আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

আমিষ-ই-নিরামিষ



আমরা বলি বর্তমানের যুগ বিজ্ঞানের যুগ। সমস্ত কিছুই বিজ্ঞান ভিত্তিক। সেটা আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস থেকে শুরু করে সকল জিনিস। কিন্তু আমার প্রশ্ন হল “আমরা কতজন এই বিজ্ঞানকে অনুসরন করি? বিজ্ঞানের কথা শুনি?” বাল্য বিবাহের কথা আমরা সকলেই শুনেছি। রাজা রামমোহন রায় (১৮১৮-১৮২৫খ্রী বাল্যবিবাহ সহ নানারকম সামাজিক কু-প্রথার বিরূদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিলেন।

কিন্তু আজ ২০১০ সালেও আমাদের সমাজ থেকে বাল্যবিবাহকে পুরোপুরি রদ করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে বাল্যবিবাহ না দেওয়ার বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্যও রয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় অনেক গ্রামের কথা যেখানে এখনও ছোট ছোট মেয়েদের বিয়ের পিড়িতে বসতে হয়। শুধু গ্রামই নয় আমার দেখা এমন অনেক মেয়ে আছে যারা আমাদের বিদ্যালয়েরই ছাত্রী ছিল। কিন্তু কপালের সিঁদুর তাদেরকে শিক্ষা থেকে সরিয়ে দিয়েছে অনেক দূরে।

আমি নাম না বললেও তোমরা চিনতে পারবে তাদের। তাদের মধ্যে একজন ছিল ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী এবং অপরজন অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী। তাদের আর পরের শ্রেণীতে পড়তে দেখা গেল না। তারা এখন কপালে সিঁদুর আর শাড়ি পরে শিক্ষাকে বিসর্জন দিয়ে সংসার করছে। এরকম অনেক উদাহরণ দেওয়া যায় যা বিজ্ঞানকে লঙ্ঘিত করে।

এখন আসা যাক প্রবন্ধের নামের বিষয় বস্তুর দিকে(“আমিষ-ই-নিরামিষ”)। নামটা কি রকম অদ্ভুদ না? এর ক্ষেত্রেও কিন্তু আমরা বিজ্ঞানকে অনুসরন করি না। আমরা সকলেই জানি আমিষ ও নিরামিষ দুটি খাদ্যের বিভাগের নাম। কিন্তু এই দুটি নামের ক্ষমতা অনেক বেশী। যেমন আমরা যদি কাউকে জিজ্ঞেস করি- “তোমাদের বাড়িতে আজ কি রান্না হয়েছে?” উত্তরস্বরূপ সে বলবে মুগ ডাল, পনিরের তরকারি, ভাত ইত্যাদি।

কিন্তু সে এই খাবারের নামগুলো না বলে যদি সে বলত আমাদের আজ নিরামিষ। তাহলে আমরা বুঝে যেতান কি কি খাবার হয়েছে তার বাড়িতে। কমবেশী আমরা হিন্দুধর্মাবলী সকলেরই বাড়িতে দু তিন দিন নিরামিষ খাবার খাওয়ার ব্রত থাকে। সেই দিন আমরা মুগডাল, পনিরের তরকারি, সয়াবিন এককথায় বলা যায় মাছ, মাংস, পেঁয়াজ বা আমিষ জাতীয় খাদ্য বাদে সব খাওয়া যাবে। যেমন দুধ, মাখন, ছানার পনির, মিষ্টি ইত্যাদি।

কিন্তু আমিষ জাতীয় খাদ্য নিরামিষের দিন একদম খাওয়া যাবে না। শুনলে অবাক হবে বিজ্ঞানের মতে দুধ, ছানার পনির, মাখন, ঘি এইসব কিন্তু আমিষ জাতীয় খাদ্য যা আমরা নিরামিষ হিসেবে খাই। তাহলে নিরামিষ জাতীয় খাদ্যই আমিষ জাতীয় খাদ্য হোলোত। এতদিন আমরা সপ্তাহে একদিন বা দুদিন ঠাকুরের ব্রত পালনের জন্য নিরামিষ জাতীয় খাবার খেতাম সেগুলোত আসলে আমিষই। আমরা বলছি নিরামিষ খাচ্ছি কিন্তু খাচ্ছি আসলে আমিষই।

আবার আমাদের সৃষ্টি যে খাদ্য গুলো আমিষ জাতীয় খাদ্য যেমন- পেঁয়াজ, রসুন সেগুলো কিন্তু আসলে নিরামিষ। আবার ভাবো মুসুরির ডাল আমরা নিরামিষের দিনে খাই না আবার একই ডাল জাতীয় খাদ্য কলাইয়ের ডাল, মুগডাল আমরা নিরামিষের দিনে খাই। বিজ্ঞানের সংজ্ঞা অনুযায়ী যে সমস্ত খাদ্যে কার্বন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেনের সমন্বয়ে গঠিত তাদের প্রোটিন বা আমিষ জাতীয় খাদ্য বলে। সুতরাং আমরা বিজ্ঞানকে এককোণে সরিয়ে দিয়ে নিজেদের মনেরমত আমিষ ও নিরামিষ জাতীয় খাদ্যগুলোকে এক এক সারিতে স্থান দিয়েছি। তাহলে “আমিষ-ই-নিরামিষ” আবার “নিরামিষ-ই-আমিষ”।

তাই আমাদের এই আমিষ ও নিরামিষের বিজ্ঞানভিত্তিক সংজ্ঞার জন্য লড়াই করতে হবে। প্রাচীনকাল থেকে চলে আসা আমিষ এবং নিরামিষের দ্বন্দ্বের এবার মিমাংশা করতে হবে আমাদেরই। আশা করি তোমরা সবাই তা করবে। শুভম পাল

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।