স্বাধীন দেশে স্বাধীন ভাবে চলতে চাই.......
১০ দিনের জন্য অন্ধকারে থাকতে হবে বাংলাদেশকে। কথাটি শূনতেই খুব খারাপ লাগে।
ভয়াবহ এই লেখাটি বিস্তারিত পড়ুন:
অক্টোবর মাসে অন্তত ১০ দিন বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কারণ, আগামী ২ থেকে ১১ অক্টোবর থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার কাছে গভীর সমুদ্রে সাবমেরিন কেবল মেরামতকাজ চলবে। বিকল্প সংযোগ না থাকায় এ সময় বিশ্বের সঙ্গে সব ধরনের টেলিযোগাযোগ থেকে একরকম বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে বাংলাদেশ।
এই মেরামতের সময় পূর্ব দিকের দেশ থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের ইন্টারনেট যোগাযোগব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হবে। বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর সার্কিটের মাধ্যমে বহির্বিশ্বের সঙ্গে সংযুক্ত। ফলে বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগও বাধাগ্রস্ত হবে। জানা গেছে, এই পরিস্থিতিতে কয়েক দিন আগে সাবমেরিন কেবল কোম্পানি সি-মি-উই-৪ বাংলাদেশকে বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা তৈরি করে নিতে অনুরোধ করেছে। কয়েক দিন আগে সি-মি-উই-৪-এর থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া শাখায় দুটি রিপিটার/অ্যামপ্লিফায়ার নষ্ট হয়ে যায়।
সেটি মেরামত করতে গেলে পুরো নেটওয়ার্ক বন্ধ রাখতে হবে।
বাংলাদেশের অধিকাংশ ভি-স্যাট (ভেরি স্মল অ্যাপারচার টার্মিনাল) বন্ধ আছে। গত ১৯ মে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) নির্দেশে প্রায় সব কটি ভি-স্যাট বন্ধ করে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। পরবর্তীকালে ভি-স্যাট বন্ধের নির্দেশ কার্যকরের সময় আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়। কিন্তু বন্ধ ভি-স্যাটগুলো আর চালু করেননি তাঁরা।
ফলে বিকল্প উপায়ে টেলিযোগাযোগ কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার ভরসাও আর এ মুহূর্তে নেই।
টেলিযোগাযোগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অধিকাংশ ভি-স্যাট বন্ধ এবং বাংলাদেশের একমাত্র সাবমেরিন কেবেলর সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে দেশের ইন্টারনেট থেকে শুরু করে সব ধরনের টেলিযোগাযোগনির্ভর ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বর্তমানে বিদেশ থেকে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে চার কোটি থেকে পাঁচ কোটি মিনিটের আন্তর্জাতিক টেলিফোন কল আসে। আরও কয়েক কোটি মিনিটের কল বিদেশে যায়। এই আদান-প্রদানের মাধ্যমও এখন সাবমেরিন কেবল।
আর এই ১০ দিনে সদ্য চালু হওয়া কল সেন্টারগুলোর অবস্থা কী হবে, তা নিয়ে চিন্তিত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আখতারুজ্জামান বলেন, গত মে মাসেও একই ঘটনা ঘটেছিল, তবু সরকার সতর্ক হয় না। স্থায়ীভাবে দ্বিতীয় বিকল্প সাবমেরিন কেবলের ব্যবস্থা না করলে দেশের অনলাইন ব্যবসা একেবারেই বসে যাবে। আর সরকারের স্বপ্ন ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ স্বপ্নই রয়ে যাবে।
বিকল্প উপায়েও বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় ব্যান্ডউইড্থ সরবরাহ চালু রাখতে সমস্যা হবে মনে করছে খোদ বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ভারতের কোনো কোম্পানির কাছ থেকে আপৎকালে ব্যান্ডউইড্থ নিতে গেলে অনেক বেশি দাম দিতে হবে। আর সরকারের ক্রয়নীতির কারণে চাইলেই যখন-তখন কোনো কিছু কেনা যায় না। তার পরও বিকল্প রাস্তা খুঁজছে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগের প্রয়োজনীয় ব্যান্ডউইডেথর জোগান দেওয়া সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্ল কোম্পানি (বিএসসিএল)। তারা বিকল্প ব্যবস্থায় ভারত ও ইতালি থেকে আই-টু-আই কেবেলর মাধ্যমে দেশে ব্যান্ডউইড্থ সরবরাহের চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু এ বিকল্প ব্যবস্থায় কতটুক সফল হওয়া যাবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত নয় কর্তৃপক্ষ।
বিএসসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা চালু করতে। চেন্নাই ও ইতালি থেকে অন্য পথে ব্যান্ডউইড্থ আনতে পারলে আন্তর্জাতিক সংযোগ বিঘ্নিত হওয়ার কোনো আশঙ্কা থাকবে না। ইতিমধ্যে সব আন্তর্জাতিক গেটওয়ে, ইন্টারনেট গেটওয়ে বা অন্যান্য টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানকে আমরা বিকল্প আয়োজনের কথা ই-মেইলের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছি। ’
আমাদের সরকার কি এসব শুনেও নাকে তেল দিয়া ঘুমিয়ে আছেন তাই এখন দেখার বিষয়।
সবাইকে ধন্যবাদ।
সূত্র : প্রথম আলো
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।