অনেকবার চেষ্টা করেছি কলম আর ক্যামেরার দাসত্ব থেকে বের হয়ে যেতে..কিন্তু পারি নি....পারবো কিনা জানি না---এভাবেই হয়তো চলবে...
দিনগুলো বেশিদিন আগের নয়। মাত্র বছর দুয়েক আগের কথা। পুরো শহর জুড়ে চষে বেড়াতাম আমরা পঙ্খীর মতো। যেন শহরটা ছিলো আমাদের উন্মুক্ত আকাশ, কোথাও যেতে বাধা ছিল না। মনে পড়ে সেইসব পুরানো কথা।
মিডিয়ায় কাজ করার সুবাদেই বন্দর নগরী চট্টগ্রামের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত ছিল নখদর্পণে। কিন্তু, এখন হয়তো ফিরে গেলে দেখতে পাবো অনেকখানি পাল্টে গেছে পুরো শহর। জীর্ণ শীর্ণ সেই পুরানো বিল্ডিংগুলো মনো হয় আর নেই, হাইরাইজিং বিল্ডিং সেই স্থানটি দখল করে নিয়েছে। শহরের মাঝে লালদিঘী, আসকারদিঘী, চন্দনপুরা দিঘী, বহদ্দার দিঘীসহ নানা দিঘীগুলো কি সেই আগের মতো আছে কিনা জানি না। তবুও ছুটে যেতে মন চায়।
পুকুরে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে সাঁতার কাটতে ইচ্ছে হয়।
মুসলিম হাই স্কুলে পড়াশোনার সুবাদে সবসময়ই দেখতাম শহেরে বিচিত্র মানুষগুলোকে। কারণ মুসলিম হাই স্কুলের এক পাশেই কোতোয়ালী থানা, অন্যপাশে চট্টগ্রাম কারাগার আর সামনেই কোর্ট বিল্ডিং।
চারদিকে চারটি স্থানই প্রতিদিন আসা যাওয়া করে শত শত বিচিত্র-বহুরঙ্গী মানুষ। যা হোক......
আজ বলবো হাই স্কুলে প্রথম স্কুল ফাঁকি দেয়ার কথা...
দিন তারিখ সঠিকভাবে মনে না থাকলেও, ঠিক মনে আছে যে প্রথম সাময়িক পরীক্ষার আগের দিনের কথা।
বাসা ছিল হামজারবাগে। পরীক্ষার আগের দিন যে স্কুল বন্ধ থাকে তা আমরা জানতাম না। সেদিন আমাদের মতোই অনেকেই স্কুলে এসেছিল, সবাই ফিরে গিয়েছিল বাসায়। কিন্তু আমরা ৫ বন্ধু মিলেই বুদ্ধি করলাম, এই অবসর সময়টা একটু কোথায়ও ঘুরে আসি। সিদ্ধান্ত নিলাম, সী বীচ যাবো।
কিন্তু সী বীচ যেতে কত টাকা লাগে, কত সময় লাগে তা কেউই জানতাম না। সবার পকেটে সর্বসাকুল্যে ৪০ টাকা ছিল। তবে এটা জানতাম যে, ১ (এক) নম্বর বাস যেত। উল্লেখ্য যে, তখন ১ এবং ২ নম্বর বাসই সী বীচ যেত। উঠে গেলাম বাসে, মনে করেছিলাম বাস কন্ট্রাক্টরকে বোকা বানাবো..... বন্দর এর ভাড়া দিয়ে সী বীচ যাবো।
কিন্তু তা হলো,, বাস কন্ট্রাক্টর আমাদের বুদ্ধি ধরে ফেললো এবং ইপিজেড নামিয়ে দিল। পকেটে যত টাকা আছে সবই ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেল।
আমার এক মামাতো ভাই থাকতো ইপিজেড। তার থেকেই মিথ্যে বলে আরো ৪০ টাকা ধার নিলাম এবং এরপর বাসে উঠে গেলাম।
আমার ৫ বন্ধু তুলনায় আমি ছিলাম সবার ছোট, যেমনটি বয়সে তেমনটি সাইজে।
তখন পড়তাম ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে। কিন্তু আমাকে দেখলে মনো হতো ৩য় কিংবা ৪র্থ শ্রেণীতে পড়ি।
বাস ছুটে যাচ্ছে শহরের দিকে, বেলা তখন ২/৩টা হবে। আমরা সবাই কিন্তু স্কুল ড্রেস পরা ছিলাম। হঠাৎ করে এক ভদ্র লোক এসে আমার এক বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করলো কোন স্কুলে পড়ো... সোজা উত্তর,,,,, মুসলিম হাই স্কুল।
তিনি বললে, আচ্ছা তোমাদের রোল নম্বর কার কতো , আমাকো বলো দেখি?? .... একে একে সবার শেষে আমার পালা..... আমি বল্লাম, আমি পড়ি পলোগ্রাউন্ড উচ্চ বিদ্যালয়ে এবং ৪র্থ শ্রেণীতে। আমার এক বন্ধুকে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে বল্লাম,, ভাইয়া আমাকে নিয়ে এসেছে। আমি আসতে চাই নি। আমি প্রথমেই বুঝতে পেরেছিলাম. কেন উনি আমাদের রোল নম্বর নিচ্ছেন??
পরে তিনি বললেন, আমাদের স্কুলের সবচে' জাদরেল মুহসীন স্যারের বন্ধু তিনি। .... যা হোক সবাই বাসা ফিরলাম.. এবং যথারীতি প্রথম সাময়িক পরীক্ষাও দিলাম।
পরীক্ষার পরে ক্লাস আবার চালু হলো......... মুহসীন স্যার ক্লাস নিতে আসলেন। অনেকক্ষন পর হঠাৎ করে কিছু রোল নম্বর ধরে ডাকলেন...... ভাগ্য ভালো,, সেদিন কেউ উপস্থিত ছিল না.... পরদিন আবার ডাকলেন.... তার মধ্যে ৩ জন উপস্থিত ছিল...... ৩ জনকেই পিটিয়ে কাহিল করে ফেললো স্যার..... আমি তো তাদের অবস্থা দেখে ভয়ে টানা ২৮দিন স্কুলে আসি নি।
বাসা থেকে বের হয়েছিলাম ঠিকই,,,,,,,, দিনভর ভিডিও গেমস এর দোকানো কাটিয়েছি,,,,আর বিকাল ৪.৩০ মিনিটে বাসায় হাজির,,,,,, কাক-পক্ষীও ধরতে পারেনি...স্কুল পালানো ঘটনা।
যা হোক... লিখলাম হঠাৎ করে........।
http://www.ukbdnews.com
http://www.ukbdnews.com
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।