আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

কবি ও কালো মেয়ে -১

কাগু ক্যান স্টার্ট অ্যা ফায়ার ইউজিং জাস্ট টু আইস কিউবস

আকামের শুরু হয়ত ঐদিন থাইকাই । রিকশা থাইকা ট্রাকের নিচে পইড়া রাহাত যেদিন চ্যাপ্টা হৈয়া গেলো সেইদিন থাইকা । নাকি তারো সপ্তাহখানেক পরে । রাহাতেরই জানে জিগার কমল আইসা যেদিন কইলো, আমিই ধাক্কা দিয়া রাহাতরে ফালাইছি, ট্রাকের ধাক্কা হাল্কা লাগছিল , তয় এত জোরে না যে রাহাত পইড়া যাইব, সাইডের কাঠ ধৈরা ফেলছিল আমিই কাঁধ দিয়া ধাক্কা দিয়া ফালাইয়া দিছি । শুধু তোমারে পাওয়ার জন্য ।

নিজ মুখে দোষ স্বীকার করা খুনির বালের আগাটা ধরারও সামর্থ্য যে আমার নাই সেইটা যেদিন বুঝলাম আকামের শুরু হয়ত সেদিন থাইকাও ধরা যাইতে পারে । কারণ তার পর থাইকাই এইরকম ঘাটে ঘাটে পুনমারা খাওয়া শুরু । কামের সময় সবাই আইসা কুয়ারা কৈরা ধরে । আমিও অন্তর খুইলা দিই চ্যাগাইয়া । কাম শেষে চোখমুখ কুঁচকাইয়া চৈলা গেলেও কিছু কইতে পারি না ।

অত পীরিত দেখাইতে গেছিলাম কিল্লাইগা । সেইটা হয়ত আমারও দোষ হৈতে পারে । তয় আইজকাল মাইনষের সাথে আলাপচারিতায় নিজের ভিতরে একটু ডরে ডরে থাকি । খালি মুইতা দিতে ইচ্ছা করে । মুখের অবস্থাও ভালো না ।

এমন সব শব্দ ব্যবহার করতাছি, পরে নিজের কানেই একটু উদ্ভট লাগে । গতকাইল কথায় কথায় ছোট মামীরে বৈলা ফেল্লাম, হ, হোগা উচা কৈরা হিল পইড়া হাটলে পুলারাতো একটু লুল ফালাইবোই, ঐরম কৈরা বাইর হওতো তারলাইগাই, কমেন্ট শুইনা আবার চ্যাতো ক্যান ? মামীর মুখটা মুহূর্তের মইধ্যে পাইনসা কালা হৈয়া গেছিল । নিজেরে নিজে ধমকাইয়া তাহসান কি কর বৈলা সইরা গেছিলাম । ইদানিং এই মহিলার কথায় কথায় শইল্যে আগুন ধৈরা যায় আমার । ইচ্ছা করে মুখের মইধ্যে ছ্যারছ্যার কৈরা মুইতা দিই ।

কুয়ারা কৈরা আবার কৈতাছিল কাইলকা, তুমিতো এখন আর আমাদের বিশ্বাস করনা । মনের কথা খুইলাও বলনা । কি দোষ করলাম, এইভাবে অবিশ্বাস শুরু করলা যে । ছ্যাৎ কৈরা লাগার মত কথা জিহ্বার আগায় প্রায় চৈলা আসছিল । অনেক কষ্টে তাও ঠেকাইছি ।

তারপর গাউছিয়ায় চিপাচিপির কাহিনী কওয়া শুরু করলে মুখের বেলেন্স আর রাখতে পারি নাই । মিঠা কথা কৈয়া কৈয়া অভ্যাস হৈয়া যাওনে খেয়াল করি নাই এদ্দিন, মাইয়া মাইনষের মুখ থাইকা সবাই কুয়ারাই শুনতে চায় । ছাগলামি মার্কা কথাই শুনতে চায় । তাইলে তাগো এক চিমটি বেরেনরেও তখন একটু বড় লাগে । তিতা কথা কওনের যন্ত্রণা, হঠাৎ কৈরা অপ্রিয় অনাকাঙ্খিত হৈয়া পড়ার যন্ত্রণা এইসব নিয়াই আমার ইদানিংকালের একার সংসার ।

একার ঘর নাই । তবু একার দুনিয়া । ঘরে বাপ মা আছে, ভাই বোন আছে । মুখটারে চ্যাগাইয়া হাসি দেয়া মামী খালা খালাতোবোনও আছে । তবে মনের পা ছড়াইয়া বসার মত জায়গা নাই ।

তাই সেখানকার সংসার কেবল আমার একারই । তাদের চ্যাগানো মুখে মুইতা দেয়ার ইচ্ছাতে তা দেয়ার সময়ও সেই একার সংসারে একার সময়ে , ঘুমহীন গভীর রাইতেই কেবল । তাও মাঝে মাঝে কবিকে মনে হয় কিছুটা আশ্রয়ের মত । আমার আয়না, ঘোলা-ভাঙা হৈলেও যদ্দুর আছে , তা হয়ত সে কবির কাছেই । যখন কাছে ছিল তখনো সেই আয়নায় নিজের ছায়া কেবল ফালাইয়াই গেছি, সেইটারে আদর কৈরা ধইরা দেখতে পারি নাই ।

কবিকে তার নিজস্ব মায়াবিনীর উত্তাপ-শীতলতা-আলো-আন্ধার সামলাইতে হয় । সেইখানে আমি অনধিকার চর্চা করতে চাই নাই । এখনো চাইনা । তাই কেবল প্রতিফলনের আয়না হৈয়াই রৈয়া গ্যাছে কবি আমার জন্য । চাইরপাশে মানুষের কাছ থাইকা ক্রমাগত বাঁশ খাওয়া আমার জন্য সেইটাও কম কিছু না ।

তাওতো বিশ্বাস কৈরা খুইলা বলার মত একটা কিছু আছে । মামী খানকির মত সেইটা নিয়া বাণিজ্যতো করে না । জীবনের ঘটনার শুরু শেষ ঠিকঠাকমত বুঝি না । শুরুটা ঘোলা ঘোলা । পিচ্চি থাইকা কখন বড় হৈলাম, ঠিক কোন মুহূর্ত থাইকা জুয়ান হৈলাম, বুকের বোঁটা দুইটা ফুইলা উঠা খেয়াল করার দিন থাইকা নাকি রাইতে ঘুমা থাইকা উইঠা প্যান্ট পায়ের লগে আটকাইয়া আছে দেইখা ডরে মার কাছে গিয়া কাইন্দা দেওনের দিন থাইকা তাও বুঝি নাই ।

সাইকেল চালাইতে আম্মা খালি মানা করতেন । প্রথমে মনে করছিলাম সেই আকামেই হয়ত এই ফল । এখন কবির টিকিটার সন্ধান মিলে বচ্ছরে একবার । মাঝে মাঝে চিন্তা হয় পরবাসে কে যায় ? যে ফালাইয়া যায় সে , নাকি যারে ফালাইয়া যায় সে ? যে যায় তারেই লোকে পরবাসি কয় । কারণ সে অনেকের আয়না ফালাইয়া যায় ।

যাদের রাইখা যায় তাদের নিজের মইধ্যে আবার অনেকের আয়না থাকে । তাদের একটা আয়না খালি হয় অন্যগুলা ভরাটই থাকে । তাই তারা যে গেলো তারেই পরবাসি কয় । আমারতো এতগুলা আয়না নাই । অনেকের কাছেও নাই ।

একটাই দিছি, নিছিও, সত্যিকারের অর্থে ধরতে গেলে, একটাই । কবি হারামজাদা কি তাইলে আমারেও পরবাসি কৈরা গেলো না ? আকামের শুরুডারে হয়ত আরো আগাইয়া ধরা উচিৎ । ছোটমামির পেট হওনের উছিলায় তার ঘরে আমার পারমানেন্ট আশ্রয় নেওনের সময় থাইকাই হয়ত ধরা যায় । মামা ব্যস্ত মানুষ । ক্যান্টনমেন্টে বৈসা বৈসা বিচি হাতাইলেইতো তার দিন চলে না ।

বৈসা থাকায় জমা তেল নামাইতে হয় । মামি ঢাউস পেট নিয়া নিজেই হয়রান । মামার তেল নামামির চান্স কই । কামের বেটির কাম বাড়ে , মজুরিও হয়ত বাড়ে । তখন বুঝি নাই এতকিছু ।

অনেকদিন পরে নাগিনীর লগে ইন্ডিয়ান থিরিএক্স দেইখা বুঝছি , মামা বেচারার তেল নামাইতে কত কষ্ট করন লাগছে । নাগিনী নামটা মনে হৈলেই একটু কৈরা হাসি পায় । কি একখান নাম রাখছে তার বাপে । তয় বেটিও সেই নামের মর্যাদাহানি করে নাই । অতীব সুন্দরি বৈলা আত্নবিশ্বাসের বদলে ওর খালি ফোঁসফাঁস স্বভাব মাঝে মইধ্যে বিরক্তিকর লাগলেও এখন এই এত বছর পরে মনে হয় , সুখ কারোরই নাইরে ফাগলি সুখ কারোরই নাই ।

যেই পোলা দেখে সেই পোলারই কুঁচকিতে ফোঁসফোঁস করনের স্বভাব যে মাইয়ার সেই মাইয়া একটা বাচ্চা নিয়া জামাইত্যক্তা নিয়া ঘরে বৈসা বৈসা একলা রঙঢঙ কৈরাই কাটায় দিনের বেশিরভাগ সময় । তবে পুরাটা সময় না, আবার সবগুলা দিনও না । কবির আগমন আরো অনেক পরে । তদ্দিনে ডলা খাওয়ার বেগ আমার আরো বাড়ছে । প্যাঁচ লাগাইয়া ফেলছি আরো অনেক কিছুতেই ।

প্যাঁচ লাগানিতে জবর হৈলেও ছুটানিতে আমি নিতান্তই কাঁচা । কিছু কিছু তাওযে কুনোমতে ছুটাইতে পারছি তাও তারই পরামর্শে । মেধা আর ইশটাইল দুইটার দুইমুখি টানের মইধ্যে আমার যেই বেড়াছেড়া অবস্থা তা থাইকা মুক্তি তবু এখনো ঘটে নাই । দুইটাই টানে , দুইদিক থাইকা । অনেকবার মনে হৈছে দুইটা পরস্পরবিরোধী, সংঘর্ষ বাধ্যতামূলক একটা কম্বিনেশন ।

কিন্তু তাও দুইটারে জোড়া লাগানির চেষ্টা থাইকা নিজেরে ক্ষান্ত করতে পারতাছি না । একটা নিজের নাই বৈলা হাহাকার থাইকা আকর্ষণ আরো বাড়ে । পরেরটাতো এমনিতেই টানে বেবাতেরেই । তাও আকামের শুরু হয়ত মাসুদরে দিয়াই ।



এর পর.....

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।