আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

মা রে নিয়া ছড়া : কিছু আগলা প্যাচাল



২০০৪ সালের এক রাতে আমার ঘুম আসতেছিলো না। এইটা কোনো ঘটনা না। ঘটনা হইলো, কেন আসতেছিলো না? আজাদ গ্রুপ বা অন্য কোনো কোম্পানি একটা প্রতিযোগিতার আয়োজন করছিলো। বিষয়: মা দিবস উপলক্ষে ৮ লাইনের একখান ছড়া লেখতে হইবো। চিন্তা করলাম, ওক্কে, লিখা ফেলাই একটা; চান্সে যদি কিছু টেকা-পয়সা পাওয়া যায়।

তো মাথার ভিতর ছোট কৈরা একটা লাইন আইসা পরলো, “যখন তুমি থাকবে না, মা”। ঠিক করলাম, কালকে লেইখা ফেলামু। রাত ১ টার দিকে গেলাম ঘুমাইতে; শুইয়া শুইয়া মাথার ভিতর ওই প্রথম লাইনের সাথে তাল মিলাইয়া আরো ৪/৫ টা লাইন আইসা পরলো। মগজরে যত কই “ঘুমা !”; মগজ তত ছড়া প্রডাকশনে মন দেয়। এই করতে করতে বাজলো “পৌনে ২ টা”।

মেজাজ পুরা বিলা হইয়া গেলো। ছড়ার ***রে ***। বুঝলাম, এই মস্তিস্ক-সন্তান(Brainchild) রে ডেলিভারি(?) না দেওন পর্যন্ত শান্তি নাই। শোয়া থিকা উইঠা লেখা শুরু কইরা দিলাম। লেখতে লেখতে লাইন সংখ্যা ৩৫-৪০ পার হইলো।

হঠাৎ মনে হইলো, আইচ্ছা, আমিও তো আগে মরতে পারি; বেস্ট-কেসে একসাথেও তো মরতে পারি (If...else if...else ব্লকের মতো) সো এই ব্যপারেও তো একটা দিক-নির্দেশনা দেওয়া লাগে। নইলে কেমন একটা আধা-খ্যাচড়া ভাব থাকা যাইবো। মস্তিস্ক-সন্তান লম্বা হইতে লাগলো; আমি “নীরব-দর্শকের” মতো “লে”খতে লাগলাম লাইন সংখ্যা ৭০ এর কোঠা ছাড়ল। ছোটখাটো কিছু এদিক সেদিক এডিট দিলাম। ফাইনালি যখন নিজে একবার পুরাডা পরলাম, নিজের চোখেই পানি আইসা পরলো :’( ।

তখন ডিসিশন নিলাম, নাহ্, এই লেখা প্রতিযোগিতায় পাঠাইলে মা-রে ছোট করা হইবো। প্রতিযোগিতা বাদ। আবার চিন্তা করলাম, আমার চোখেই পানি আইসা পরছে, মা তো অবশ্যই কান্না কাটি করবো। সো মা-রেও এখন দেখামু না। একটা অকেশন আসুক।

তখন একটা সবাইরে স্পেশালি মা-রে একটা চমক দেওন যাইবো। এইজন্য কাউরেই পড়তে দিলাম না। আমি আড়াইটা বা তিনটার দিকে ঘুম গেলাম। আর শেষ রাতে জন্ম হওয়া আমার মস্তিস্ক-সন্তান ভুমিষ্ট হওয়ার পর-পরই প্যাড এর ভিতর চাপা পড়ল ২০১০ এ একটা বিশেষ কারণে আমার সমস্ত স্থাবর-অস্থাবর কাগজ-পত্র scan করে ডিজিটাল করায় এই ছড়াটাও কম্পিউটারে চলে আসলো। জুন মাসে এইটা Google Transliterate দিয়া খুব তাড়াতাড়ি কম্পোজ কইরা ফেললাম; এই লেখাটা যখন লেখতাছি, তখনো মা-য় ছড়া দেখেনাই।

ছয় বচ্ছর পাঠকের মুখ না দেখা সন্তান আমার আইজ Internet এর মুখ দেখবো ছড়াটার লিংক এইখানে । ঠিক করছি, মা রে আইজ একটা প্রিন্ট করা কপি পাঠামু । -- কেমন সুর ------------------------------------------------------------- কেউ যদি এইটা পইরা নিজের মা রে দিতে চান, তবে এই লিঙ্ক থিকা PDF ডাউনলোডাইয়া প্রিন্ট কইরা দিতে পারেন।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।