আমি চাই শক্তিশালী স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ
মহাজোট সরকারের দুই বছর পূরণ হল। এই সরকারের সবচেয়ে প্রথম উল্লেখ করার মত ঘটনা হল বিডিআর বিদ্রোহ ২০০৯। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে এত করুণ, নৃশংস হত্যাকান্ড ঘটেনি। ৭০ জন দেশের চৌকস সেনার নিহত হওয়া দেশের জন্য বিশাল ক্ষতি। তাদের দোষ থাকতে পারে তাই বলে নির্বিচারে হত্যাকান্ড এটা কোনদিনও মেনে নেওয়া যায় না।
কিন্তু র্দূভাগ্যের বিষয় হল এখানে বিএনপি-জামাত, জঙ্গী, যুদ্ধাপরাধের বিচার বাধাগ্রস্থ করার ষড়যন্ত্র খোজা হল। তারপর এই ঘটনার জের ধরে সেনাকুঞ্জে অনুষ্ঠিত হাসিনা ও সেনাসদস্যদের বদানুবাদ রেকর্ড ই্উটিউবে আপলোড করা হলে সরকার ভয়ে ইউটিউব সারা বাংলাদেশে কয়েকদিন ব্লক করে রাখে। সেনাকুঞ্জের ঘটনা এবং আলীগ নেতা তোরাব আলী ও তার সুপুত্র লেদার লিটন বিদ্রোহের আগে কিভাবে লিফলেট প্রচার সহ জাওয়ানদের লেলিয়ে দিয়েছিল তা জানা গেছে। আর লেদার লিটন যে কিলার গ্রুপদের পালিয়ে যেতে সহায়তা করা সহ অস্ত্র লুটেছিল তাকে চট্টগ্রাম হতে RAB গ্রেফতার করেও ফজলে নূর তাপস এবং শেখ সেলিমের প্রভাবে ছেড়ে দেয়। বর্তমানে সে বিদেশে আছে।
তথা বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গেছে। অথচ এর জন্য ফাসল কে, বিএনপির নাসির উদ্দিন পিন্টু।
বিগত জোট সরকারের আমলে সবচেয়ে বড় অপবাদটি দিয়ে গেছেন সাবেক সেনা প্রধান মঈন ইউ আহমেদ। তার লেখা বইতে উল্লেখ আছে ২০০১-০৬ সালে নাকি বিদ্যুত খাতে ২০ হাজার কোটি টাকার র্দূনীতি হয়েছিল। অথচ পরে খোদ মহাজোট সরকারই হিসেব করে দেখে ঐ সময়ে বাজেটই ছিল ১৩ হাজার কোটি টাকা।
যার ৯ হাজার ব্যায় হয়েছিল বিদ্যুত বিভাগের কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ। এই যখন বিদ্যুতের খারাপ অবস্থা সবাই আশা করেছিল যে মহাজোট আর যাই হৌক বিদ্যুতের লোডশেডিং অনেকটাই সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসবে। কিন্তু বিধি বাম। ফুলবাড়ী কয়লা খনির চুক্তির মূল পরামর্শ দাতা হার বজ্জাত তৌফিক এলাহীকেই এই সরকার জ্বালানি উপদেষ্টা করেছে। বিদ্যুতের জন্য প্রয়োজন গ্যাস ও কয়লা।
সরকারের ক্ষমতায় আসার ৩-৬ মাসের মধ্যেই গ্যাস ও কয়লা উত্তোলনের জন্য দেশের স্বার্থের পক্ষে শর্ত দিয়েই টেন্ডার ডাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল ইদুর-বিড়াল খেলা। এই খেলা করতে করতে ৭-৮ মাস পর তাল্লো সহ কয়েকটি কোম্পানীকে সিংহভাগ মালিকানা(গ্যাসের দাম নির্ধারণ) দিয়ে টেন্ডার কল করলে তেল-গ্যাস-বন্দর রক্ষা কমিটি প্রথম হরতাল ডাকে। মানুষ অনেকটা ক্ষুদ্ধ হয় সরকারের এ ধরণের আত্নঘাতী পদক্ষেপে। পরে এখন পর্যন্ত সরকার এ বিষয়ে অগ্রগতি অর্জন করতে পারে নি।
ইতিমধ্যে ওযেবসাইটে কয়লা নীতির জন্য মতামত চাওয়া হয়েছে। ভাবখানা এমন যে বাংলাদেশের সবাই ইন্টারনেট ব্যাবহার করে। এটা উচিত ছিল সব সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে যার যার এলাকার মানুষ হতে মতামত নেওয়া। ফলে এই সরকারের আমলেতো দূর পরবর্তী সরকারের আমলেও বিদ্যুতের লোডশেডিং কমবে না।
এরপর হল সরকারের ভারতের সাতে সম্পাদিত ট্রানজিট চুক্তি।
যা দেশবাসীকে জানানো তো হয়ই নি এমনকি সংসদেও আলোচোনা হয় নি। এই বছর ২০১০ এর জানুয়ারীতে বলা হয়েছিল তিস্তার সুষ্ঠ পানি বন্টন চুক্তি সহ নেপাল-ভুটানকেও যেন ট্রানজিট দেওয়া হয় তার ব্যাবস্থা করা হবে। তিস্তার পানি চুক্তি দূর, নেপাল-ভুটানকে ভারত ট্রানজিট দিবে তার কোন লিখিত চুক্তি হয় নি। তারপর সড়ক করিডোরের জন্য ভারত ঋণ দিবে তাও সেদেশের বেসরকারী ব্যাংকের মাধ্যমে সুদে। সেটাও ব্যাপার না কিন্তু ৮৫% হতে হবে ভারতীয় ঠিকাদার, নির্মাণ সামগ্রী এবং বাকী ১৫% ভারতীয়দের পরামর্শে।
এ কেমন অদ্ভুত কান্ড? ভারত যদি বিনা সুদে ঋণ দিত তাহলেও কথা ছিল যে ভারতীয় অর্থের টাকা ভারতীয় কোম্পানীই পাবে। সুদাসল সহ সব লাভই ভারত নেবে, তো বাংলাদেশের লাভ কি? আরো জানা যায় ভারত কি হারে বাংলাদেশকে করিডোর ফি দিবে তাও অনিশ্চিত। ইতিমধ্যে দিপু মণি অনেক বাহাদুরি করেও মুজিব-ইন্দিরার ৭২ চুক্তির আওতায় নৌ ট্রানজিট হতে বাংলাদেশের জন্য লেভী আদায়ে ব্যার্থ হয়েছেন। পরে বলেছেন কো-অপারেশন করে বিনিময়ে কিছু চাইতে নেই। ভাবখানা এমন যে বাংলাদেশ ও এর জনগণ তার পৈতৃক সম্পত্তি।
সর্বশেষ বিষয় হল বিচার বিভাগের র্দূনীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা। টিআইবির রিপোর্টে বলা হয়েছে এই সরকারের সময় বিচার বিভাগে র্দূনীতিতে ছেয়ে গেছে। অর্থ ছাড়া সাধারণ মানুষের কোন গতি নাই। কিন্তু ঘুষখোর আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল এটাকে যুদ্ধাপরাধ বানচালের ষড়যন্ত্রের গন্ধ পেয়েছেন। আর আইন মন্ত্রীও এটাকে নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করেছেন।
জুডিশিয়ারী সার্ভিসও এটাকে ষড়যন্ত্র বলছে। কিন্তু আওয়ামী ঘরাণার বুদ্ধিজীবি সাবেক প্রধান উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান, আলী আকবর, বিচারপতি রাব্বানী উনারাও বলেছেন বিচার বিভাগ র্দূনীতিগ্রস্থ। এই হাবিবুর রহমান হাসিনার কুইক রেন্টাল বিদ্যুত বিনা টেন্ডারে দেওয়ার সমালোচনা করলে বাকশালীরা তার বিরুদ্ধে এক হাত নেন। অবস্থা কতটা খারাপ হলে হাবিবুর রহমানের মত ব্যাক্তি আলীগ সরকারের সমালোচনা করেন। এদিকে ছাত্রলীগ, যুবলীগ সহ মূল আলীগের নেতা-কর্মীদের চাদাবাজি, টেন্ডারবাজী, জমি দখল সহ নিজেদের উপদলীয় কোন্দলে দেশের মানুষ আতংকে।
তাদের বিরুদ্ধে যেতে হলে আইন-আদালত ছাড়া গতি নেই। পুলিশের কথা নাই বা বললাম। কিন্তু মানুষের একটি নির্ভরযোগ্য জায়গা হল বিচার বিভাগ সেখানে যদি ন্যায় বিচার না পায় তো মানুষ যাবে কোথায়? ইতিমধ্যে নাটোর, ঢাকার মিরপুর, দক্ষিণ খান সহ বহু খুন, চাদাবাজি, জবর দখল মামলা হতে ঢালাও ভাবে আলীগ নেতা-কর্মী সহ সমর্থকদের যে ভাবে ছাড় দেওয়া হচ্ছে তাতে দেখা যায় ছাড়া পেয়েই তারা আবার ভূক্তভোগী সহ নতুন মানুষকে তাদের অপরাধের শিকার করছে। ২/১ দিন আগে থানায় জিডি করে ফেরার আগেই দোকান মালিকের কর্মচারীকে খুন করেছে চাদাবাজরা। স্পষ্টতই থানা পুলিশের কেউ চাদাবাজদের জানিয়ে দিয়েছে জিডির ব্যাপারে।
এমনকি RABকে বললেও আলীগ করার কারণে RABও কিছু করতে পারে না। হাওয়া ভবনকে গালাগালি করে এখন দেখা যায় ১৮ টাকা/কেজি মোটা চাল ৩৮ টাকা। আর ৪০ টাকার নীচে কোন ভাল চাল নেই। প্রায় সব দ্রব্যর দাম জোট সরকারের চেয়ে দ্বিগুণ। কথায় বলে উপরে ফিটফাট ভেতরে সদর ঘাট।
আলীগ ও হাসিনার জীবন ভর গলা ভরা মিথ্যা বুলি আউড়িয়ে স্বপ্নের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কথা বলে জনগণকে জুলুমের যাতাকলে পিষ্ট করাই তাদের আসল খাসলত। এই সরকার কোন আন্দোলন করতে গেলে পুলিশ, RAB এর পাশাপাশি সরকার দলীয় ও ভাড়া করা গুন্ডা লেলিয়ে দেয়। মোদ্যকথা জনগণকে দেশের আভ্যন্তরীন ও পররাষ্ট্র নীতিতে ভালোর জন্য দাবী দাওয়া আদায়ে সংগঠিত হতে দিবে না। যে দেশে ন্যায় বিচার নেই সেই দেশের মানুষ স্বাধীনও নয়। দেশ এখন ১৯৭২-৭৫ এর চেয়েও ভয়াবহ দিকে এগিয়ে চলেছে।
এটা স্পষ্টতই ফ্যাসিজম ছাড়া আর কিছু নয়।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।