আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

এইচ টি ইমামের বক্তব্য অশোভন: সুরঞ্জিত

সকালের মিষ্টি রোদ পেরিয়ে আমি এখন মধ্যগগনে,

ঢাকা, আগস্ট ৩০ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের দিকে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। তিনি বলেছেন, তাকে নিয়ে এইচ টি ইমাম অশোভন বক্তব্য দিয়েছেন। দুই বিচারককে অবসরে পাঠানো নিয়ে সংসদীয় কমিটিতে ইমামকে তলবের বিষয়ে দেওয়া আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলামের বক্তব্যও নাকচ করে দিয়েছেন সুরঞ্জিত। আইন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বৃহস্পতিবার দুই বিচারককে অবসরে পাঠানো নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংস্থাপন বিষয়ক উপদেষ্টা ইমাম, আইন ও সংস্থাপনসচিবকে তলবের সিদ্ধান্ত নেয়। কমিটি ওই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরদিন এইচ টি ইমাম সাংবাদিকদের বলেন, তার ধারণা, তলবের বিষয়ে সংসদীয় কমিটির দুই-একজন সদস্যের 'উস্কানি' রয়েছে।

কমিটি ও তার দলের দুই-একজন নেতার কথা-বার্তাও মাঝে-মধ্যে একটু অসংযত হয়ে যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি। সুরঞ্জিতের মতো ইমামও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। এর প্রতিক্রিয়ায় সুরঞ্জিত রোববার সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের বলেন, "উনার (ইমাম) বক্তব্য অশোভন, অগণতান্ত্রিক, অপ্র্রয়োজনীয়, অপ্রাসঙ্গিক ও অগ্রহণযোগ্য। " উপদেষ্টাকে তলবের বিষয়ে সুরঞ্জিত বলেন, "সংসদীয় কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী আমাদের এ অধিকার রয়েছে। "সরকার একটি আদেশ দিয়েছে, পরে তা তুলে নিয়েছে।

তাই আমি ও আমার কমিটি সংবিধান ও কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের জন্যই ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। " তবে ইমাম সংসদীয় কমিটিতে উপস্থিত হবেন কিনা, তা তার নিজস্ব ব্যাপার বলে মন্তব্য করেন সুরঞ্জিত। ইমাম জানিয়েছেন, সংসদীয় কমিটিতে হাজির হবেন কিনা, তা কমিটির কার্যপ্রণালী বিধি পড়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন। তাকে ইঙ্গিত করে ইমামের বক্তব্য ধরে সুরঞ্জিত বলেন, "রাজনীতিতে উত্থান-পতন আছে। উনি উপরে উঠেছেন।

এজন্য তাকে সাধুবাদ জানাই। তবে ব্যক্তিগতভাবে কাউকে হেয় করার জন্য আমি কিংবা আমার কমিটি ওই সিদ্ধান্ত নেয়নি। " এদিকে কমিটির সদস্য আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম শনিবার সাংবাদিকদের বলেন, ইমামকে তলব করার কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। এর পাল্টা জবাব দিয়ে সুরঞ্জিত রোববার বলেন, "কমিটিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে তিন জনকে ডাকার। এর রেকর্ড আছে।

সর্বসম্মতভাবেই ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। " গত ৩০ জুলাই সরকারের এক আদেশে জনপ্রশাসনে 'সদাচরণ এবং শৃংঙ্খলা বজায় রাখতে' ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ মো. আবদুল গফুর এবং গাজীপুর জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. শাহজাহানকে অবসরে পাঠানো হয়। তারা দু'জন জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও মহাসচিব। এ নিয়ে সমালোচনার মুখে কয়েকদিন পরই সরকার ওই আদেশ প্রত্যাহার করে নেয়। ওই ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়ে সংসদীয় কমিটি উপদেষ্টা ইমাম, আইন সচিব কাজী হাবিবুল আওয়াল ও সংস্থাপন সচিব ইকবাল মাহমুদকে তলবের সিদ্ধান্ত নেয়।

সুরঞ্জিতের দাবি, আইনমন্ত্রী ও আইন প্রতিমন্ত্রীর অগোচরেই বিচারকদের অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছিল বলে ইমাম যে দাবি করেছেন, তা প্রত্যাখ্যান করেছেন আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদও।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।