আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

১৮ জুলাই আমার আপুটুনি ছিলি ওরফে আউলা আপুর জন্মদিন

............................................

আউলা আপুকে ছোটবেলায় দেখতে পারতাম না। ও, বুবু আর টুসি আপুর একটা গ্রুপ ছিল। আমি ওদের কাছে গেলে তুমি ছোট মানুষ বড়দের কথা শুনতে নাই বলে তাড়িয়ে দিত। আর এই কাজটা বেশি করত টুসি আপু আর আউলা আপু। বুবু মাঝে মাঝে বলত...থাক না ও।

আউলা আপু আর টুসি আপু এই দুইজনকে আমি নাম ধরে ডাকতাম এই জন্য। আউলাকে বলতাম ছিলি আর টুসি আপুকে বলতাম ডুম্পা । আমি কবির ভাইয়ার নেতৃত্বে ওদের অনেক জ্বালাতাম অবশ্য একটু বড় হবার পর মানে সিক্সে সেভেনে থাকতে আউলা আপুর সাথে আমার সাথে খাতির হওয়া শুরু হল। ওই সময় থেকে আমরা দুইজন দুইজনকে কিছু না বলে থাকতে পারি না। দুইজনই কোনো বিষয় নিয়ে চিন্তা ভাবনা করলে তার ফলাফল দুইজনের একই আসে।

তাই আমাদেরকে কেউ পটাতে চাইলে দুইজনকেই পটাতে হয় তবে আমি ওকেই মাত্র বাসায় ভয় পাই ইদানীং। বেকারত্ব ওকে হিংস্র করে তুলছে দিনদিন। আমাকে চুপচাপ বসে আজাইড়া কাজ করা সে দেখতেই পারে না। এখন সে যথেষ্ট বুদ্ধিমতী হয়েছে। আর আগে চালাক ছিল।

আমাকে জীবনে সে যতটা সাপোর্ট দিয়েছে এরকম আর কেউই দেয় নি। বকা দেয়ও ঐ বেশি। আমি আমার পরিবারে ওকে ছাড়া বলতে গেলে আর কাউকেই ভয়ও পাই না। তবে সে আমাকে অন্ধের মত ভালোবাসে। আমি কারো উপর অসন্তুষ্ট হয়েছি মানে সেও অসন্তুষ্ট হবে।

তবে ওর একটা খারাপ স্বভাব হয়েছে পেটে কোনো কথা থাকে না। আমি তাকে যতই বলি না কেন এটা বলবি না ওটা বলবি না বললে ঝামেলা হবে সে সেইটাই বারবার করে। আমি অনেক কিছু জানার পরও না জানার ভান করি বা বোকা বোকা ভঙ্গি করি কিন্তু সে কোনোভাবে জানতে পারলে ঢোল পিটানো শুরু করে। কাউকে একবার ভাল পেলে হয় সব গরগর করে বলা শুরু করবে। এইজন্য নাকি সে গসিপিং করে বেড়ায় এই টাইপ অপবাদ পেয়েছে ব্লগেরই একজনের কাছে।

মাঝে মাঝে আমার মনেহয় ওর মাথায় গিজগিজ বুদ্ধি। কিন্তু এমন এমন বোকার মত কাজ ইদানীং সে করে। থাক সে ব্যাপারে আর কিছু না বলি নাহলে সে আমার উপর অত্যাচার নির্যাতনের স্টীম রোলার চালাবে এই পোস্ট লেখার চেষ্টা করছি গত ৪/৫দিন ধরে কিন্তু তার যন্ত্রণায় পারছিলাম না। আজকে দুপুরে তাড়াহুড়া করে লিখেছি তার অনুপস্থিতিতে। একবার বিছানার উপর পড়ে থাকা ছোট্ট একটা সাবান দেখে বললো, কি রে এইটা? আমি বললাম, খেয়ে দেখ কি।

ও সেই সাবানটার প‌্যাকেট সত্যি সত্যিই খুলে জোরে একটা কামড় দিল। তারপর তাড়াতাড়ি করে বাথরুমে ঢুকলো। .....আমি হাসতে হাসতে শেষ তখন। এই জিনিসটা ওকে বললে ও খুব ইনসাল্টেড বোধ করে। মাঝে মাঝে কিছু ব্লগারের আউলা ভীতির কথা বলে তখন আমি হাসি।

ব্লগে সে যেই ভাব নিয়ে চলে বাস্তবে তাকে দেখলে মনেহয় শতকরা ৯০ জন লোক টাশকি খাবে। আব্বুর সাথে ওর কমিউনিকেশন দেখার মত। আব্বু আমাকে কোনো কাজ করাতে আসলে আমি সোজা বলে দেই ওসব কাজ আমার পক্ষে অসম্ভব। কিন্তু আব্বুকে ও সরাসরি কিছু বলতে পারে না। প্রায়ই আম্মুর কাছে কান্নাকাটি করে, আম্মু দেখো তো আব্বু কিচ্ছু বোঝে না...এই রকম করলে কেমন লাগে......।

প্রতি সপ্তাহেই সে বলে, এইবার আব্বুর সাথে আমার বড় ধরনের ঝগড়া হয়ে যাবে..এবার আমাকে কেউ থামাতে পারবে না। কিন্তু আব্বু বাসায় আসার পর দেখা যাবে সে আব্বুর সাথে সুটকেস হাতে ট্যাক্সের অফিসে যাচ্ছে! তবে সহজ সরল আউলা ইদানীং বিভিন্নভাবে আমার কাছে নাজেহাল হয়। অনেক কিছু নিয়েই ব্ল্যাকমেইল করি। তিন মাসের মধ্যে আমার এরই মধ্যে ছয় বার ব্ল্যাকমেইল করে ওকে শায়েস্তা করা হয়ে গেছে। আগে আমরা দুইবোন মিলে বুবুকে বিভিন্ন জিনিস নিয়ে ত্যক্ত করতাম আর দারুণ মজা পেতাম।

এখন দেখলাম আউলাতেও মজা কম না। ভাব নিতে সে বড়ই ভালবাসে। আমি মাঝে মাঝে ভুলে যাই আমার বড়বোন আসলে কোনটা...সব ব্যাপারে তার পাকামী করা চাইই চাই। ১৮ ই জুলাই ওর জন্মদিন। আমার জন্মদিন কবে ভুলে গেলেও ওর জন্মদিন কখনোই ভুলি না।

তবে একবার ভুলে গেছিলাম ২০০২ সালেরটা। তখন বাড়িতে একটা বিয়ে ছিল তাই ভুলে যাওয়া স্বাভাবিক ছিল। জন্মদিনে সে খুব ভাব নেয়। প্রতিবারই বলে, এত হৈ হুল্লোর করিস না তো। মন ভালো নেই।

আমার আজকে রাতে চিৎকার করে গান গাইতে ইচ্ছা করছে কিন্তু গলার অবস্থা গত ১ বছর ধরে করুণ শুভ জন্মদিন আপু টুনি আউলা আপু....ছিলি আপু

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।