এই পৃথিবীতে শুধুমাত্র দুই রকমের মানুষ আছে। ভালো মানুষ যারা ভালো কাজ করে। আর খারাপ মানুষ যারা খারাপ কাজ করে। এটাই মানুষদের মধ্যে একমাত্র পার্থক্য। আর কোন পার্থক্য নেই... আমি ভাল মানুষ...☺☺☺
কাকা, ব্রাজিলের সাপোর্টারদের সামনে নামটা কয়েকবার বললে তাদের চোখে দেখবেন একটা নিশ্চয়তা; প্রিয় দল ব্রাজিলের জন্য।
হ্যা, কাকাকে ব্রাজিলের সাপোর্টাররা এমন নজরেই দেখে। কাকা সেরকম একজন প্লেয়ার। যার চেহারা দেখলেই মনে শান্তি চলে আসে। ফুটবল বিশ্বের সেরা খেলোয়ারদের একজন কাকা বিয়ের পর হানিমুনটা পর্যন্ত করেনি। করবে কি করে? তার দল ব্রাজিল যে বিশ্বকাপে যাচ্ছে।
কাকা'কে ছাড়া ব্রাজিল কি কল্পনা করা যায়? যায়না...
আজকে ঘটনার শুরু কোথায় তা নিয়ে একটু কথা বলি। ঘটনার শুরু ম্যাচের শুরুর সাথে সাথেই। রেফারীর সাথে কাকার তুমুল তর্কের মাধ্যমে। রেফারী তখনই কাকার উপরে ক্ষেপলো।
কাকাকে আইভরির প্লেয়ারগুলো এমনভাবে করে ঘিরে রাখছিল যে কাকা নিজেকে মেলে ধরবে কি! তার বাইচা থাকতে চাইলে মাঠ ছাড়নের কাম তখন! এর মধ্যেই কোন একটা প্লেয়ার আইসা তার গায়ের উপর পড়লো।
পা একটা ছিল কাকার গায়ের উপ্রে। কাকার মেজাজ চরম খারাপ হইলো এবং হাত দিয়া পা-টারে সরাইলো। এখানেই ঘটনার শুরু। দ্বিতীয় অংশ পরের প্যারায়।
দ্বিতীয় অংশে দেখলাম ব্রাজিলের একজন প্লেয়ার হলুদ কার্ড খাইতে লাগলো।
এইটা নিয়া কাকা রেফারীর সাথে কথা বলতে গেল এবং রেফারী কাকাকে হলুদ কার্ড দিয়া দিলো। (আগেরবারের প্রতিশোধ। এইবার তুললো) এইখানে কাকার দোষ দেওয়া যায়। সে রেফারীর সাথে আর্গু করছে যেইটা একেবারেই করা উচিত ছিলনা। কারণ, আর্গু করার পরেই রেফারী কাকাকে কার্ড দেবার পিছনে একটা কারণ পেয়ে গেলো।
এবার আসি লাল কার্ডের পিছনে। খেলা দেখতেছিলাম শুইয়া শুইয়া। দেখলাম ব্রাজিলের একজন প্লেয়ারেরও আমারমতো অবস্থা হইলো। মানে শুইয়া পড়লো। আইভরির প্লেয়ারগুলা একেকটা যে ষাড়ের মতো।
আমি তেমন একটা পাত্তা দিলাম না। ভাবলাম, "কোন একটা ষাড়ে মনেহয় গুতা মারছে। " ক্যামেরা যখন তারে দেখাইতে ব্যস্ত তখন দেখলাম আইভরির একটাও এক্কেবারে চ্যাগায়া পড়ছে। একদম এমনভাবে মুখ চাইপ্পা পড়ছে মনে হইছে যেন কেউ কোপ দিছে মুখে। একটু পরেই ঐ দিকের ক্যামেরাটা চালু হইছে।
দেখলাম কাকা হাতটা বাইর কইরা তার স্টাইলেই হাইটা যাইতেছে আর একটা আইভরির প্লেয়ার আইসা তার হাতের উপ্রে পড়লো। বাড়ি লাগলে লাগছে বুকে কিন্তু সে একেবারে মুখে হাত দিয়া পইড়াই গেল! পড়ছেতো পড়ছে আর উঠেনা। পরবর্তী মূহুর্তেই মাঠের মধ্যে দেখলাম মারামারি বাইধা গেছে। মনে প্রশ্ন জাগলো, "আইভরি কোষ্ট কি মারামারি করতে আসছে নাকি ওয়ার্ল্ড কাপ খেলতে আসছে???"
এই হইলো ঘটনা। কাকার প্রথম হলুদ কার্ডটা রেফারী ফিফার একটা নিয়মের মধ্যে ফেলিয়ে দিয়ে দিতে পেরেছে কিন্তু দ্বিতীয় হলুদ কার্ডটা শুধুমাত্রই ব্যাক্তিগত ক্ষোভের কারণে দিলো।
এখানে কাকার কোন দোষ ছিলনা। লাল কার্ড দেওয়াটা পুরাই আজাইরা একটা কাজ ছিল। এই কাজের কারণে ঐ রেফারীর শাস্তি হবে এবং ফিফা "কাকা"-কে ফিরিয়ে আনবে বলেই আমার বিশ্বাস। । ।
শেষে একটা কথা বলতে চাই। কাকা আমাদের BRAZIL-এর প্লেয়ার। সে লাল কার্ড পাইছে দেখে ফালাফালি করার কথা আমাদের। কিন্তু খেয়াল করে দেখলাম ব্রাজিলের সাপোর্টারদের চেয়ে আর্জেন্টাইনরাই বেশি লাফাচ্ছে। এটা যে তাদের আনন্দের বহিঃপ্রকাশ সেটা বোঝাই যায়।
ভাই, শুধু একটা কথাই বলবো, "Today I'm really proud to be a brazilian supporter। কারণ, আমি BRAZIL এর সাপোর্টার বলেই হয়তো আপনাদের মতো হিংসুটে না। আজ আপনাদের মেসি যদি কাকার মতো করে লাল কার্ড পায় তাহলে আমি ততোটাই কষ্ট পাবো যতোটা আপনি পাবেন। কারণ, সে একজন ভালো প্লেয়ার এবং সম্পূর্ণ বিনা কারণে সে লাল কার্ড পেলো। আর যাই হই আপনাদের মতো খুশি হবোনা।
"
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।