কয়েকটা নিক সুলেমানি ব্যান, কয়েকটা নিক ওয়াচে আছে। তাই নতুন একটা নিক খুলতে হল। আমি কৈলাম পুরান পাপী, তাই খেয়াল কৈরা..... গতকালকের মত আজকেও অবস্থান নিয়েছি সিলেটের চৌহাট্টা মোরে, শহীদ মিনারের সামনে। সাস্টের অন্যান্য ছাত্রছাত্রীর সাথে লাইন বেধে বসে পরেছি রাস্তায়। আগে থেকেই অনেক মানুষ এখানে কষাই কাদের মোল্লার ফাসীর দাবীতে সমবেত।
কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো এলাকা জনসমুদ্রে রুপ নেয়। বিভিন্ন ফেস্টুন, ব্যনার, ও স্লোগানে পুরো এলাকা প্রকম্পিত। সবার সামনে লাইন বেধে জ্বলছে মোমবাতি, মশাল। মোমের নিয়ন আলোতে সবার হৃদয়ে আলোড়িত হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধের চেতনা। জীবনের এই প্রথম মনে হচ্ছে আমি স্বাধীন বাংলাদেশে আছি, আমার স্বাধীনতাকে উপভোগ করছি।
সব ছেলেমেয়েরা কি নিশ্চিন্ত ভাবে গান গাইছে স্বদেশের। ।
একটু পরে লক্ষ করলাম,আমরা রাস্তার যে পাশটায় বসেছি ঠিক তার উল্টো পাশে নিরাপদ দুরত্বে দাড়িয়ে আছে কিছু তরুন। তাদের টিপিকাল পোশাকেই বলে দিচ্ছে তারা নিকটস্ত জামেয়া মাদ্রাসার ছাত্র। খুবই উৎসুখ দৃষ্টিতে দেখছে আমাদের স্বতস্ফুর্ত্ব প্রতিবাদ, গান, ফেস্টুন, কবিতাপাঠ, নতুন করে দেশ কে ভালবাসার উল্লাস।
হঠাত আমার মনে হল এদের মাঝে যদি কারো ইচ্ছা হয় যে, সকল কিছু ফেলে আমাদের সাথে রাস্তায় বসে পড়বে, গান গাইবে, রাস্তায় আলপনা আকবে, নতুন স্বাধীনতার উদ্দিপ্ততার স্বাদ নেবে.............. সে কি পারবে ?
আমি জানি সে পারবেনা। তাকে আটকে রাখবে কিছু অদৃশ্য পিছুটান। কারন সে শিখে এসছে গান গাওয়া হারাম, আলপনা আকা হারাম, রাস্তায় বসে মোম জ্বালিয়ে প্রতিবাদ বিধর্মিদের কাজ, ভাস্কর্য মানেই মুর্তিপুজা।
হঠাৎ মনটা বিষন্নতায় ছুয়ে গেল। আমাদের সাথে সাথেই বেড়ে উঠছে এমন একটি প্রজন্ম যে কোন দিন মুক্তির স্বাদ নিতে পারবেনা, স্বাধীনতার বাধভাঙা স্লোগানে যোগ দিতে পারবেনা, নিশ্বাশ নিতে পারবেনা স্বাধীনতার।
তাদের জন্য অদ্ভুত এক করুনায় মনটা ছেয়ে গেল। ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।