আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

এখন সময় অণুকাব্যের (?)

আমি না হয় ভালবেসেই ভুল করেছি, ভুল করেছি। নষ্ট ফুলের পরাগ মেখে পাঁচ দুপুরের নির্জনতায় খুন করেছি...

এদেশে এখন বেশ জোরেশোরেই চলছে অণুকাব্যের চর্চা। বিভিন্ন পত্রপত্রিকা নিয়মিতই প্রকাশ করছে শত শত অণুকাব্য। কয়েক বছর পর দেশের অণুকাব্য লেখকেরা মর্যাদা পাবে অণুকবি হিসেবে। (বলে রাখা দরকার, দেশের অণুকবিরা আবার আকার আকৃতিতে অণুর মতো হবে না!) প্রতি বইমেলায় অণুকবিদের নতুন নতুন বই বের হবে (এবং হচ্ছেও)।

এনটিভি কিংবা চ্যানেল আই এর ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে বিশিষ্ট অণুকবিরা গুরুগম্ভীর কন্ঠে বলবে, "বইমেলায় প্রকাশিত আমার এই ৬০ পৃষ্ঠার বইটি আমার সাত বছরের সাধনার ফল। দর্শক, আপনারা আমার বইটি কিনুন, নিঃসন্দেহে সংগ্রহে রাখার মতো একটি বই!!!!! দেশের উদ্ভট টিভি আর এফ এম চ্যানেলগুলোতে অণুকবিরা Live Talk Show করবে। মেক আপে আবৃত উপস্থাপিকা কিংবা বাংলিশ ভাষী আর জে ন্যাকা ন্যাকা আর আহ্লাদে হাবুডুবু খেতে খেতে বলবে, "সুধি দর্শকবৃন্দ (Dearrrrr.... listeners), আজ আমাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছেন এ সময়ের জনপ্রিয় (so famous) অণুকবি (অণুpoet) জনাব (Misterrrr....) অমুক খান। প্রথমেই তার কাছে আমরা জানতে চাইব (We will want to know) তিনি কি দিয়ে ভাত (Rice) খান। " অণুকবি দুলতে দুলতে হাসবে ।

তারপর ভাব মারা কন্ঠে বলবে, "আমি অমুক খান, ভাত এর সাথে খাই একটা পান। আরও খাই সালাদ-মুরগির মাংস, দিও তোমার হৃদয়ের একটা অংশ। " উপস্থাপিকা (Or RJ) সাথে সাথে লজ্জায় লাল হয়ে যাবে। অণুকবি আবেগে আবেগাপ্লুত হয়ে বলবে, "আমার এই অণুকাব্য আমি আপনাকে Dedicate করলাম। " এমন সময় ছ্যাকা খাওয়া অতি আধুনিক এক তরুণী ফোন করবে।

অণুকবিকে বলবে, "ওহ্, অমুক ভাই, আমি অ্যানিখা (আনিকা), you are so sweet...too cute. আমি আপনাখে কুব পচন্দ খরি...I like u so much. আমার জানু না আমাকে ফেলে ছলে গেচে। Please, tell me what to do??" অমুক ভাই জিজ্ঞেস করবে, " আনিকা, তোমার জানুর নাম কি???" -"বকুল"। -"প্রেমিক প্রেমিকা দুইজনকেই বলছি, (ক্যামেরার দিকে ফিরে) তোমরা মনে রাখবে, আনিকা আর বকুল, একই ডালের দুইটি ফুল। -"ওহ্!!! অমুক ভাই, আপনি সথ্যিই Great! Ummaaahh....." এইবার অমুক ভাইয়ের লজ্জায় লাল হওয়ার পালা। অন্যদিকে ন্যাকা ন্যাকা উপস্থাপিকার (Or RJ) চোখে মুখে ভেসে উঠবে স্পষ্ট হিংসা।

-"অমুক ভাই, আমরা আপনার কয়েকটি অণুকাব্য(Anu Poems) শুনতে (Listen Khorte) চাই। " -"হা হা হা...আসলে...ইয়ে মানে...আচ্ছা আমি কয়েকটি আবৃত্তি করছি। এসেছে আষাঢ়, ক্রিকেট মাঠে ফুটবল খেলে হাবিবুল বাশার! খাচ্ছি খাবার, দিচ্ছি ঘুম, আফ্রিদি করে...বুম বুম! সে এসে চলে যায়, আমি করি হায় হায়! মনটা উড়ু উড়ু, মাংসে আছে অ্যানথ্রাক্স, তাই খাই না গরু! . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . -"আসলেই জটিল!!!!" -" হে...হে...হে..." -"আচ্ছা, অমুক ভাই, বাংলাদেশে অণুকাব্যের বিকাশ সাধনে (Spread Khorar Jonno) কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত বলে আপনি মনে করেন??" -"আসলে, অণুকাব্য হলে সাহিত্যের সেই শাখা যেখানে রবীন্দ্রনাথ-নজরুল-জীবনানন্দ এর মতো কবিরা তাদের প্রতিভার সাক্ষর রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের ছাড়িয়ে যেতে হলে অণুকাব্যের চর্চার কোনো বিকল্প নেই। আমি মনে করি, সাহিত্যের এ শাখার বিকাশ সাধনে তরুণ সমাজের সচেতনতাই মূল উপায়।

" -"আচ্ছা, অণুকাব্যের ক্ষেত্রে আপনার আদর্শ কে??" -"সত্যি করে বলতে কি.... আমি নিজেই নিজের আদর্শ। " -"অসাধারণ, যাই হোক, আমারা অনুষ্ঠানের শেষ প্রান্তে (We are at the end) চলে এসেছি। আপনি আমাদের দর্শকদের (Listeners) উদ্দেশ্যে কিছু বলুন। " -"তরুণী দর্শকদেরকে আমি বলব, তুমি চন্দ্রনাথ পাহাড়, আমি হিমালয় পর্বত, তুমি মুদি দোকানের চিনি, আমি ইসবগুলের শরবত। তুমি বেতের ঝুড়ি, আমি বস্তার পিঁয়াজ, তুমি নায়িকা শাবনূর, আমি নায়ক রিয়াজ।

-"অদ্ভুত, সত্যিই অসাধারণ!!!" -"হে হে হে...এ আর এমন কি!! হে...হে...হে..." -"আর কিছু??" -"না, দর্শকদের বিদায়...." পাঠক, অণুকাব্য নিয়ে আমার এই লেখা কেবল কল্পনা প্রসূত। তবে মানুষের কল্পনাই তো বাস্তব হয়। তাই না??? দুঃখের বিষয়, আমাদের এই দেশে এখন সাহিত্য ব্যাপরটি অনেক হালকা কিছু হিসেবে দেখা হয়। আর এটি করতে গিয়ে আমাদের সাহিত্যিকেরা সামাজিক দায়বদ্ধতাকে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে। যা কখনোই আকাঙ্ক্ষিত নয়।


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।