গতকাল লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ২ দিন ব্যাপী আরব নারী ফোরামের বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো। সমগ্র আরব বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নারী শিল্পী, রাজনীতিক, প্রমোদানুষ্ঠানের সংগঠক, মানবাধিকার নারী কর্মীসহ বিভিন্ন পেশাশ্রেনী নারীরা ২য় বারের জন্যএই ফোরামে অংশগ্রহন করে।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে নারীর "যৌন ও রূপ" বিষয়ক প্রসংগে নারীর যৌন অধিকার শীর্ষক আলোচনা কালে সভাকক্ষে তুমুল তর্কবির্তক ,হৈচৈ, ফাটাফাটি শুরু হয়ে যায়। হস্তমৈথুন সহ নারীর অন্যান্য বিষয়গুলো সংরক্ষিত রাখার প্রশ্নে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আগত অতিথি উত্তেজিত হয়ে বলেন, আমরা কি পশু? যদি আমরা মনে করি যৌনচর্চ্চা প্রকাশ্য করা যাবে, তাহলে দেরী কেন, এক্ষুনি এখানেই সবাই যৌনকামজ শুরু করি!
সংযুক্ত আরব আমিরাতের অতিথির মন্তব্য মাটিতে পড়ার আগেই লেবাননের চারোল আরায়েদ তার জবাব ছুড়েদিলেন, অভিযোগের সুরে বল্লেন, জ্বী না জনাবা আমরা পশু নই। আমরা নারী এবং আমাদের যৌন অধিকার রয়েছে।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহনকারীদের মাঝে অন্যতমা নারী ব্যাক্তিত্ব মিশরের চলচিত্র নির্মাতা ইনাস ডেগহেইসি আরববিশ্বের ঐতিহ্যময় ধারাটি যুক্তির মাধ্যমে খন্ডন করে বলেন, যৌন সম্পর্কটি হচ্ছে মহিমাম্বিত ও পরমোল্লাসিত একটি জিনিষ। এ কথাটি মোটেও সত্যনয় যে, আরব বাসীদের মধ্যে যৌন সম্পর্ক (বিবাহ পূর্ব) বিদ্যমান নাই। আমি নিজে এমন একটি পরিবারে বড় হয়েছি যেখানে যৌনবিষয়ক যে কোনো আলোচনাকে অপছন্দ করা হত। পরবর্তিতে এটিকে আনন্দময় এবং স্বাভাবিক হিসেবে আবিস্কার করি।
অনুষ্ঠানের উদ্ভোধনকারী সৌদি আরবের "এম বি সি" টেলিভিশন চ্যানেলের "কালাম নারায়েম" নামক অনুষ্ঠানের উপস্হাপিকা রানীয়া বারগোট নারীর জন্য নিষিদ্ধ বিষয়ক প্রশ্নে নারীর দৈহিক স্বাধীনতার দাবী করে বলেন,আরব সমাজে নারীর হস্তমৈথুনকে একটি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, কিনতু সম্প্রতি টেলিভিশনে সাক্ষৎকারে এক ইসলামী আলেম "শেখ" এই বিষয়ে নারীদের সম্পূর্ন অধিকার দেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহনকারী অপর এক মনঃসমীক্ষনবিদ মারী তেরেসা বাদাবী বলেন,আরব সমাজে এখনো নারীকে নিষিদ্ধ পন্য সামগ্রী হিসেবে সংরক্ষিত করে রাখা হয়েছে। বিয়ের পূর্বে নারীর সতিত্ব বিষয়ক প্রশ্নে তিনি বলেন,আমাদের ক্লিনিকে অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রয়েছেন যারা অস্রপাচারের মাধ্যমে সতিচ্ছেদ পুঃনগঠনের মধ্যদিয়ে নারীকে তার হারানো সতিত্ব ফিরিয়ে দিতে পারবে। তিনি জোর গলায় দাবী করে বলেন,আমরা এখানে লাম্পট্য বা যৌন আন্দোলন করছিনা,আমরা পরস্পর বিরোধপূর্ন অবস্হায় অবস্হান করছি সেটি জানাবার আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য।
যখন একদিকে নারী অধিকার আদায়ের প্রশ্নে ফোরামে বকবকানী চলছে, একই সময়ে অপর পাড়ে মুসলীমদেশ মালয়েশিয়ার প্রধান ইসলামী সংগঠন নারীর স্বাধীনতার বিষয়ে ফতোয়া জারী করে দিলেন। সে দেশের ইসলামী সংগঠনের পক্ষ থেকে জনাব আবদুল শুকুর ঘোষনা দিয়ে বল্লেন, নারীরা কোনো অবস্হাতে পুরুষের ন্যয় আচরণ করতে পারবে নাএবং পুরুষের পোষক পরিধান করতে পারবে না।
তিনি মনে করেন এ বিষয়ে বিধি নিষেধ না করা হলে নারীদের নারীসুলভতা ক্ষুন্ন হতে পারে। একই সাথে তিনি নারী সমকামীতা অবৈধ বলে ঘোষনা দেন। যদিও নারী সমকামিতা বিষয়ে ইসলামে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা নাই। তিনি মনে করেন,বর্তমানে মালয়েশিয়ার নারীরা সমকামীতার দিকে ঝুকে যাচ্ছে, অন্তত তাদের আচার আচরণে ইসলামী আলেমগন সেটিই দেখতে পেয়েছেন।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।