আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

চোখ জ্বলে ঘামে...

আমার খুব কষ্ট হয়, যখন RAJAKAR বানানটা বাংলা বর্ণমালায় লিখা হয়। এটা বর্ণমালার জন্য অপমান।

কুয়াশার ভেতর থেকে অদ্ভুত কিছু শব্দ ভেসে আসে। আপাতঃদৃষ্টিতে অর্থবহ মনে হলেও, তার জন্ম কুয়াশার ওপার থেকে-যেখানে অর্থহীনরা বাস করে। এদিকের এই 'ভদ্র পল্লী'তে ওই শব্দ যেন ব্যাঘাত ঘটাতে না পারে, তাই কুয়াশা ছেঁকে দিচ্ছে বেয়াড়া অনুনাদগুলোকে।

যখন এখানে রাত্রি হয়, যখন সারা পাড়া ঘুমিয়ে পড়ে ক্লান্ত গায়ে- তখন জাগতে থাকেন ঈশ্বরেরা। সেজেগুঁজে বিধাতাগণ বালিকা বন্ধু নিয়ে হাজির হন কিছু পান করার জন্য। তেলে জল মেশানোর মত 'ঘাম'কে অস্বীকার করার একটা প্রস্তুতি চলতে থাকে। অকিঞ্চন মানুষকে ঠকানোর তমসুকের খসড়াটা ভারী হতে থাকে; গভীর হতে থাকা রাতের সাথে। পরমেশ্বর... পরমেশ্বরের চরিত্রহানি হবার ভয় নেই।

তাই তিনি ছায়ার আড়ালে থেকে নিজেকে উলটে পালটে দেখেন-আর কতটুকু নিচে নামতে পারলে মানুষের সমান্তরালে আসতে পারবেন। ভিনদেশি বাজনায়, দেয়ালে আঁকা হাঁস দুটোর রঙ অতিথি পাখির মত হয়ে যায়। জোছনা ঢেকে যায় নিয়ন আলোয়-আকাশ থেকে বৃষ্টির বদলে ঝরতে থাকে টিটকারির শিলা। আর পরমেশ্বর তার পানসঙ্গীদের নিয়ে দেখেন-কে বেশি সত্য; শব্দ, না হুঙ্কার? তিনি গোঁফ দুলিয়ে ভাবতে থাকুন, আর আমি দেখি-বৃষ্টি কি বলে! ও বৃষ্টি। বৃষ্টি একটা খেয়ালের নাম।

মানুষ কখনো ভেজে তাতে, কখনো ভেজার ভয়ে পালায়। খেয়াল নয়তো কি? কচুরিপানার গায়ে লেগেথাকা একফোঁটা বৃষ্টি যেন তাকে বেঁচে থাকার সাহস যোগায়। বলে, আছি। ঝুম বৃষ্টির জলের দোহাই- তোমার কাছাকাছি! সেই বৃষ্টি কিন্তু থামেনি আজো। কেবল মানুষের সেখানে যেতে মানা।

সেই অদ্ভুত বৃষ্টিটা অন্যদিনের মত ছিলনা। স্কুলব্যাগ ছোকড়াগুলো তাদের মতই হাঁটছিল, যেমন তারা হাঁটে সবসময়। তারা ভিজছিল নেহাৎ ভেজার আনন্দে। আজ বিপন্ন প্রেমিক ছেলেটি তার প্রেমিকার অভিমানী মুখ ছেড়ে, হাত বাড়িয়েছিল বৃষ্টির দিকে। অবসরে থাকা বাবাটা তাঁর ছেলেটিকে অংক কষতে বসায়নি।

অনটনে থাকা ভিখারি বধুটিও কোত্থেকে যেন যোগার করেছে পোকায় খাওয়া দুমুঠো আতপ চাল; বৃষ্টির জলে তাই ধুয়ে নিচ্ছে। আজ কোন পথিক, বৃষ্টির ভয়ে ফুটপাত ছেড়ে আশ্রয় খোঁজেনি। অর্থাৎ, প্রতিদিনের মত ভীড় আর অট্টালিকার ব্যবধানে, যেখানে সবসময় বাতাস আর ধুলোর রাজত্ব-সেখানে রোদ হটিয়ে ঠাঁই নিয়েছে বৃষ্টি। বাদবাকি সব তেমনি আছে-যেমন ছিল বৃষ্টি নামার আগে। ঈশ্বর কিংবা পরমেশ্বরদের স্নানাধারে বৃষ্টি পৌঁছতে পারেনি।

সুতরাং তারা এখনো মৃতই আছেন-যেমন তারা ছিলেন। তারা আমাদেরই লোক-অথচ কত বিস্তর ব্যবধান! মানুষ বেপরোয়া সুখে ভুলতে বসেছে অসুখ। আর আমি বলি, এ তোমাদের সুখের অসুখ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।