছে। শুধু মাত্র পাঠ করলেই গল্পের সত্যিকারের স্বাদ পাওয়া যাবে আমি লিখে বোঝাতে পারবোনা। আনন্দ বেদনার কাব্য নামক গল্পটা ছোট একটা গল্প। দাম্পত্য জীবনের প্রেমের গল্প।

মনে পড়ে যাওয়া হারানো দিনের গল্প। সর্বশেষ গল্পটা সোনার কাঠি; রূপোর কাঠি.............................................................................. গদ্য টাইপের লেখায় রয়েছে মেঘ আর বালিকার কথা। গল্পের আকর্ষনীয় দিক হলো যেটা; গল্পের ভাষা গল্পের অলংকরণ; ভাষা আর শব্দের দারুন সমন্বয় এই লেখাটায়। সহেলী কে নতুন করে আর কি বলবো তার লেখারা দীর্ঘায়ু লাভ করুক আর আমাদের ভালোলাগারা তাকে অনুপ্রানিত করুক এই কামনা করি। একটি স্বপ্নজয় পরিবেশনায় নির্মিত সংকলনটিতে বিষেশ ধন্যবাদ ও আন্তরিক অভিনন্দন দিতে হয় পি.ডি.এফ ক্রিয়েটার স্বপ্নজয়কে।

পি.ডি.এফ সংকলনটি ডাউনলোড করার লিংক
 

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।