অকাট মূর্খ যাকে বলে আমি তাই। সুতরাং জ্ঞানীরা বেশি জ্ঞান দিলে আমি চাইয়া চাইয়া দেখা ছাড়া কিচ্ছু করতে পারিনা। পোড়া কপাল!!
---------------------------------------------------------------------------------
এই পোস্ট পড়ে কারো খারাপ লাগলে বা কারো মতের বিপক্ষে গেলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আশা করি নিজগুনে ক্ষমা করে দেবেন।
---------------------------------------------------------------------------------
যাকে বলে কোন গুন নেই এমন একটা মানুষ আমি।
কোন গুন নেই মানে কোন গুনই নেই। তো অনেক দিন আগে এ ব্যাপারে তত্ত্ব তালাশ চালিয়েছিলাম যে "কোন গুন নেই" এমন মানুষকে কি বলে?অনেকেই বলেছেন পুরুষের ক্ষেত্রে "গুনহীন" আর নারীদের ক্ষেত্রে "গুনহীনা" বলে। কিন্তু শব্দ দুটো আমার কেন যেন পছন্দ হয়নি। গুনহীন বা গুনহীনা! কেমন যেন সাহিত্য সাহিত্য গন্ধ শব্দ দুটোতে। অবশেষে একদিন গেস্ট রুমে হলের সিনিয়রদের ঝাড়ি খেতে খেতে হঠাৎ চমকে উঠলাম।
এক বড় ভাই আমাকে বলল "তোর কোন গুন নেই, তার মানে তুই বেগুন"। বাহ্! যার গুন নেই সে তাহলে বেগুন!কথাটা বেশ মনে ধরল। কিন্তু গুনহীন এর স্ত্রী লিঙ্গে তো গুনহীনা হয়, বেগুনের কি তাহলে বেগুনা হবে?প্রশ্নটি মনে আসলেও করার সাহস পাইনি। আবার এই ভেবেও অবাক লাগল, যার কোন গুন নেই সে বেগুন, এই অদ্ভুত কথাটাও বা ওই ভাইয়ের মাথায় কিভাবে আসল! অবশেষে অনেক অনুসন্ধানের পর আবিষ্কার করলাম ওই ভাইয়ের ছিল প্রচন্ড এলার্জির সমস্য!!
শুধু বেগুন হলে না হয় হতো। আমার আরো সমস্যা আছে।
যেমন আমি যুগের সাথে তাল মেলাতে পারিনা। এ এক মহা সমস্যা। যুগ যখন ফুয়াদ-মিলা'দের নিয়ে মাতোয়ারা আমি তখন সতীনাথ- খুরশিদ আলমে মত্ত। যুগ যখন "থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার" এর অতি আধুনিকতায় বিমোহিত হয়ে চিকেন শর্মায় ঝড় তোলে আমি তখন "পথের পাঁচালী" কিংবা "জীবন থেকে নেয়া"র গল্পে চায়ের কাপে ঝড় তোলায় ব্যস্ত। যুগ যখন ছেঁড়া-ফাটা, তালি মারা জিন্সের কল্যানে স্মার্ট, আমি তখন নরমাল প্যান্টের পকেটে হাত ঢুকিয়ে বাতাস খেয়ে বেড়াই।
যুগ যখন অলস সন্ধ্যাগুলো বারের নিভু নিভু আলোতে হার্ড ড্রিঙ্কসের সাথে সখ্যতা করে কাটায়, আমি তখন "সেভেন আপ" এ চুমুক দিয়ে বলি আহ্!যুগ যখন চায়নিজ খাবার খেতে খেতে মুখ দিয়ে চায়নিজ ঢেঁকুড় তোলে আমি তখন দু'টো শুকনো মরিচ আর এক প্লেট পান্তা ভাত খেয়ে তৃপ্ত। মহাপরাক্রমশালী এ যুগের সাথে তাল মেলাতে পুরোপুরি ব্যর্থ আমি। কিন্তু যে যুগের এত ক্ষমতা সেই বা আমার মত "যুগদ্রোহী"কে এত সহজে ছাড়বে কেন?ফলশ্রুতিতে আমি যুগ কর্তৃক গ্রেফতার এবং সরাসরি ইন্টারোগেশন সেলে।
যুগ শুধায় "কী হে যুগদ্রোহী, কেমন আছ?"আমি মিন মিন করে বলি "জ্বি হুজুর ভাল"।
গলাটা আরেকটু গম্ভীর করে যুগ বলে "তোমার নাকি ফুয়াদ-মিলা'দের ভালো লাগেনা?তুমি নাকি সতীনাথ- খুরশীদ আলমে ডুবে থাক সারাক্ষন?
আমি কিছু বলিনা।
নিরবতাই সম্মতির লক্ষন ধরে নিয়ে যুগ বলে "ফুয়াদ- মিলা'দের গানের আর্ট, রিদম বোঝার মত মস্তিষ্ক তোমার হয়নি। ওই আনস্মার্ট সতীনাথ- খুরশীদ আলমের হারমোনিয়ামের প্যাঁ প্যাঁ সুরের সাথে ভ্যা ভ্যা করে গাওয়া গান তো তোমার ভালো লাগবেই। গাধা কোথাকার"।
আমি মাথা নিচু করে থাকি।
"কী, কথা বলিস না কেন?" কঠোর কন্ঠের সাথে সাথে তুমি থেকে একেবারে তুই তে চলে গেলেন যুগ মহাশয়।
থতমত হয়ে জবাব দেই, "হুজুর আপনি ঠিকই বলেছেন!"
"থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার" এর মত আধুনিক ছবি নিয়া তোর সমস্যা, না?তুইতো গাধা, আহাম্মক। স্মার্টনেস, আধুনিকতা, এগিয়ে যাওয়া এর তুই কী বুঝবি!পথের কি যেন বললি, ও হ্যা মনে পড়েছে পথের পাঁচালী। তুই কি ভেবেছিস আমি দেখিনি ও ছবি?আমিও দেখেছি ওই ছবি। সময়টাই নষ্ট। গ্রামের মধ্যে ব্যাঙের ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ, পুরো ছবিতেই তো ওই।
গ্ল্যামারের কোন ছিটে ফোটাও আছে?আর কথা না হয় বাদই দিলাম!আর তার সাথে "থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার"এর তুলনা করিস তুই?!"
আমি চিনচিনে গলায় কিছু বলতে চাইতেই "খামোশ!!!তুই একটা কথাও বলবিনা। তোর মত আহাম্মক আমি জীবনেও দেখিনি। আমার মেজাজ চড়ে যাচ্ছে!" নিষ্ঠুর হয়ে আসে যুগের কন্ঠ।
আমি চুপ করে বসে থাকি।
আবার শুরু করে যুগ, "জিন্সের প্যান্টে তোর সমস্য।
যখন নরমাল প্যান্ট পরে পকেটে মোবাইল নিস, তখন তো কল আসলে টের পাসনা। জিন্সে সেই ঝামেলা আছে? তাও তোর জিন্স ভাল্লাগেনা! লাগবেই বা কীভাবে তুই তো জন্ম থেকেই ক্ষ্যাত"
আমি বলি "জাঁহাপনা, জিন্স ভালো মানছি কিন্তু ছেঁড়া ফাটার কি কারন?"
"বেয়াদব, আমার কাছে প্রশ্ন করে" বলেই এক থাপ্পড়ে আমার ডান গালটা টকটকে লাল করে দেন তিনি।
আমি থাপ্পড় হজম করে বলি " হুজুরের কথাই ঠিক। নরমাল প্যান্ট পরে আমি কত কল মিস করেছি, কিন্তু জিন্স পরে আবার কত মিস কলকেও কল মনে করে ধরে ফেলেছি! সুতরাং জিন্স ভালো না হয়ে যায়ইনা। আর ছেঁড়া-ফাটা থাকলে বাতাস ঢুকতে সুবিধা হয়, আমার তা আগেই বোঝা উচিৎ ছিল!আমি ক্ষমাপ্রার্থী"
"হার্ড ড্রিঙ্কস নিয়ে তোর সমস্য, না?" নাছোড়বান্দা যুগ শুরু করে।
"সমস্যা তো হবেই। হার্ড ড্রিঙ্কস এর দাম জানিস তুই, শালা ভিখারী?তুই খাবি কিভাবে?সেভেন আপ'ই তোর উপযুক্ত। "
আমি বলি "হক কথা বলেছেন মহারাজ। আমি ওর বেশি কিছুর যোগ্য নই"।
পায়চারি করতে করতে যুগ বলে "চাইনিজ খেতে ভাল্লাগেনা তোর! লাগবেই তো না।
কুত্তার পেটে ঘি সইবেই তো না। এতে আর আশ্চর্য কী!তোর মত চাষার বংশ পান্তাভাতই তো খাবে। ঠিকই আছে। বরং তুই যে চায়নিজ এর নাম মুখে এনেছিস এই অপরাধেই তোকে কতল করা উচিৎ"।
আমি বলি, "খোদাবন্দ, আমি কুত্তা, বিড়াল, খেঁকশিয়াল সব।
আমার পেটে পান্তা ছাড়া আর কিছু হজম হয়না। এবারের মত মাফ করেন আমাকে। "
"তোর মাফ নেই, বেত্তমিজ। তোর যাতে যাতে আপত্তি আছে তার সবই এখন থেকে তোকে করতে হবে। এটাই আমার বিচারের রায়।
"-বলে যুগ।
আমি বলি "আলামপনা, এ যে আমার পক্ষে কষ্টকর। আপনার রায় মানতে হলে তো তো নিজের সাথে নিজেকে হিপোক্রেসি করতে হবে। "
"এটাই আমার রায়। আমার রাজ্যে থাকতে হলে হিপোক্রেট হয়ে থাকতে হলেও তাই হবি।
আরো কত জনেই তো হিপোক্রেট হয়ে আছে। হিপোক্রেটদের সংখ্যাই তো বেশি আমার রাজ্যে। তারা তো ভালোই আছে। তাদের তো আমি ভালোই রেখেছি। সুতরাং তুইও হবি।
তোকে হতেই হবে"!!
চোখ মেলে তাকাতেই দেখি ভোরের আলো ফুঁটেছে। এতক্ষন তাহলে স্বপ্ন দেখছিলাম। এসব সত্যি নয়। আমাকেও আর হিপোক্রেট হতে হবেনা ভাবতেই খুশিতে মুখে একটা হাসি ফুটে ওঠে। কিন্তু পরক্ষনেই তা আবার মিলিরেও যায়।
যুগ না হয় রক্ত মাংসের রূপ ধরে আমাকে স্বপ্নে রায় দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবের আরো রূঢ় যুগ তো আমাকে হিপোক্রেট না বানিয়ে ছাড়বেইনা। এ যুগের সাথে তো আমাকে তাল মেলাতেই হবে। এ যুগের রায় যে আরো বেশি নিষ্ঠুর।
ভাবতেই মাথাটা ঝিম ঝিম করে ওঠে।
সদ্য উদিত সূর্যটার আলো আমার চোখ দু'টিকে ঝলসিয়ে দেয়। আমি বালিশে মুখ গুজি
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।