( এক )
আঙিনা শব্দটা এখন আর করুর মুখে তেমন শোনা যায় না। কি করে শোনা যাবে? চারপাশে যে হারে সব মাল্টিস্টোরেজ বিল্ডিং এর রমরমা, সেখানে তুমি আঙিনা পাবে কোথায়?---------আমরা ভাগ্যবান যে আমাদের ছোটবেলাটা এরকম একটা আঙিনাকে কেন্দ্র করে আমরা বেড়ে উঠেছিলাম।
সে এক বিশাল নিকোন আঙিনাকে ঘিরে ছিল আমাদের বাসস্থান। যার দুই প্রান্তে বাস করত দুটি সুখী পরিবার। দীর্ঘ-দিনের ঘনিষ্ঠতায়, নিজেদের মধ্যে এক পরম আত্মীয়তা গড়ে ওঠে।
বাইরে থেকে দেখে কারুর বোঝার উপায় ছিল না, দুটি আলাদা পরিবার বলে। দুই পরিবারের ভাই-বোন মিলিয়ে আমরা ছিলাম মোট এগার জন। মানে নিখুঁত একটা ফুটবল টিম বাড়িতেই তৈরী ছিল।
আঙিনার চারপাশ ঘিরে বেশ কায়দা করে ইঁট দিয়ে সরু মতো ফুলের চারা লাগাবার ব্যবস্থা। যে যেখান থেকে পেত তার পছন্দমত ফুলের চারা এনে বসিয়ে দিত।
এ ব্যপারে সবার পূর্ণ স্বাধীনতা ছিল। আমাদের মত এই খুদে খুদে মালিদের পরিচর্যাতেই হোক কিংবা ওই কচি-কাচা মুখগুলোতে হাসি ফোটাবার জন্যই হোক, ফুল-গাছগুলো কিন্তু কখনও ফুল ফোটাতে কার্পণ্য করেনি। কতো না রঙের অজস্র বাহারি ফুল যে ওইটুকু জাটগাতে ফুটত, সে এক অপূর্ব দৃশ্য! পথ চলতে চলতে সবাই একবার তাকিয়ে দেখত। এটা আমাদের একটা বড় গৌরবের ব্যপার ছিল। শুধু মা,জেঠি, এই ফুল-গাছে হাত দিলেই লেগে যেত খন্ডযুদ্ধ।
তাদের কাজ শধু আমাদের খেলার জায়গাটুকু নিকিয়ে ঝকঝকে রাখা।
বাড়ীর ভেতরেই এতবড় খেলার জায়গা ছিল যে, খেলার জন্য আমাদের কখনও বাইরেই যেতে হয়নি। বাড়ীর ভেতরেই খেলার মাঠ, বাড়ীর ভেতরেই প্লেয়ার, আর কি চাই? ----ঋতু অনুযায়ী নিজেদের ইচ্ছেমত কখনও ফুটবল, কখনও ক্রিকেট, কখনও কাবাডি আবার চোর-চোর, এক্কা-দোক্কাও খেলতাম। খেলার জন্য ছেলে-মেয়ে কোন ভেদাভেদ ছিল না। সকাল থেকে রাত্রি যে কি আনন্দে আমাদের দিন কেটেছে সে বলে বোঝান যায় না।
মা, বাবা, জেঠা জেঠি সবার চোখের সামনে দিন-রাত হুটো-পুটি করে আমরা কেমন বড় হয়ে গেছি। যদিও সকলের মতে আমি নাকি একদম খেলতে পারি না। যে কোন ছুতো-নাতায় আমাকে বাদ দেওয়াই ছিল তাদের প্রধান উদ্দেশ্য। মাঝে মাঝে আমার ওপর এ ব্যপারটা এত কঠোর হয়ে যেত যে, বাবা, জেঠাকেও বসে ফয়সালা করতে হত। তবে আমি এসব নিয়ে বেশি গলা বাড়াতাম না।
মাঠের এক কোণে বল কুড়োবার জন্য একটু দাঁড়াতে দিলেই আমি তরে যেতাম।
তবে ধরা পড়ে যেতাম কাবাডি খেলতে গিয়েই। জামা ছেঁড়ার ভয়ে আমি একটু ভেতরে গিয়েই পালিয়ে আসতাম, আর ওমনি সবাই রে রে করে আমার ওপর তেড়ে আসত। কতদিন যে আমায় চুলের মুঠি ধরে খেলার মাঠ থেকে বার করে দিয়েছে। সব চাইতে বেশি করত ওই কুমার -দা- টা।
সবার মুখে যাচ্ছে-তাই, যাচ্ছে-তাই এই শব্দটা শুনতে শুনতে আমি একদিন নিজেই আর খেলতে গেলাম না। নাকি হঠাৎ-ই বড় হয়ে গেলাম?
( দুই )
তিন থেকে তের বছরের, বিভিন্ন মাপের একটি দল। সুতরাং সেখানে মিল যতটা, অমিল ছিল তারচেয়েও বেশি। আমাদের এই ঘরোয়া দলের প্রধান সর্দ্দার ছিল কুমারদা। সবার ওপর ছড়ি ঘোরানই ছিল যার প্রধান কাজ।
ওর কথা না মেনে কারুর উপায় ছিল না। একটু এদিক-ওদিক হলেই ঠাস ঠাস করে চড় বসিয়ে দিত। তাই সকলেই ওকে একটু সমীহ করে চলত। দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচার আর কি? কে আর যেচে যেচে মার খেতে চায়?-----------সারাদিন শুধু খেলা আর খেলা। অসম্ভব দুষ্টু ছিল।
আর তেমনি ফাঁকিবাজ। একদম পড়তে চাইত না। স্কুলে এমন কোন দিন যেত না, যেদিন কুমারদা শাস্তি পেত না। ভেতরে ভেতরে একটা রাগতো আমার ছিলই, তাই আমারও কাজ ছিল বাড়ীতে এসেই আগে গিয়ে জ্যাঠা-জেঠিকে সেসব জনিয়ে দেওয়া। সেইজন্যও তার হাতে বহুবার মার খেয়েছি।
রাগ হয়েছে, আড়ি করেছি, আবার কিভাবে ভাবও হয়ে গেছে।
পর পর দু বছর ফেল করে আমার সাথে একই ক্লাসে হয়ে গেল। এতটা লজ্জা বোধহয় কুমারদা হজম করতে পারেনি। তারপরেই এল এক বিরাট পরিবর্তন। শাপে বর হোল।
এমনিতেতো মাথাটা ভালই ছিল, ফলে একটু মনোযোগী হওয়াতেই বেশ ভাল ফল হল। ক্রমশঃ সুনামের সাথে স্কুল ডিঙ্গিয়ে, কলেজ পেরিয়ে এক নতুন কুমার জন্ম নিল।
জানি না, কবে, কখন কিভাবে যে আমরা এক মন -----এক আত্মা হয়ে গেছি, আজ আর তা মনে পড়ে না। কি করেই বা মনে পড়বে? শিশুকাল থেকেই তো একসাথে। সে---ই হাত ধরে হাঁটি হাঁটি পা-পা থেকে শুরু।
আর বোধ হওয়ার পর তো ছায়ার মতো সাথে সাথে ঘুরেছি।
আমার ভাগ্য-লিখনই তাই আজ বলে দেয়, আমিও ছিলাম এক বাল্য প্রেমেরই শিকার! আমাদের প্রেমের ঠিক এই সাবালকত্বের দিন-গুলোতেই আমাদের দুজনকে নিয়ে বাড়ীতে প্রচন্ড সতর্কতা শুরু হয়ে যায়। জেঠা-জেঠি আমায় ভীষণই ভালোবাসতেন, এবং তাদের এ-ব্যপারে তেমন অমত আছে বলেও কখনও বুঝিনি। কিন্তু কেন জানিনা, আমাদের পরিবার থেকে এ-ব্যপারে প্রবল আপত্তি উঠল। তারা কিছুতেই এটা মানতে চাইলেন না।
ক্রমশঃ দুই পরিবারের দূরত্ব বাড়তে বাড়তে একদিন মুখ দেখাদেখিও প্রায় বন্ধ হয়ে গেল। তারপর আস্তে আস্তে কথা বলার পর্ব্বও উঠে গেল। এত আপনজনদের সাথে এভাবে বেশিদিন চলা যায় না। তাই কুমারদারা বাড়ি ছেড়ে একটু দূরে চলে গেল।
চোখের আড়ালই কি মনের আড়াল? যাইহোক, আমার পরিবার তাতেই সন্তুষ্ট হোল।
----------তবে ধীরে-ধীরে আমার কথা-বার্তা, যুক্তি-তর্ক তাদের অসহ্য হয়ে উঠল। সবার চক্ষুশূল হয়ে শুধু বেড়েই উঠলাম। দিশেহারা আমি, তাদের পানে চেয়ে থাকি।
তা ভাবলে হবে কি? জন্ম-দাতা বলে কথা, তাঁদের একটা অধিকার আছে না?--------তাঁদের লালন-পালন এর একটা মূল্য আছে না? সে মূল্য কি কম? অসহায় , মূল্যহীন আমার লাভ হল একটাই,----------প্রথমে হলাম গৃহ-বন্দী।
তারপরে হলাম নজর-বন্দী।
দীর্ঘ-দিন এভাবে কাটিয়ে যেদিন বুঝতে পারল, ডানা-ভাঙ্গা এ পাখী আর উড়িয়ে দিলেও উড়বে না----------ছেড়ে দিলেও পালাবে না,---------তাদের দেওয়া দানা-পানিতেই সে সন্তুষ্ট. সেদিন থেকে আমি স্বাধীন হলাম, আমি মুক্ত হলাম। আমার শরীর ও মনকে সতেজ রাখার জন্য একটু-আধটু বাইরে বেরোবারও ব্যবস্থা করা হোল। যদিও জানি, এ হোল আমার দ্বিতীয় পরীক্ষা। মানে পেছনে চর লাগিয়ে ছেড়ে দেওয়া। তবে আমি নির্ভয়।
আর কেউ না জানুক, আমি তো জানি, ও চোরও নয়, ডাকাতও নয়। -----
-----বরাবর অল্পেই সন্তুষ্ট থেকেছি। এটাই আমার মস্ত বড় অপরাধ। রাস্তায়, পার্কে, বাজারে কখনো-সখনো দেখা হয়ে যায়--------দুটি শীতল দৃষ্টি একে অপরের কুশল সংবাদ নেয়। আজ আর এর বেশি কি-ই-বা জানার আছে? এখন আর আমাকে নিয়ে কেউ ভাবে না।
( তিন )
-----------"তোমার বাড়ীর সামনে দিয়ে,
মরণ যাত্রা যখন যাবে--------------
কি অস্বাভাবিক, নিষ্ঠুর কবির কল্পনা! দেখা হলে জানতে চাইতাম, কোনটা আগে? আগে কল্পনা? না আগে বাস্তব?
আমার পরম হিতাকাঙ্ক্ষীরা (আমি যদিও মনে করি না, তবে তারা মনে করে) আজ আমার চাইতেও বড় বেশি বিমর্ষ। আমার জন্য নাকি তাদের বুক ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। চোখ ভেসে যাচ্ছে জলে। কিন্তু কেন? আজ এসবের কি কোন মূল্য আছে না প্রয়োজন আছে? যেদিন আমি জনে জনে তোমাদের সবার মুখের দিকে তাকিয়েছিলাম-------শুধু একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আশায়, সেদিনের কথা কি আমার পক্ষে ভোলা সম্ভব?
কোন গোপন বৈঠক নয়, কোন ফিসফিস, গুজগুজ নয়, রীতিমত
উচ্চৈস্বরে, হুঙ্কারের সাথে সবার মতামত আমার কানের ভেতর দিয়ে উষ্ণ-প্রবাহের মত মস্তিষ্কে গিয়ে আঘাত করেছে।
কেউ বলেছে, ট্রেনের তলায় পিষে ফেলো, কেউবা আদেশ দিয়েছে খাবারে বিষ মিশিয়ে দাও।
একদম চোখের আড়ালে, পৃথিবীর আড়ালে পাঠিয়ে দাও। শেষ পর্যন্ত অবশ্য কোনটাই সম্ভব হয়নি। এ কখনও হয় নাকি? আয়ুর জোর থাকলে তাকে রোখে কার সাধ্যি?--------------শত হলেও নিজেদের রক্ত দিয়ে গড়া, কোলে-পিঠে করে মনুষ করা! ঢলঢলে কুড়ি বছরের একটি পূর্ণ যবতী, তাকে কি একেবারে প্রাণে শেষ করে ফেলা এতই
সহজ? তার জন্য আরও একটু বেশি পশু হতে হয় বুঝলে?
তোমরা বোধহয় ঠিক ততখানি পশু নয়, যতখানি কাপুরুষ!
তোমাদের আজকের এই করুনাকে তাই আমার ঘেন্না হয়, ঘেন্না হয়। আচ্ছা সত্যি বলতো, সেদিন তোমরা আমায় বন্দী না করে যদি গলা-ধাক্কা দিয়ে বার করে দিতে কি ক্ষতি ছিল? তোমাদের তো আরও পাঁচটা সন্তান ছিল। না হয় তাদের নিয়েই বাঁচতে।
------------বিনিময়ে ছোট্ট দুটি প্রান অন্তত কিছুদিন তো হেসে-খেলে এই পৃথিবীর আলো-হাওয়া উপভোগ করে যেত।
অনেক, অনেক দেরী হয়ে গেছে। তবে আজ বুঝি, নিজের ইচ্ছেগুলোকে বলি দিতে নেই। একবার বলি দিলে বারবার দিতে হয়। তাই আজ, নিজের রক্তাক্ত মুখ দেখার জন্য নিজেকেই দয়ী করি।
সে-ই কুড়ি বছর বয়স থেকে আমি নজর-বন্দী। আজ আমি প্রৌঢ়া। এক ছাদের তলায় না হলেও, এক আকাশের তলায়, এক বাতাসের মধ্যেই-তো বেঁচেছিলাম। এটাই ছিল আমাদের একমাত্র সান্ত্বনা। তবুও তোমাদের অবাধ্য হতে পারিনি।
-------------কত ক্ষুদ্র! কত সামান্য চাহিদা ছিল আমাদের। মানুষ দিল না ঘর বাঁধতে---------ঈশ্বর দিল না শ্বাস নিতে।
অভিশপ্ত! অভিশপ্ত এই জীবন!
( চার )
আজ বাড়ীর সকলেই সন্ধের থেকেই একটু যেন বেশী ছটফট করছে। অনাহুত আমার দিকে একটু বেশী খেয়াল রাখছে। হয়তো দেখতে চাইছে, কতখানি চুরমার করে আমি ভেঙ্গে পড়ি?
-----------না, না, আমি আর ভাঙ্গি না, আমি আর ভাঙ্গি না।
আমি যে আর ভাঙ্গতে পারি না। কি করে ভাঙব? অতখানি শক্ত শিরদাঁড়া তো আমার কোনদিনই ছিল না।
আমি শুধু মচকাই আর মচকাই। আর উবু হয়ে বসে বসে ভাবি----------সবার দৃষ্টি এড়িয়ে নিজের বৃত্তের ভেতর গলে যাই। শীতের সন্ধে, বাতি নিভিয়ে, টি,ভি টা চালিয়ে, অবশ, অসাঢ় দেহটাকে বিছানায় ফেলে দিই।
বাঁধভাঙ্গা জল-স্রোতের মত ভেসে যায় গাল। আজ আমার সামনে আসতে ওদের
ভয় হয়। ঠিক এরকমই ভয় একদিন আমিও পেয়েছিলাম । তবে এটা কি ঠিক ভয়? না বিবেকের দংশন? ভাবতেও লজ্জা হয়। এসব কি ভাবছি আমি? এই কাপুরুষ জাতের আবার বিবেক বলে কোন পদার্থ থাকে নাকি? কোন ভাবনা, কোন চিন্তা মাথায় আর কাজ করে না।
মন শুধু বলে,---------------"যাও কুমার, যাও চলে।
আমাকেও নিয়ে যেও।
অপেক্ষা কোর, আমিও আসছি। ---------------------
( পাঁচ )
শূন্যতা! বুক জুড়ে বড় শূন্যতা! কোনদিন কাছে পাইনি। তবুও তো তুমি আমারই ছিলে।
শুধু আমারই ছিলে।
আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী-পরিজন চারপাশে সকলেই উৎসুক নেত্রে আমায় মেপে দেখে, কতখানি ব্যথা আমার বুকে বাজে। কারণ আমাদের প্রেম যে এক ঐতিহাসিক প্রেম!----------------------না, না,, বাজে না। আমার বুকে কোন ব্যথা বাজে না। আশ্চর্য, কিসের ব্যথা?-----------বিচ্ছেদের?------------কি অবাক কথা, মিলন বিহীন বিচ্ছেদ কখনও হয় নাকি?
কত কত যুগ আগে সেলিম-আনারকলি চলে গেছে, তাদের ভালবাসাকে স্মৃতি করে।
কেউ কি পেরেছিল, ওই দুটি তরতাজা প্রানের আকুতিকে বুঝতে? পারেনি, পারেনি। পারেনা, পারেনা।
কারণ চূড়ান্ত সুখ বোধহয় কারোরই কাম্য নয়। তাই আজ শত শত বর্ষ পরেও তাঁদের নিয়ে গল্প বলা যায়, ছবি করা যায়, আর মানুষ তাই উপভোগ করে। কত বড় বড় শব্দে আমরা তদের সমালোচনা করি।
কিন্তু পেছন ঘুরে তাকালে কখনও কি মনে হয় না--------এসবই কি সত্যি ছিল?--------------সত্যি? শুধুমাত্র সত্যিই নয়, একেবারে জ্বলজ্যান্ত সত্যি! তাই বা বলি কেন, সত্যি ছিল বলেই না সে এত নিষ্ঠুর, এত ভয়ঙ্কর, এতখানি কুৎসিত!
শুধু কি কবর? একেবারে জ্যান্ত কবর। তবে কবর কি শুধু মাটির তলাতেই হয়? মাটির ওপরেও হয়। হয়। হয়। কেউ বোঝে , কেউ বোঝে না।
( ছয় )
কি হল? কত রাত্রি হল? বাড়ির কেউ ঘুমোয় নি মনে হচ্ছে? সবাই কেমন ফিসফিস করে কথা বলছে। এমন সময় মৃদুস্বরে একটা হরিধ্বনি বাড়ির সামনে দিয়ে দুটো ফুল ছিটিয়ে চলে যায়।
বহুদূর, বহুদূর থেকে একটা বিষাদের সুর এসে আমায় একেবারে ওলোট-পালোট করে দিয়ে যায়। সারাটা শরীর শিউরে শিউরে, ওঠে। কেঁপে কেঁপে একসময় স্থির হয়ে যাই।
কি হারালাম? এ কি হারালাম আমি? সবই কি আমার হারিয়ে গেল? উঃ, কি মর্মান্তিক, মর্মান্তিক সমাধান! এক জন্মের প্রতীক্ষার অবসান। এখন শুধু পর-জন্মের প্রতীক্ষা----------------------আর্তনাদ করার শক্তি নেই। কান্নারও সাহস নেই। চাপতে চাপতে ক্ষত-বিক্ষত হৃদয়টা এক-সময় নিজে নিজেই কঁকিয়ে ওঠে। এক সময় সেই কোঁকানোও বন্ধ হয়ে যায়।
কণ্ঠরোধ, বাকরুদ্ধ! তবুও এখনও তোমায়, শুধু তোমাকেই কামনা করি কুমার।
তখনও ভোরের আলো ভালো করে ফোটেনি। বাইরে সকলে আমার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে। আর বোধহয় পারে না। দরজার প্রবল ঝাঁকানিতে সমস্ত ঘরখানি ঝনঝন করে কেঁপে ওঠে।
হয়তো ওদের মনে অন্য কোন আশঙ্কা কাজ করছিল-----------কিন্তু সে কি করে সম্ভব?
আমি যে ডানা ভাঙ্গা পাখি-----------------------------------------
আজ উড়িয়ে দিলেও উড়তে পারি না,
ছেড়ে দিলেও ঘুরতে পারি না।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।