বাংলা সাহিত্যাঙ্গণে যাঁরা বিচরণ করেন বা বাংলা সাহিত্য, গল্প নিয়ে যাঁরা ঘাঁটা-ঘাঁটি করেন তাঁদের কাছে শো'-দুশো' বছর আগের বাংলা কবি, লেখক, সাহিত্যিক'দের নাম, পরিচিতি বা অন্যান্য বিষয়াদি অজানা নয়।
তারপর'ও এমন কিছু লেখক / কবি আছেন যাঁদের নাম, পরিচিতি হয়তো অনেকের'ই জানা নাই।
আমার প্রয়াস: এ'টাই যে, কিছু কবি, সাহিত্যিক, লেখকের সংক্ষিপ্ত বিবরণ সবার সামনে তুলে ধরা। যেনো আমরা'ও তাঁদের নিয়ে গর্ব-বোধ করতে পারি, যাঁরা বাংলা ভাষা'কে সমৃদ্ধ করেছেন। সব লেখকের বিবরণ দেয়া একই সময় সম্ভব নয়, তাই... সময়ানুযায়ী ধারা-বাহিক ভাবে, জন্ম তারিখ অনুযায়ী বিবরণ প্রকাশে সচেষ্ট হ'ব।
তা হ'লে ১ম শুরু করা যায়......
প্রকৃত পক্ষে যিঁনি বাংলা ভাষার ১ম সামাজিক ঔপন্যাসিক।
সাহিত্য জগতে যিঁনি 'টেকচাঁদ ঠাকুর' নামে খ্যাত। যাঁর বিখ্যাত রচনা'র নাম: "আলালের ঘরের দুলাল"। । হ্যাঁ....তিনি'ই... সেই প্যারিচাঁদ মিত্র।
যাঁর জন্ম, ২২'শ জুলাই ১৮১৪।
১৮৫৫ সালে বন্ধু রাধানাথ শিকদারের সহযোগী হিসাবে তিনি "মাসিক-পত্রিকা" নামে স্ত্রী-লোক'দিগের নিমিত্তে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন। এই পত্রিকার ১ম বর্ষের, ৭ম সংখ্যা থেকে তাঁর বহু খ্যাত "আলালের ঘরের দুলাল" প্রকাশিত হ'তে থাকে। ১৮৫৮ সালে এই গ্রন্থটি পূর্ণাঙ্গ রুপ পায়। তাঁর লিখা বই গুলি হ'ল: রামা-রঞ্জিকা, মদ খাওয়া বড় দায়,জাত থাকার কি উপায়, ডেভিড হেয়ারের জীবন-চরিত্র প্রভৃতি।
তাঁর মৃত্যু: ২৩'শে নভেম্বর ১৮৮৩।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর: বাঙালী' এ নাম শোনেনি এমনতো হতেই পারে না। তাই বেশী বলার প্রয়োজন বোধ করি না। ১৮২০ সালে, পশ্চিমবাংলা'র মেদিনীপুর জেলার বীর সিংহ গ্রামে তাঁর জন্ম।
১৮৪৫ সালে, তিনি কলকাতা 'সংস্কৃত' কলেজে উন্নত ধরণের শিক্ষা ব্যাবস্হা চালু করেন এবং একই কলেজের অধ্যক্ষ' হিসাবে মনোনীত হন।
"সোম-প্রকাশ" পত্রিকা চালনা এবং মানবতা'বাদই তাঁর অন্যতম কীর্তি। ২৯'শে জুলাই ১৮৯১ সালে কলকাতার বাদুর বাগানে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর লেখা গ্রন্হের নাম: আ্যখান-মঞ্জুরী, কথা মালার গল্প, ভ্রান্তি বিলাশ ইত্যাদি। বিদ্যাসাগর বাঙালী নারীর প্রতি পুরুষতাণ্ত্রিকতার দীর্ঘদিনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম উচ্চকিত হন। মূলত, তাঁর জন্যই বাঙালী নারীরা এখন মানুষ হিসেবে অধিকার অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি সর্বপ্রথম বাংলা ব্যাকরণ'কে সহজবোধ্য করে সর্বসাধারনের পাঠ যোগ্য করে তোলেন।
দীনবন্ধু মিত্র: ১৮৩০ সালে তাঁর জন্ম। স্বল্পায়ু জীবনে যে অসাধারণ নাটক লিখেছেন তা বাংলা সাহিত্যে দূর্লভ। কলেজ জীবন থেকেই "সংবাদ-প্রভাকর" ও "মধু রঞ্জন" পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন। তিনি ডাক-বিভাগের উচ্চ পদে থেকে'ও পূর্ব ভারত তথা বাংলায়' বহু জেলায় ঘুরেছেন।
অসাধারণ ক্ষমতা যুক্ত সমাজ সচেতন এক নাট্যকার ছিলেন দীনবন্ধু মিত্র। ১৮৭৩ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। নীল দর্পণ, পোড়া মহেশ্বর প্রভৃতি তাঁর লিখা বই।
ক্রমশ:.......
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।