কাপুরুষের শেষ আশ্রয় হল দেশপ্রেম
গল্পটা নাকি সত্যি। ঘটনার স্থান রাজশাহীর কোন এক অঞ্চল।
এক গ্রামে হঠাৎ চোরের উপদ্রব বেড়ে গেল। প্রায়ই বিভিন্ন বাড়ি থেকে বিভিন্ন জিনিস চুরি হচ্ছিল। কোনভাবেই চোরটাকে ধরা যাচ্ছিল না।
অবশেষে একদিন সেই চোর এক বাড়িতে কলা চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ল। চোরের বিচারের ভার পড়ল গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তি, মানে নেতাদের উপর। পুরো গ্রামে জানিয়ে দেয়া হল ওমুক দিন ওমুক স্থানে চোরের বিচার হবে।
এদিকে সেই চোর এবং তার বউ খুব টেনশনে পড়ে গেল। বিচারে নির্ঘাত শাস্তি, তার উপর অপমান।
চোরের বউ তখন একটা বুদ্ধি বের করল। বিচারের আগের দিন সে গিয়ে গ্রামের নেতাদের মধ্যে সবচেয়ে ধুরন্ধর যে জন তার পায়ের কাছে গিয়ে পড়ল, সাথে নিয়ে গেল বখশিশ মানে ঘুষ। কাকুতিমিনতি করে ঐ নেতার কাছে ফরিয়াদ জানাল, যেভাবেই হোক তার স্বামীকে রক্ষা করতে হবে। নেতা প্রথমে রাজি হয়ই না, পরে অনেক ভেবেচিন্তে চোরের বউকে বাড়ি চলে যেতে বলল।
পরেরদিন যথানিয়মে বিচার বসল।
নেতারা রায় দিল ১০০ জুতার বাড়ি। কিন্তু ঐ নেতা এতক্ষণ চুপচাপ বসে ছিল। রায় ঘোষণা হওয়ার পর সে উঠে দাঁড়াল এবং সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে বলল-
ভাইসব! আপনারা জানেন আমাদের গ্রামে বাড়িতে বাড়িতে চুরি! চুরির যন্ত্রণায় পুরো গ্রাম অস্থির! এত ভোগান্তির পর যে চোর ধরা হল তার শাস্তি হল মাত্র ১০০ জুতার বাড়ি! আপনারাই বলেন, এটা কি ন্যায্য বিচার? এই ১০০ জুতার বাড়ি দিলেই কি আমরা চুরি হওয়া জিনিসের কষ্ট ভুলে যাবে? আপনারাই বলেন, এই বিচার কি মানা সম্ভব?
সমবেত জনতার মধ্যে গুঞ্জন শুরু হল। সেই গুঞ্জন দ্রুতই কোলাহল, শেষে হট্টগোলে পরিণত হল। সবাই প্রতিবাদী হয়ে উঠল।
না! এই বিচার মানি না!! শুরু হল নেতা ও জনতার অনুসারীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া!
বিচার পন্ড! নেতারা পালালো একদিকে আর চোর তার বউ সমেত নির্বিঘ্নে সটকে পড়ল! ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।