আমি তরুণ। নিয়ম মানতে ভাল লাগেনা...
কাল আমার ইউনিভার্সিটি জীবনের প্রথম ক্লাশ। ভাবতেই কেমন কেমন লাগছে। কোন শার্টটা পড়বো, কোন প্যান্টটা, কোন জুতা? ইত্যাদি ভাবতে ভাবতে রাত কেটে গেল। ভাল ঘুম হলনা রাতে।
প্রতিক্ষার পালা শেষ করে এলো স্নিগ্ধ সকাল। গুন গুন করে গান গাইতে গাইতে ফ্রেশ হলাম। এবার পড়লাম আরেক মুছিবতে। কোন্ ড্রেসটা পড়বো? সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলামনা। ভাবছি আর ভাবছি।
কি করা যায়? এমতাবস্থায় মা এলেন আমার ঘরে। মাকে দেখেই মা! তুমি? মার হাতটা লুকানো ছিল পিছনে। হাতটা সামনে নিয়ে আসতেই লক্ষ্য করলাম একটি শপিং ব্যাগ। মা বল্লেন “এটা পড়ে আজ ক্লাশে যাবি” আসলেই মা, রা সন্তানের মুধ দেখলেই তাদের মনের অবস্থা বুঝতে পারেন, একথাটির প্রমাণ পেলাম।
যাই হোক, মার দেওয়া ড্রেসটি পড়ে রওয়ানা হলাম ইউনিভার্সিটির লক্ষে।
পুনে দশটায় পৌছলাম ডিপার্টমেন্টে। এসে ভাবছি, আরো পনের মিনিট বাকি ক্লাশের। ভাবতে ভাবতে ক্লাশ রুমে গিয়ে বসলাম। এমন ফাকা ফাকা লাগছে কেন? শুধু অবাক হলামনা, বিস্বয়ে রীতিমত থ” বনে গেলাম। কেননা আমি লেখাপড়া করেছি গ্রামের একটি জীর্ণশীর্ণ কলেজে।
যেখানে আমরা ছাত্র-ছাত্রী ছিলাম মাত্র ৩০ জন। অথচ এই ক্লাশ রুম দেখে মনে হচ্ছে, ন্যুনতম ৪০০-৫০০জন ছাত্র-ছাত্রী একসাথে ক্লাশ করতে পারবে এখানে। পরে জানতে পারলাম যে, আমাদের ডিপার্টমেন্টে ৪৫০জন ছাত্র-ছাত্রী। আর কত সুন্দর করে সাজানো টেবিল ও বেঞ্চগুলো। মুগ্ধ হয়ে দেখতে লাগলাম চারদিক।
এভাবে বেশ কিছুটা সময় কেটে যাওয়ার পর ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি ১০.৩০মিনিট। আচ্ছা! এখনো স্যার আসছেনা কেন?
অবশেষে একজনকে জিজ্ঞাসা করলাম “আজ ক্লাশ হবেনা?” ক্লাশ তো সকাল ৭.০০টায় হয়ে গেছে। আমি যেন কেমন হয়ে গেলাম। আমার সব আয়োজন কি তবে ব্যর্থ হয়ে গেল? কি আর করার ফিরে এলাম সেদিন। ১ম ক্লাশটা করা হলোনা...আহ....
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।