এভাবেই ভালোবাসা পুড়ে পুড়ে যায়..
অর্থহীন মায়ার দৌরাত্বে যখন হয়েছি ক্লান্ত ; তখনি চোখের গাঢ় আলোয় দেখেছি অন্ধকার । কেবলি ঘাড়ের উপর লেপ্টে থাকা দায়িত্বের বোঝা ক্রমশ ভারী থেকে ভারীতর হয়েছে । আমার চারপাশ মোড়ানো মায়ার জাল ভেদ করে বেরিয়ে আসতে পারিনি । আসলে পারা না পারার
ব্যাপারটা সম্পূর্ন আপেক্ষিক । হয়তো জীবন শুরুর লগ্নে নিজেকে ঠিক এই জায়গায় আবিষ্কার করতে চাই নি ,কেউই তা চায় না ।
আমার এক জোড়া কিশোরী চোখ খুঁজছিল --এক মুঠো নীল আকাশ ,তাতে উড্ডীয়মান শাদা পায়ড়া । মাতাল করা সোনা রোদ ভেসে বেড়াতো দুই বেনীর আল বেয়ে ,
ঝালড় দেওয়া ফ্রকের ভাঁজে তেঁতুল আচার । সেখানে আক্রশ বলে কিছু ছিল না । এখন এখানে জমাট বেঁধেছে ক্রোধের ভাঁজ , ফ্রকের ভাঁজের সংখ্যা ছাড়িয়েছে বহু আগেই। সময়ের বেড়াজালে নিজেকে আষ্ঠেপৃষ্ঠে বাঁধা ছাড়া আর কিই বা করার আছে ; পরিধি দেওয়া বৃত্তের মধ্যেখানে
কেবল ঘুড়পাক খাওয়া ।
ভেঙে ফেলার যে ক্রোধ প্রতিদিন মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে ,একটা চার গ্রাম ক্লোবামের কাছে পরাজিত হয় অন্তত ছয় ঘন্টার জন্য ।
আড়মোড়া জেগে ওঠে আর একটি সকাল । সব্জিওয়ালার বিরামহীন সাইরেন আর দেশী মুরগীর হাঁক-ডাক কানের পর্দা কাঁপিয়ে জানান দ্যায় -এটাই বাস্তবতা । চোখ মেলবার আগেই তিন পাখার ঘূর্নণ বন্ধ হয়ে যায় ,বিদ্যুৎতো হাপিয়ে উঠেছে । ৩৩ বৎসরের পুরনো মুখ আয়নার ঘোলা কাঁচে দেখতে দেখতে কলের চাকায় হাত রাখি ;ওখানে কেবল শূণ্য বাতাস ।
এ শূণ্যতা বুঝি সব খানেই । কারো হয়তো খোলা থালায় ,কারোবা চামড়ার খাঁজ কাটা মানিব্যাগে । কারো কারো নিস্তব্ধ বিছানায় । জীবনের পথ কখন কোথায় এসে বাঁক নেবে কে বলতে পারে ; না ,কেউ পারে না ।
এতো কিছুর মাঝেও কারো শূণ্য গোলা ভরে ওঠে প্রাচূর্যে ,সুসজ্জিত অট্টালিকায় অথবা আলো ঝলশানো শপিংমলে ।
দিনের তিন প্রহর এক রুটি দিয়ে কাটিয়ে কেউ আত্মতৃপ্তি খোঁজে । কেউ হয়তো দুঃখ বিলাসী
রোগে আক্রান্ত কোন এক অজানা কারনে ঠিক আমারি মতোন ।
তবু অসহিষ্নু চোখ বার বার পেছন ফিরে চায় -যেখানে টুকরো কিছু স্মূতি ছাড়া জমিয়ে রাখবার মতো আর কিছুই নেই । ওটা আবার স্পর্শ করতে পারবো বলেই কি বেঁচে থাকা ?হবে হয়তো ।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।