অন্ধ নই....
৩ টি অপ্রিয় সত্য--
(১)রাষ্ট্র কখনো উচ্চশিক্ষা বাধ্যতামূলক করেনা (২)উচ্চশিক্ষা সবার জন্য নয় (৩) প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি+ভ্যাট প্রতিবছর নির্দিষ্ট স্কেলে বেশি করে বাড়ানো উচিত।
কথা তিনটি অত্যন্ত কাঠখোট্টা হলেও,, প্রতিটি বক্তব্যের সত্যতা নিরুপনে নিন্মে আমার বক্তব্য তুলে ধরা হলো---
(১)রাষ্ট্র কখনো উচ্চশিক্ষা বাধ্যতামূলক করেনা:
পৃথিবীর কোন রাষ্ট্রই উচ্চশিক্ষা বাধ্যতামূলক করেনা। । পৃথিবীর কোন উন্নত রাষ্ট্রেও উচ্চশিক্ষার দায়িত্ব নেয়না রাষ্ট্র। ।
বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক অর্থ্যাৎ পঞ্চম শ্রেনী পর্যন্ত কোন শিশুর শিক্ষার দায়িত্ব সরকার তথা রাষ্ট্রের। ।
কোন দেশের শিক্ষার হার উচ্চশিক্ষিত কতোজন তা জেনেও নির্ধারিত হয়না। । ।
নূন্যতম স্কুল ও কলেজ পর্যন্ত শিক্ষিতরাই রাষ্ট্রের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর ক্যাটাগরিতে পড়ে। ।
(২)উচ্চশিক্ষা সবার জন্য নয়:
উপরের বক্তব্যের সঙ্গেই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট। । ।
সমাজে যখন উচ্চশিক্ষার হার কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রের চেয়ে বাড়ে তখনই বিশৃংখলা দেখা দেয়। ।
সেই আদিম যুগেও বিষয়টি বুঝেছিলেন প্লেটো। । তিনি তার শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষাকে একটি নির্দিষ্ট শ্রেনীর জন্য বরাদ্দ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
।
বর্তমান সময়ে আমাদের দেশের উচ্চশিক্ষা বলতে যা বুঝায় তা হচ্ছে অনার্স-মাস্টার্স পাশ। । । প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন সাবজেক্ট খুলে বসেছে,, যার কোন কর্মক্ষেত্র খুজে পাওয়া যাচ্ছেনা।
।
সেখানে অর্ধশতাধিক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শাখা,, মড়ার উপর খড়ার ঘা। । ।
মধ্যবিত্ত পরিবারে কোন সন্তান পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স না পেলে সবর্স বিক্রি করে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে।
। কি দরকার,, একটা লোক যদি এইচএসসি পাশ করে আর মেধার যোগ্যতায় হেরে উচ্চশিক্ষা গ্রহনে ব্যর্থ হয়,, তবে তার কর্মক্ষেত্র ঠিক করে নেয়া উচিত। । । কোন ব্যবসায় বিনিয়োগ করা উচিত।
।
''উচ্চ'' শিক্ষা'তো-- উচ্চ মেধাবীদের জন্য। । উচ্চ কখনো সবাই হয়না। ।
।
আর একজন উচ্চশিক্ষিত হলেই সে বড় কোন মানুষ হয়ে যায়না। । নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে না পড়লেও তার কবিতা পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থী।
এমন নজির পৃথিবীতে খুবই সচরাচর দেখা যায় উচ্চশিক্ষিত না হয়েও সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক অবদান রেখেছে।
। ।
যারা শিক্ষার ক্ষেত্রে আগ্রহী,, মেধাবী,, তাদের জন্যই উচ্চশিক্ষার স্থানটি বহাল রাখা উচিত। । ।
এটা সবার জন্য উন্মুক্ত করার কোন মানে হয়না। ।
(৩) প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি+ভ্যাট প্রতিবছর নির্দিষ্ট স্কেলে বেশি করে বাড়ানো উচিত:
প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঝেও যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজগুলো রয়েছে,, তা ভুলে যেতে হয়। ।
টাকার অভাব হলে এতে পড়ে না কেন?? যতদুর জানি প্রতিবছর এগুলোতে অনেক সিট ফাকা থাকে।
বিভাগীয় শহরগুলোতে'তো বটে জেলা-উপজেলায়ও বিস্তৃত হয়েছে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়। । ।
এদের শিক্ষার মান কি কোন পর্যায়ে পড়ে!!
স্বিকার করছি,, ঢাকার কয়েকটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মান ভালো। ।
।
কিন্তু, এখানে বর্তমানের ভ্যাট ছাড়াও যে টাকা লাগতো তা কি মধ্যবিত্তের সহজসাধ্য। ।
আমার এলাকার এক বন্ধুকে দেখেছি জমি বিক্রি করে ঐ ভালো একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছে। ।
। বাবার সম্পত্তি শেষ করে এখন বেকার। । ।
আমার কথা হলো-- একজন মধ্যবিত্ত বাবার পুরো সঞ্চয় শেষ করে একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর'তো কোন মানে হযনা,,, যতদিন না সরকার একটা সহ্যসীমায় প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন নির্ধারন না করে।
।
এখন যে বর্তমান বেতন স্কেল তাতে অর্থবান-বিত্তবানের ছেলে-মেয়েরা পড়াশুনা করুক। । । চাকরি পেলে ভালো,, না পেলে বাপের ব্যবসা দেখাশুনা করবে,, না হলে বিদেশে চলে যাবে।
। ।
এই বড়লোকের সন্তানদের লাখ লাখ টাকায় পড়াশুনা করতে গিয়ে কিছু টাকা ভ্যাট দিতে কষ্ট হওয়া কখনো কাম্য নয়। । ।
সুতরাং----প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি+ভ্যাট প্রতিবছর নির্দিষ্ট স্কেলে বেশি করে বাড়ানো উচিত। ।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।