আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

হে সাম্যবাদী , তুমি নাকি এখনও "ইসলামী (!) কবি" !!!!

ধর্মান্ধ মুমিন বান্দাদের লন্ডভন্ড করব ! পাকিস্তানে নজরুলসংগীতের চর্চা শুরু হয়েছিল ইসলামী গান দিয়ে। তার পেছনে মুল উদ্দেশ্যই ছিল সাম্প্রদায়িকতার সলতেটাকে আরেকটু উসকে দেয়া । মূলত রবীন্দ্রনাথকে হিন্দুদের কবি আখ্যা দিয়ে তার সাহিত্যকে নিষিদ্ধ করার অপপ্রয়াস । তখনকার গাওয়া ইসলামী গানের সংখ্যা-যে খুব বেশি ছিল, তা নয়। গোটা বিশ-পঁচিশেক গান ঘুরে-ফিরে গাওয়া হত।

নজরুল-রচিত অন্যান্য প্রকারের গান-যে কিছু গাওয়া হত না, এমন বলাটা ঠিক হবে না; তবে প্রাধান্য পেত ইসলামী গান। সে-প্রাধান্য এমনই-যে, অন্যদের রচিত ইসলামী চেতনার গানগুলোকেও নজরুলের মনে করা হত বা নজরুলের বলে চালিয়ে দেওয়া হত;যেন ইসলামী গান মানেই নজরুলের গান অথবা নজরুলের গান মানেই ইসলামী গান। উদাহরণত বলি, ‘জাগো মুসাফির রাত পোহাল, চল্ মদিনা রাহে গানটির কথা সাঈদ সিদ্দিকীর, কিন্তু গাওয়া হত নজরুলের বলে ! পাশাপাশি নজরুলের ভিন্ন ধাচের কিছু গানের হাস্যকরভাবে এবং অন্যায়ভাবে ইসলামীকরণ হয়েছিল, যেমন, ‘সজীব করিব মহাশ্মশান’ স্থলে ‘সজীব করিব গোরস্তান’ । তারপর ‘সখী নির্মল কুলে মোর কৃষ্ণ কালি’ স্থলে ‘সখী নির্মল কুলে মোর মজনু কালি’; ইত্যাদি । ভাবা যায় ? একজন বিশ্বনন্দিত কবির সৃষ্টিকর্মকে কি নির্লজ্জভাবে বিকৃত করা হয়েছিল ! কিন্তু সেটা কি টিকিয়ে রাখতে পেরেছিল ওরা ? বাঙ্গালী তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য প্রতিরোধ গড়ে তোলে ।

রবীন্দ্রসঙ্গীত নিষিদ্ধকরণের ফলে এর চর্চা আরও বেড়ে যায় । রবীন্দ্র-নজরুলকে বাঙ্গালী দু'হাত বাড়িয়ে কাছে টেনে নেয় একসাথে । এইরকম পরিস্থিতিতে ইসলামী কবি হিসাবে নজরুলকে টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড় । সেই কারণে ইসলামী গানের পাশাপাশি নজরুলের অন্যান্য প্রকার গানের অনুশীলন-পরিবেশন বাড়তে থাকে । পাকিস্তানি শোষণের অনিবার্য পরিণতিতে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ ।

কবি নজরুলের বিদ্রোহী গানগুলো তখন বাঙ্গালী তথা মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে এক অব্যর্থ মারণাস্ত্র হয়ে দাঁড়ায় । মুক্তিবাহিনীর ক্যম্পে নজরুলের রণসঙ্গীত দেশপ্রেমে উদ্বেলিত , উদ্দীপ্ত করে তোলে দেশের সূর্যসন্তানদের । স্বাধীন বাংলা বেতার থেকে শুরু করে বাঙ্গালীর মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে নজরুলের রণসঙ্গীত । সেই সাথে বিশ্বকবির গান "আমার সোনার বাংলা" জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে স্বীকৃত হলে বাঙ্গালীর মাঝে এক অদৃশ্য রাখিবন্ধন হয় । স্বাধীনতার পর স্পষ্টত ৭২-৭৩ থেকে নজরুলের ইসলামী গানের কদর কিছু-কিছু করে কমতে থাকে।

অতঃপর ইদানীং দেখা যাচ্ছে, তাঁর ইসলামী গানের মধ্য থেকে আর-গুলো বাদ দিয়ে শুধু কয়েকটা হাম্দ্ ও না’তের পরিবেশন হচ্ছে, তাও শিল্পীর একান্ত অনুষ্ঠানে নয়, শবেবরাত শবেকদর আশুরা মিলাদুন্নবী শোকদিবস পালনে আর প্রাকৃতিক দুর্যোগে পতিত মানুষের প্রতি সমবেদনা জানাবার পন্থা হিসেবে। তাহলে নজরুলের ইসলামী গানের কদর এভাবে কমে গেল কেন ? এটা নিতান্তই আনাদর বা অবহেলাজনিত ? নাকি মানুষ অনাগ্রহী হয়ে পড়েছে ইসলামী গানের প্রতি ? একটি ঘটনা এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে- বাংলা একাডেমির কোনো এক অনুষ্ঠানে মোস্তফা জামান আব্বাসী যেই-মাত্র “আল্লা’তে যার পূর্ণ ঈমান কোথা সে মুসলমান” গানটা ধরেছেন অমনি শ্রোতৃবর্গের একটা বড় অংশ প্যান্ডেলের আসন ছেড়ে চলে যেতে থাকে । শ্রোতাদের এই বিমুখতার কারণ কি ? আমার বিশ্বাস যে বাংলার মানুষ কখনই ধর্মবিদ্বেষী নয় । অনেকগুলো ধর্মীয় সম্প্রদায় পাশাপাশি শান্তিপূর্ণভাবে অনেক বছর ধরে বসবাস করে আসছে যেটা আমাদের অনেকগুলো গর্বের অন্যতম । আমার মনে হয় বাঙ্গালী এখনও ধর্মটাকে ব্যক্তিগত বিষয়রুপেই গ্রহণ করেছে ।

তাই বাঙ্গালীর ঐতিহ্য সংস্কৃতির সাথে সংশ্লিস্ট কোন জায়গায় ধর্মীয় ট্যাগ লাগালে বাঙ্গালী সেখান থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় । কিন্তু আজও সেই স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিরা নজরুলকে ইসলামী কবি প্রমাণে ব্যাস্ত । বাঙ্গালী জবাব দিতে জানে । প্রজন্ম চত্তরে এই প্রজন্মের যোদ্ধারা মুষ্টিবদ্ধ হাত শুন্য ছুঁড়ে তাল মেলাত নজরুলের রণসঙ্গীতের সাথে । আবার বুকে হাত রেখে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে গাইতে অঝোরে কাঁদত ওরা ।

. বাঙ্গালি জানে দেশকে ভালবাসতে । বাঙ্গালী জানে মা কে ভালবাসতে । বাঙ্গালী জানে তার ঐতিহ্য সংস্কৃতিকে রক্ষা করতে । আমি গর্বিত আমি বাঙ্গালী । ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।