এই সন্ধ্যার ফিরতি স্রোতের ভিড়ে তুমি কোথাও নেই
যে স্রোতের বাঁশী আবার আরেকটি ভোরের সুর তোলে।
তুমি কি তবে গভীর রাতের দীর্ঘশ্বাসের ভেতর বিষণ্ণ সেতু হ’য়ে
এই চোখের অলক্ষ্যে দাঁড়িয়ে থাকো- আমারও থেকে বহুদূরে?
ঐ দূরের ছায়ায় যখন তুমি গান গেয়ে ওঠো
তখন সম্পূর্ণভাবে পাই তোমাকে
আর যখন কণ্ঠের নৈ:শব্দচারীতায় একেবারে নীরব থাকো
তখনও তোমাকে চিনে উঠতে পারি পুরোপুরি বিশ্বস্ততায়।
কিন্তু স্রোতের ঘূর্ণন থেকে ধূসর পায়ে উঠে যখন কথা বলে ওঠো
তখন তোমাকে যে কি অচেনা লাগে
এমনই অচেনা - যেন আমি নিজেকেও চিনতে পারিনা।
তবু স্রোতের ভিড়ে আমাদের খুঁজে নিতে হয় পরস্পরকে
নিজের আয়নার ভেতর দাঁড়ানো যে - যদি তার মুখ হয়ে যায় অচিন
অন্যের আয়নায় তখন মানুষ খুঁজে ফেরে আত্ম-প্রতিকৃতি।
ভিড়ের ছায়ায় যখন গ্রাস করে একাকী বিষণ্ণতা
আকাশ তখন তুলে ধরে তাকে- তার অসীম-নির্জন আয়নায়।
যদিও নিজেকে নিজে হারিয়ে ফেলা অচিন মেঘের ভিড়ে
তবু সেই মেঘই তো সাগর থেকে এনেছে দারুন বর্ষা
রোদের তীব্র প্রেমের সকাশে - নিজের ছায়ায় সাথে নিজের দারুন খেলা।
তুমি ঝ’রে যাবে অধ:পাতের নেশায় - আমার ফসলী ক্ষেতে
আর সোনালী বীজ তোমার করতলে সঁপে - হয়ে যাবো তোমার মায়াবী মায়া।
এই অগণন স্রোতের ভিড় আর জাগায় না কোন মায়া
তুমি যে এখানে নেই - আর সত্যি তোমাকে চাইনিও এখানে।
ইশারায় আমাকে ডেকে তুলে - নিজেকে ঢেকে রেখেছো অধরামাধুরীর আবরণে।
মেঘ আর মাটির ভেতর মিলনের যে অদৃশ্য কামনা
নৈ:শব্দের ভেতর যে নি:শব্দের আলোড়ন
সেসব দিনমান শুনে শুনে মহাসাগরের দুই অচিন ঢেউ
বালুকাবেলায় আঁছড়ে প’ড়ে - দুই আজ হয়েছে আবার সেই একটিমাত্র ঢেউ।
আমি এই ভোরের কাছ থেকে সজল অশ্র“ নিয়ে
তোমাকে ভেজায় - তুমি বৃষ্টিতে ভিজে আনন্দে নাচো
আমার বিষাদের অশ্র“জল; তোমার আনন্দের নাচে মিলেমিশে একাকার
তোমার হাসির আড়ালে আমি কান্না হ’য়ে - দুই আজ হই আবার এক।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।