আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

আমি খুব ক্ষূদ্র একজন

I am what I am and that's how I would be. No I am not stubborn. I just want to be myself.

আটমাস একটানা গৃহস্থালী-বাচ্চা নিয়ে হিমসিম খাচ্ছিলাম। একজন হেল্পার মেয়ে ছিল, সে বাড়ী গিয়ে আর ফেরেনি। সেই থেকে আমি একাই ঘরের সব করছি। জানি প্রবাসীরা হাসবেন। সেখানে তো সবই নিজে করতে হয়, কোনও হেল্পিং হ্যান্ড পাওয়া যায়না।

আবার এটাও ঠিক দেশে থাকলে যে ছেলে গ্লাসে পানিটাও নিজে ঢেলে খায়না, সে ছেলে প্রবাসে বউকে রেঁধে খাওয়ায়, বাচ্চা পালে, ঘরও সামলায়---চাকরির পাশপাশি ...কাজেই সে প্রসংগে যাচ্ছিনা। আমার হেল্পার চলে যাওয়ার আটমাস পর দুইসপ্তাহ আগে এক পিচ্চি মেয়ে পেলাম। তার মা বল্লো বয়স ১০। মন মানছিলোনা, কী হেল্প করবে এই পিচ্চি, কিন্তু যখন দেখলাম আমার ছোটমেয়ে তার কোলে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে তখন মনে হলো বেশ তো, অন্ততঃ সে আমার বাচ্চাকে ব্যস্ত রাখতে পারবে, সেই ফাঁকে আমি সব সেরে নেবো!! রাখলাম। মেয়েটার নাম ঋতু।

প্রথমদিন সে খুব কাঁদলো। আমি না পেরে তার মা-কে ফোন করে বল্লাম নিয়ে যাও, আমি এত কান্নাটান্না সামলাতে পারবোনা। আমার ঘরের দুইটা বাচ্চা সামলাতেই খবর হয়, আবার তিন-নম্বর!! ঋতুর মা নিতে চাইলোনা, অভাবের সংসার। বল্লো "আপা কয়েকদিন যাক, ঠিক হয়ে যাবে। ওর মন বসে গেলে আর কাঁদবেনা।

" আমি আর মেয়েটাকে ঘরের কোনও কাজ দিলাম না। আমার ছোটমেয়ে টাকে নিয়ে সে খেলে, তাকে পাহারা দেয় (প্রায়ই দেখা যায় পাহারা না দিলে চঞ্চল মেয়ে আমার কোনও না কোনও অঘটন ঘটায়)। এভাবে কান্না-খেলার মধ্যে কেটে গেল দুইসপ্তাহ। এরমধ্যে ঋতুর মা-বাবা ফোনে তার সাথে কথা বলে তাকে বলে দিয়েছেন, যে তাকে আমার বাসাতেই থাকতে হবে। আমার বাসায় সে খাওয়া-কাপড় ইত্যাদি পাবে... পরশু রাত থেকে খেয়াল করলাম ঋতু আমায় ডাকছে "মা" বলে।

আমি প্রথমটায় বুঝতে পারিনি। কিন্তু ক্রমে বুঝতে পারলাম সে খুব সাবলীল ভাবে আমাকে মা ডেকে যাচ্ছে। "মা এই কাপড়ডি তুইলা রাখমু?" "মা তুমি কি আসার সময় একখান কিলিপ কিনা আনবা?" "মা তুমার চুলে অহন ত্যাল লাগায়া দিমু?" হতভম্ব আমি বিভিন্নজনের সাথে ব্যাপারটা শেয়ার করলাম। মোটামুটি সবারই এককথা, ভালই তো, এভাবেও যদি সে থাকে, আজকাল তো মেইড এর ক্রাইসিস... কিন্তু আমি কেন যেন মানতে পারছিনা। আমি তো তাকে আমার দুইমেয়ের সমান সমান চোখে দেখিনা, অনেস্টলি।

আমার মেয়েরা বিছানায় বেডরুমে থাকে, স্কুলে যায়, ওদের জামা কাপড় আলমিরাতে থাকে। যদিও খাওয়া তিনজনেই একই খায়। সে ভাত/নুডলস/চিপ্স যাই হোক না কেনো। কিন্তু আমার মেয়েদের আমি দুইবেলা দুধ খাওয়াই। ওকে তো তা দেইনা!! আমার মেয়েরা ওকে আপু বলে ডাকে ঠিকই, কিন্তু...অনেক ভেদাভেদ তো রয়েই যায়! অথচ এইটুকুতেই সে আমাকে "মা" বলে ডাকে! মা?! কেমন যেন একটা দায়বদ্ধতার মধ্যে পড়ে গেলাম।

নিজেকে দোষী মনে হচ্ছে। এ কী রে বাবা? কর্তাকে বল্লাম, কিন্তু উনার কোনও বিকার নাই। বল্লেন এরকম অনেকেই বলে, বেপার না। এত বিগ-ডীল করার কিছু নাই। এখন নিশ্চয়ই তুমি বাসায় হুমায়ূন আহমেদের নাটক শুরু করবানা।

আমার মনটা বড়বেশী কথা বলে। কী যে করি!!

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।