কোথাও যদি হারিয়ে আমি যাইগো কোন দিন , যেও ভুলে , আমায় যেও ভুলে
আব্দুর রহমান কৃষক বাবার কৃষক সন্তান। ২০ বছর বয়সে বিয়ে করেছিল ১৪ বৎসরের সুফিয়াকে। বিয়ের পরে বাবার বড় সংসারের অভাবটা বুঝতে পারে। সেই থেকে কিছু করার তাগিদে কৃষি কাজের বাইরে কিছু করার চিন্তা আসে মাথায়। কিন্তু বাবার কাছ থেকে ব্যবসা করার জন্য কোন টাকা পেল না।
বউয়ের জমানো ৭০টাকা পুজি নিয়ে প্রতি দিন ভোর ২০ মাইল নৈাকা চালিয়ে মালামাল কিনে হাটে এসে বিক্রি করে। ব্যবসাতে ভাল লাভ হতে থাকে তার ব্যবসা দিনে দিনে বাড়তে থাকে।
উপরের ঘটনা গুলো আজ থেকে ৬০ বছর আগের আমার নানা নানুর জীবনের প্রথম দিকের । আজ তারা বয়সের ভারে নত। ছয় ছেলে তিন মেয়ে।
মেয়েদের সবারই বিয়ে হয়েগেছে। চার ছেলে বিয়ে করেছে। দি ছেলে দেশের বাইরে থাকে। নানার ৭০ টাকা পুজিতে শুরু করা সংসার আজ ৭০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে ্যাবে হয়তো। কিন্তু নানা নানুর মনে বিন্দু মাত্র সুখ এনে দিতে পারে নি এই টাকা।
তার জন্য কাকে দায়ী করব নিজে লেখা পড়া না জানলেও ছেলেমেয়েদের ঠিকই লেখা পরা শিখিয়েছেন। নয় সন্তানের চার জন এম এ পাশ, তিন জন ইন্টার পাশ। বড় মেয়ে আর সেজ ছেলে বাবা মাকে সাহা্য্য করতে গিয়ে লেখা পড়ায় আগাতে পারেনি।
নানা ভাই অনেক দিন আগেই ব্যবসা থেকে নিজে কে সরিয়ে নিয়েছেন । ছেলেরা বাবার নাম রেখেছে।
বড় মামা সব কিছুর দায়িত্বে ছিলেন । সবার অজান্তে নিজের নামে ব্যবসার বিশাল অংশ লিখে নিয়ে সংসার থেকে আলাদা হয়ে ্যান। নানা ভাই ভেন্গে পরেন নি । তিনি আবার সেজ ছেলেকে দায়িত্ব দিলেন । অল্প কিছুদিনেই মামা এবং নানা ভাই াব কিছু সামলে উঠলেন।
এবং ১৯৯৮ সালের পর থেকে এখনো সেজ মামা বাজারে সবচেয়ে বড় ব্যবসায়ী।
ছোট দুই মামা দেশের বাইরে ভালো টাকা কামাই করতে লাগল, ব্যবসায় লাভ বাড়তে থাকলো। সব কিছুই খুব দ্রুত বৃদ্ধি পেল। মামারা একে একে সবাই নানার গ্রামের বাড়ি ছাড়তে লাগল। এখন নানা ভাইয়ের বাড়িতে থাকার মতো কেউ নেই।
নানা ভাইকে এখন তার ছেলেদের বাসায় গিয়ে থাকতে হয়। নানু অসুস্থ্য থাকে ঢাকাতে মামার কাছে , আমার মার কাছে। সম্পদের ভাগাভাগি নিয়ে মামাদের মাঝে চরম রেশা রেশি। নানা ভাই কষ্টে দুঃখে আজ পুরাতন কাজের ছেলেটাকে নিয়ে তার বাড়িতে একা থাকে। আর নিরবে কাদে।
নানু অসুস্থ্যাতার কারণে না পারে নানা ভাইয়ের কাছে আসতে না পারে না ভাইকে একা রেখে ঢাকাতে থাকতে।
এত সব কিছু জন্যই কি নানা ভাই সারাটা জীবন কষ্ট করছেন? ছেলেদের লেখা পরা শিখিয়েছেন? সম্পদ শালী বানিয়েছেন? এটাই কি তার প্রাপ্তি?
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।