আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

শত কোরবানীর অন্যরকম উৎসব - লামা থেকে ফিরে



দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল বান্দরবানের লামা । সেখানে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের কোয়ান্টাম পল্লীতে হাজারো দুস্থ বঞ্চিত মানুষের সাথে ঈদ উৎসবে মেতে উঠেছিলেন কোয়ান্টামের সদস্য, শুভানুধ্যায়ী ও অতিথিরা। এ এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। কোয়ান্টামের একজন সদস্য হিসাবে লামার কোয়ান্টাম পল্লীতে এবার কোরবানীতে শরীক হবার সুযোগ পেয়েছিলাম। সমস্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন সেন্টার শাখা সেল থেকে কোয়ান্টামের প্রায় চার শতাধিক প্রো-কোয়ান্টিয়ার (স্বেচ্ছাসেবী) এবার লামা গিয়েছিলেন।

আমরা সেখানে এবার ৯৮টি গরু, ৫টি মহিষা গয়াল (পাহাড়ি মহিষ), ও ১৮ টি ভেড়া কোরবানী করি। এই কোরবানীতে এবার অংশ নিয়েছিলেন কোয়ান্টামের সদস্য , শুভানুধ্যায়ী, সহ সকল ধরনের মানুষ। দেশের বাইরে থেকেও সদস্যরা কোরবানীর টাকা পাঠিয়ে এতে অংশ নেন। ঈদের দিন সকাল ৯টায় আমাদের কোরবানী শুরু হয় এবং আমরা মাগরিবের মধ্যে আমরা প্রায় ৮,০০০ এরও অধিক দুস্থ মানুষের মধ্যে কোরবানীর মাংস বিতরন শেষ করি। অবিশ্বাস্য দ্রুততায় আমাদের এই কাজ সম্পন্ন হবার কারন হচ্ছে শৃঙ্খলা।

চমৎকার শৃঙ্খলার মধ্যে দুই শত প্রো-কোয়ান্টিয়ার কয়েকটি কসাই টিমের সাথে একাত্ম হয়ে কাজ করেন। আমরা এজন্যে ঈদের আগের দিন বিভিন্ন টিমে নিজেদের ভাগ করে এই কাজের জন্য কোরবানীর মাঠে মহড়া দেই। সমস্ত কাজগুলে গরু সংরক্ষণ , গরু জবেহ, এস কাউন্টার, মাংস প্রসেসিং, মাংস প্যাকেজিং এবং মাংস বিতরন এই কয়টি সেকশনে বিভাজন করা হয় এবং প্রতিটা সেকশনে অনেকগুলো করে টিম কাজ করে । প্রতিটা টিমে একজন টিম লীডারের নেতৃত্বে ২-৫জন প্রো-কোয়ান্টিয়ার কাজ করেন। কোয়ান্টাম পল্লীর শিশুকানন স্কুলের মাঠে ঈদের নামাজ পড়ার পরেই যে যার কাজে নেমে যান এবং একটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে কাজগুলো সম্পন্ন হতে থাকে।

আমার কাছে সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার ছিলো এই দুর্গম পাহাড়ী অঞ্চলে কোরবানীর মাংস সংগ্রহ করার জন্য হাজারো মানুষের উপস্থিতি এবং সুশৃঙ্খল অপেক্ষা। দূর দূরান্ত থেকে পাহাড়ী বাঙালী নির্বিশেষে সকল ধর্ম বর্ণের মানুষ মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে এখানে এসে উপস্থিত হন। আশেপাশের দুতিনটি ইউনিয়েনের দুস্থ মানুষেরা আগে থেকে বিতরণ করা টোকেন সহ ঐদিন সকাল থেকে চলে আসেন। পাহাড়ের ফঁাকে ফাঁকে সারিবদ্ধ ভাবে বসে থাকা এই মানুষগুলোর ব্যকুল দৃষ্টির দিকে তাকিয়ে মনে হলো , কোরবানীর শিক্ষা তো এই , আমার সকল আনন্দ ত্যাগের মাধ্যমেই মহানন্দে রূপান্তরিত হতে পারে। কোরবানী মানে মাংস জমিয়ে রাখা নয়, কোরবানী মানে হওয়া উচিৎ বিলিয়ে দেয়া, ত্যাগ করা।

সকল কাজ শেষে আমরা কোয়ান্টিয়ারর যখন খেতে বসি তখন আমাদের আনন্দ তৃপ্তি ছিল এটাই যে , এই ইউনিয়ন এবং আশেপাশের অনেক এলাকা জুড়ে প্রতিটা বাড়িতেই একই সাথে মাংস রান্না হচ্ছে এবং মাংস খাওয়া হচ্ছে। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ - এই ধরনের সত্যিকারের কোরবানী উৎসবের আয়োজন করার জন্য। ভবিষ্যতে যাদেরই সাধ্য আছে , আমরা সবাই এই কোরবানীতে অংশগ্রহন করার মাধ্যমে এই আনন্দে শরীক হতে পারি।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।