আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ছিল রুমাল হয়ে গেল বিড়াল। আমার স্বপ্ন এবং শহীদ বল্টুর জীবনের শেষ দিন

বালক ভুল ক'রে পড়েছে ভুল বই, পড়েনি ব্যাকরণ, পড়েনি মূল বই! আবহাওয়াটা ঠান্ডা। ঘুম ঘুম ভাব এসে গেছিল। একটা স্বপ্নও দেখলাম। আমার একটা কুকুর আছে, নাম বল্টু। বল্টুকে নিয়ে শাহবাগ যাচ্ছিলাম।

বল্টুর আবার একটু বদঅভ্যাস আছে। কোন ডাস্টবিন দেখামাত্রই সে দৌড়ে গিয়ে নোংরা ঘাটাঘাটি করবেই আর সেসব খেতে শুরু করবে। ভালো খাবার আমি যা খাওয়ায় তা ওর পছন্দ না। ডাস্টবিনেই যেন ও অমৃত খুঁজে পায়। যাহোক রাস্তার একপাশ ধরে যাচ্ছিলাম, ঐপারেই একটা ডাস্টবিন।

গন্ধের চোটে আমি নাক চেপে রেখেছি। বল্টু হঠাতই রাস্তার মাঝখান দিয়ে ডাস্টবিনটার দিকে দৌড় লাগাল। ঠিক সেই সময় একটা ট্রাক আমার বল্টুর উপর দিয়ে চলে গেল। স্বপ্ন এই সময় শেষ হয়ে যেতে পারত। কিন্তু হল না।

দেখলাম মুহূর্তের মধ্যে শাহবাগে খবর চলে গেল, প্রথমে পুরো শাহবাগ শোকে স্তব্ধ, তারপর সব আন্দোলনকারী ক্ষোভে ফেটে পড়ল। ফেসবুক-ব্লগে ঝড় শুরু হয়ে গেল। জাগ্রত তরুণ সমাজ ট্রাকচালকের চৌদ্দগুষ্ঠি উদ্ধারপূর্বক পুরো ট্রাকচালক সমিতিকে জ্যান্ত কবর দেবার ব্যাপারে একমত পোষণ করল। অনেকে আবার দাবী করে বসল ঐ ট্রাক বল্টুর মত একজন মহান আন্দোলনকারীকে হত্যার জন্য পাকিস্তান থেকে আনা হয়েছে। কয়েক ঘন্টা পর আমার বাসায় প্রধানমন্ত্রী এসে শোক প্রকাশ করে গেলেন।

যাবার আগে দৃঢ় কন্ঠে ঘোষণা দিয়ে গেলেন, বল্টু মরেনি, ও সহীদ হয়েছে। ও চলমান আন্দলনের প্রথম শহীদ। তিনি আশ্বাস দিয়ে গেলেন, বল্টুকে যারা শহীদ করেছে তাদের বিচারতো করা হবেই, দেশে ট্রাক চালানোও পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হবে। এদিকে বল্টুর লাশটা এখনো আমি পাইনি। শুনেছি ওকে নাকি শাহবাগে জানাজা পড়িয়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে।

বল্টুর কফিন ছুঁইয়ে জাগ্রত তরুণ শপথ নিচ্ছে, তাঁরা বল্টুর অসমাপ্ত কাজ নিজেদের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও শেষ করবে। টিভিতে লাইভ দেখতেসি, বল্টুর কফিন ফুলে ফুলে ভরে গেছে। আর আমার বুক ভরে গেছে গর্বে। আশপাশের মানুষকে টিভির দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে বললাম, দেখো দেখো আমার বল্টুকে দেখো, এ যে আমার বল্টু... বলতে বলতে ইমোশনাল হয়ে গেলাম, চোখ পানিতে ভরে যাচ্ছে, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসছে... আর কিছু দেখলাম না। শুধু একটা সম্মিলিত কন্ঠ শুনতে পেলাম, অনেক গুলো মানুষের দৃপ্ত কণ্ঠ শাহবাগ চত্বরকে বল্টু চত্বর করার দাবীতে স্লোগান দিচ্ছে।

নাহ শুধু স্লোগান না, আরেকটা শব্দ কানে আসছে, হাসির শব্দ, অট্টহাসির... এই হাসি আমি চিনি... এটা রাজাকারের হাসি। হাসিটা আস্তে আস্তে কাছে আসছে... >> ছন্নছাড়া ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।