অভিলাষী মন চন্দ্রে না পাক, জ্যোৎস্নায় পাক সামান্য ঠাঁই
যা লিখতে যাচ্ছি এটাকে একটা আবোল তাবোল কথামালার ডায়রী বলা যেতে পারে...
আম্মু প্রায়ই মন খারাপ করে রাখে, কাঁদেও হয়ত লুকিয়ে লুকিয়ে-আমাদেরকে শুধু বুঝতে দেয় না এই আরকি।
প্রথম রোজার দিন সারাদিন ছিলো জব। ইফতারীর সময় হয় ৭:৩৫। আম্মু ফোন করে জানায়....এত্ত ব্যস্ত ছিলাম যে পানি খেয়ে রোজা ভাঙতে হলো রাত আটটায়। আর খেলাম রাত নটার পর।
সব মা'ই হয়ত তার স্বামী সন্তানসহ একসাথে খেতেই ভালোবাসে। তবে জীবন যেখানে যেমন সেখানে মানিয়ে নিতেই হয়।
তৃতীয় রোজার দিন আমার নতুন সেমিস্টারের ক্লাস শুরু হয়। বিকেলে ক্লাস থেকে ফিরার পথে আপুকে বলছিলাম ভুনা খিচুড়ির কথা। আম্মু হলুদ মরিচ কম দিয়ে খিচুড়িটা রান্না করতো।
বিভিন্ন সবজির সাথে তিন কোনা করে ছোট ছোট আলু কেটে দিতেন। সেদিন মানে কালকে এই খিচুড়ি খেতে ভীষন ইচ্ছে হলো। আপু বললো, বাসায় গিয়ে আম্মুকে বললে পরের দিন আম্মু খিচুড়ি রান্না করে দিবে। তবে বাসায় গিয়ে আমাকে বেশি অবাক হতে হলো। বাসায় ঢুকতেই মজার একটা খাবারের গন্ধ পেলাম, প্রশ্ন করতেই আম্মু বললো যে খিচুড়ি রান্না করছে!!! মা'রা সবকিছু আগে থেকে কি করে জেনে ফেলে! আম্মু কি করে জানলো যে কাল আমার খিচুড়ি খেতে ইচ্ছে হলো? সব আম্মুরাই চোখ বন্ধ করে তার সন্তানদের অনুভব করতে পারে যেটা আমি কোনদিনই হয়ত পারবো না।
আমার আপু আমার সাথেই ঘুমায়। একদিন রাতে আপুর পা ব্যাথার জন্য ভালো করে ঘুমুতে পারছিলো না, নড়াচড়া করছিলো বেশি আর ব্যাথা একটু আধটু কুকাচ্ছিলো। অথচ আমি দিব্যি পাশে শুয়ে ঘুমিয়ে আছি। আম্মুর বেডরুম নিচ তালায়....অথচ আম্মু কি করে যেনো আপুর সেই ব্যাথায় গুঙানোর শব্দটা ঠিকই শুনে ফেললো!!! আমাদের রুমে এসে আপুর পায়ে ওষুধ মালিশ করে দিলো।
এত মমতাময়ী, এত ভালো কি করে হয় আম্মুরা আমি বুঝি না।
প্রায় রাতেই আমার ভালো ঘুম হয়না। অনেক পুরুনো স্মৃতি মনে করে আমার কষ্ট বাড়ে রাতের সাথে সাথে। সেই স্মৃতিগুলোর ভিড়ে কিছু কষ্টের স্মৃতি আছে, কিছু আছে আনন্দের ভালো লাগার।
পরিবারে সবার ছোট ছিলাম বলে আমার আদরের ভাগটাও ছিলো বেশি। বাবা কিছু কিনে আনলে কিংবা আম্মু মজার কিছু রান্না করলে আমার নিজের ভাগেরটার সাথে আম্মুর ভাগের অনেক খানিই থাকতো আমার জন্য।
তখন ওতো কিছু বুঝতাম না ছোট ভাইয়ার সাথে কাড়াকাড়ি করতাম আম্মুর ভাগেরটা খাওয়ার জন্য আর কখনোবা আম্মু নিজে না খেয়ে আমাদেরকে হাসিমুখে সুন্দর করে নিজের খাবারটাই ভাগ করে দিতেন।
এত এত আদর ভালোবাসা পেয়েছি জীবন যেইগুলো মনে পড়লেও কেনো জানি বুকের মধ্যে একটা চিনচিনে ব্যাথা হয়.....হয়ত এত ভালোবাসার যোগ্য নই বলেই এমনটা হয়।
ছোট বেলায় ভীষন পাজি ছিলাম আমি। আপুর সাথে ঝগড়া করে হেরে গেলে ওর সব কাপড় চোপড় আমি খাটের নিচে ফেলে দিতাম। আর বইয়ের পাতা ছিঁড়ে ফেলতাম আর কলম দিয়ে একেঁ দিতাম।
যদিও আম্মু কোনদিন মারতো না, তবুও মারার ভয় দেখালে আপু এসেই বাঁধা দিতো!
আমার মনে আছে আম্মু একবার নানু বাড়িতে চলে গিয়েছিলো, আমি তখন ছোট ছিলাম। এর কিছুদিন পর আমার ভীষন জ্বর হলো রাতে। আমার এতটুকুন আপুটাই গভীর রাতে ঘুম থেকে উঠে আমাকে বাথরুমে নিয়ে মাথায় পানি ঢেলে দেয়, সারা গা ভিজা কাপড় দিয়ে মুছে দেয়, আমাকে ওষুধ খাইয়ে দেয়, মাথায় জলপট্টি দেয়।
অথচ এই পচাঁ আমি সুস্থ হবার পর আবার ওর সাথে ঝগড়া করেছি, মারামারি করেছি!
ছোট ভাইয়ার সাথে আমার জীবনে বেশি ঝগড়া হয়েছে...এখনও হয়। অথচ ভাইয়া আমাকে এত ভালোবাসে সেটা বুঝিই না আমি।
আমি অনেক সময় ছোট ভাইয়ার হাতে লোকমা খেতে চাইতাম আর সে কোনদিন আমাকে খাইয়ে দিতো না। আমি ততই চিল্লাতাম, বাসার সবাই আমাকে লোকমা দিয়ে খাইয়ে দিতে চাইতো, আম্মু, আপু, বড় ভাইয়া, কিন্তু আমি ছোট ভাইয়ার হাতেই খেতে চাইতাম। আর সে কোনদিন আমাকে খাইয়ে দিতো না। আমিও বলে দিয়েছি যদি সে বিয়ের পর তার বউকে খাইয়ে দেয় তখন ঘরে আগুন লাগিয়ে দিবো আমি।
ছোট ভাইয়াটা অনেক সুইট।
দেশে থাকতে মসজিদে যখন মিলাদ হতো তখন জিলাপী কিংবা অন্যকিছু দিতো, সে কোনদিন সেটা খেতো না আমার জন্য সব সময় বাসায় নিয়ে আসতো।
আমার ভাইয়ার হাতের সেই জিলাপী খেতে অনেক ইচ্ছে করে এখন।
ছোট বেলায় বড় ভাইয়া একটা খেলা খেলতো আমাকে নিয়ে। ভাইয়ার পায়ের পাতার উপর বসে ভাইয়ার দুহাটু জাপটে ধরে বসে থাকতাম আর ভাইয়া একটা ছড়া কাটতো আর দুলাতো আমাকে...."গাঙোরে গাঙো, কি রে গাঙো?..." (আর মনে নেই ছড়াটা ) আমার এইভাবে দুলতে ভীষন ইচ্ছে করে এখন।
আমি আর বড় হতে চাই না।
সবার ছোট্ট বাবুটা হয়ে থাকতে চাই। ভীষন ইচ্ছে করছে একটা জাদুর কাঠি দিয়ে ছোট্ট হয়ে যেতে....
সেই ছোট্ট পরীটা হয়ে যেতে পারলে আমার অনেক ভালো লাগতো।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।