মরণ আমার ভালো লাগে
পটভূমি
আল-আন্দালুজ [Al-Andaluz] - ৭১১ সালের এক কাকভোরের আধো অন্ধকারে মুসলিম সেনাপতি তারিক ইবন জিয়াদ স্পেনের উপকুলের 'মঁ ক্যাল্পে' নামক পাথুরে দ্বীপে তাঁর মুষ্টিমেয় সেনাদল নিয়ে অবতরন করেন। অব্যবহিত পরেই তাঁর প্রথম কাজ হয়, যে ছোট ছোট জাহাজগুলো নিয়ে তাঁরা এসেছিলেন, সেগুলোকে পুড়িয়ে দেয়া। এর ফলে তাঁর সৈনিকরা বুঝতে পারে যে, তাঁদের পায়ের নীচের এই দেশটি জয় করা ছাড়া তাঁদের আর কোনও গত্যান্তর নেই। তাই ঘটে। সুদীর্ঘ ৮ বছর মেয়াদী যুদ্ধ, খণ্ডযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ইবেরিয়ান পেনিনসুলায় (অধুনা স্পেন, পর্তুগাল, অ্যান্ডরা ও জিব্রালটার) উমাইয়া খেলাফত প্রতিষ্ঠিত হয়।
'মন্স ক্যাল্পে' এর নামকরন হয় জিব্রালটার (জবল তারিক)।
ইবেরিয়ান পেনিনসুলায়, উমাইয়া খেলাফত তথা মুসলিম শাসন প্রায় ৮০০ বছর বিস্তৃত ছিল। এই সময়কালে করডোভা, টলেডো ও গ্র্যানাডা কেন্দ্রিক খেলাফত ও আমিরাত প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৪৯২ সালে গ্র্যানাডা পতনের মধ্য দিয়ে মুসলিম শাসনের অবসানের পূর্ব পর্যন্ত ইবেরিয়ান পেনিনসুলায়, বিশেষত স্পেনে মুসলিমরা যথার্থ সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে।
মুসলিমরা, ইবেরিয়ান পেনিনসুলাকে বলত আল-আন্দালুজ , যার অর্থ, বর্বরের দেশ (Land of the Vandals)।
কিন্তু মুসলিমদের জ্ঞান ও সংস্কৃতির প্রতি অনুরাগের কারনে ও যথার্থ আনুকূল্যে, সেই মধ্যযুগেই, স্পেনে জ্ঞান, বিজ্ঞান, দর্শন, শিক্ষা ও সংস্কৃতির স্বর্ণযুগের সুচনা হয়। একাদশ শতাব্দির মধ্যেই টলেডো, ইউরোপের সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক রাজধানীতে পরিণত হয়। সেই সময়কালে টলেডোর লাইব্রেরী ও অনুবাদকেন্দ্রগুলোর মাধ্যমেই প্রাচীন বই ও ম্যানুস্ক্রিপট অনূদিত হয়ে ইউরোপে ছড়িয়ে পরে, যার আলোকেই পরবর্তীতে ইউরোপের তথা মানবসভ্যতার নবযুগের সূচনা হয়।
আল-আন্দালুজে শিল্প, সংস্কৃতি ও সঙ্গীত
সে সময়, করডোভা ও টলেডোর রাজদরবারে, মুসলিম, খ্রিষ্টান, ইহুদী নির্বিশেষে সকলের ছিল সমান সমাদর। শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী, বিজ্ঞানী, শিল্পী, চিত্রকর, গায়ক, বাজনাদারদের প্রতি ছিল খেলাফতের তথা রাজকীয় আনুকূল্য।
সমাজে ছিল শান্তি, সৌহার্দ্য ও ধর্মীয় সহিষ্ণুতা। মুসলিমরা তাঁদের আরবি ভাষা, খ্রিস্টানরা তাঁদের স্প্যানিশ ও ল্যাতিন ভাষা ও ইহুদীরা তাঁদের সেফারদি ভাষা নিয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করত। ফলে, ব্যবসা, বানিজ্য থেকে জ্ঞান, বিজ্ঞান, শিক্ষা, সংস্কৃতি সব ক্ষেত্রেই আশাতীত বুৎপত্তি অর্জিত হয়। সেকালে, যথারীতি, মুসলিমরা তাঁদের আরবি ভাষা, খ্রিস্টানরা তাঁদের স্প্যানিশ ও ল্যাতিন ভাষা ও ইহুদীরা তাঁদের সেফারদি ভাষায় সাংস্কৃতিক ও সঙ্গীত চর্চা করত। এর মধ্যে 'আরবি' ও 'স্প্যানিশ' ভাষা আমাদের জন্য সহজবোধ্য নয়, 'ল্যাতিন' ভাষা যথেষ্ট সংরক্ষিত ও প্রায় অব্যবহৃত এবং 'সেফারদি' ভাষা অধুনা অবলুপ্ত।
তবুও সেই কালজয়ী সঙ্গীত, স্থান কাল পাত্র ভেদে, শত শত বছরের ব্যবধানেও মানবহৃদয়কে আপ্লুত করে চলেছে।
আল-আন্দালুজ প্রজেক্ট
তিনটি দেশের তিনটি মধ্যযুগীয় সঙ্গীত চর্চাকারী দল (জার্মানির 'এস্তাম্পি', স্পেনের 'ল'হ্যাম দে ফক' ও মরক্কোর 'আমান আমান') -এর যৌথ প্রয়াসে ২০০৬ সালে আল-আন্দালুজ প্রজেক্ট একটি মধ্যযুগীয় সঙ্গীতের ক্রস-কালচারাল ব্যান্ড হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। ব্যান্ডটির বিশেষত্ব হল, তাঁদের ব্যবহার করা সকল বাদ্যযন্ত্রই মধ্যযুগেও ব্যবহৃত হতো। যেমন, সাজ , উদ , ফিডেল বা ভিয়েলে , রেবাব , হার্ডি-গার্ডি, নাইকেলহারপা ও কানুন, লাফতা, চিটোলা, দিলরুবা।
অসাধারণ মধ্যযুগীয় কম্পোজিশন ও যন্ত্রসঙ্গীতের পাশাপাশি, ব্যান্ডটির মূল শক্তি হল, তিন মূল কণ্ঠশিল্পীর (সিগ্রিড হসেন, মারা আরান্দা ও ঈমান আল কান্দুসি) অবিস্মরণীয় পারফরম্যান্স।
এপর্যন্ত ব্যান্ডটির দুটি অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে :
১। দেউস এত্ দিয়াবোলুস (২০০৭)
২। আল- মারায়া (২০১০)
আল-আন্দালুজ প্রজেক্ট - লাইন-আপ
সিগ্রিড হসেন - ভোকাল, ফ্লোটা ডুলচে বা ফ্লুট
মারা আরান্দা - ভোকাল
ঈমান আল কান্দুসি - ভোকাল
মাইকেল পপ - ভোকাল, উদ, সাজ, ফিডেল, টার, লাফতা, দিলরুবা
আরন্সট শুইনডল - হার্ডি-গার্ডি, পোরটাটিভ অরগ্যান, হারমোনিয়াম
হুয়ান মোর্যাল - সন্তুর, উদ, সাজ
আজিজ সামসাওয়ি - কানুন, ভায়োলিন, উদ
ইওতা মারতিনেজ - হার্ডি-গার্ডি, চিটোলা
শাচা গটয়উতচিকো - পারকাসন
জতিন্দর ঠাকুর - তবলা
ও আরও অনেকে।
আল-আন্দালুজ প্রজেক্ট - আল-মারায়া
কোয়ালিটি - ১৩০ কেবিপিএস ভিবি আর এমপি৩
ফাইল সাইজ - ৬৪ মেগাবাইটস
ডাউনলোড - এড্রাইভ থেকে
পাসওয়ার্ড - samu
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।