. আমার নাইবা হলো পারে যাওয়া...
ফোন জিনিসটাই আমার কাছে খুব বিরক্তিকর মনে হয়। মোবাইলটা আমার জানের দুষমন। এই ফোন আমাকে শান্তিমত থাকতে দেয়না। মোবাইল আমি কিনিনি। আমার ছেলে বাইরে যাওয়ার সময় হাতে একটা মোবাইল ধরিয়ে দিয়ে কি ভাবে বার্তা লিখতে হয়, বার্তা এলে কি ভাবে দেখতে হয়, ভালো করে বুঝিয়ে দিয়ে গিয়েছিলো।
এর আগে তো আমি মোবাইল ফোন কি ভাবে রিসিভ করতে হয় তাই পারতাম না। “ কানের মাথা খেয়েছো? ফোনটাও ধরতে পারোনা?” এ ধরনের বাক্য হজম করে কল রিসিভ করতে গিয়ে কেটে দিয়েছিলাম কতো দিন। যাই হোক ঐ মুঠোফোণ বার্তার জন্যই রেখেছিলাম। মানুষ এই জিনিসটা কানে নিয়ে কি করে যে ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলে যায়, আমি ভেবে পাইনা। আমি টিএন্ডটি ফোনে কথা বলে আরাম পাই।
কিন্তু সময়সীমা পাঁচ/ছয় মিনিটের বেশী হলেই আমার কানে ব্যাথা শুরু হয়। একটা সময় ছিলো, যখন আমিও ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলেছি। কিন্তু এখন আর এতো কথা বলতে ভালো লাগেনা। আমার কথা বলতে ভালো না লাগলে কি হবে? শুনতে তো বাধা নেই, এ কথা যারা ভাবে, তারা আমায় রোজ ফোন করে। কোন দরকার না থাকলেও তাদের সুখ, দুঃখের কথা আমায় বলে যায়।
আমাকে শুনতে হয়। আমি হয়রান হয়ে যাই। কিন্তু কিছুই বলতে পারিনা। আমার মোবাইলে ফোন করে আমায় পাওয়াটা ভাগ্যের ব্যাপার। কারন মোবাইল থাকে, বালিসের নিচে।
সোফার কোনে। বাইরে গেলে ব্যাগের পেটের ভিতর। রিং বেজে গেলেও আমি শুনতে পাইনা। রাগ করে
কুম্ভকর্ন বলে, “মোবাইল এটা ধরতে যদি এতোই কষ্ট, তবে ফেলে দাও”। আমার কিছুই যায় আসেনা।
মেজাজটা খিচড়ে যায় যখন আমি নেটে বসি, আর ঐ বকবকানি ফোন গুলো আসে। হয়তো তখন আমি ফার্মএর খেত খামার নিয়ে ব্যাস্ত, কিংবা জাঙ্গল জুয়েল, বাবল পপ নিয়ে হিমসিম খাচ্ছি। তখন কানটা ফোনে রেখে চোখদুটো পিসিতে দিয়ে আমি কথা বলি। মন কোথায় থাকে আল্লাহ মালুম! সেদিন এমনি ফোন এসেছে। ঃ ভাবী কি করেন? ঃ না, এইতো বসে আছি।
( তখন আমি ব্লগে দুরন্ত শ্বপ্নচারীর পোষ্ট পড়ছিলাম) ঃ ভাবী জানেন, আজ আমি বাথরুমে পড়ে গিয়েছি। ঃ হি হি হি
ঃ আমি পড়ে গেছি, আর আপনি তা শুনে হাসছেন? ভাবী? ( অভিমানের ইমো) আমার তো মাথায় বাড়ি, কি করে বলি, তখন আমি দুরন্ত আর কাব্যের অসাধারন ভাষা প্রতিভায়
মুগ্ধ হয়ে হেঁসেছিলাম। ছোট জা, আমার চাইতে কম করে হলেও বিশ বছরের ছোট, মনে কত দুঃখ পেলো।
আমি আমতা আমতা করে বললাম, “আরে তোমার কথায় হাঁসবো এটা তুমি ভাবলে কি করে? “তাহলে আমার পড়ার কথায় আসলেন যে?” জায়ের অভিমানী কন্ঠ। শোনো, তোমার সাথে কথা বলছি, আর জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম।
দেখি সামনের বাসার চাচামি্যা নাতিদের দৌড়ান দিয়েছেন, তাই হাঁসি পেলো। তুমি ভাবলে কি করে, তোমার পড়ার কথা শুনে আমি হাঁসবো? এমনি আরো কত ঘটনা হয়েছে। কথা শুনেই যাচ্ছি, হু হা করে, চোখ তো ব্লগে। যদি ঐ ফোন গুলো সংখিপ্ত হোত, তবে আমি অবশ্যই নেটের সামনে থেকে সরে কথা সারতাম। দিনের মাঝে কম করে হলেও সাত/আটবার ফোন।
উফ!!! আমি পাগল হয়ে যাবো।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।