শরীরে শরীর নয়, ঠোঁটে ঠোঁট রাখাও নয়, মূহুর্তের ছোঁয়াও নয়, একটু দেখাতেই লিটার খানেক অগ্নিজলের ঘোর। ১। একাত্তরের ৫ এপ্রিল মিরপুর বাঙলা কলেজের ছাত্র পল্লবকে গুলি করে হত্যার নির্দেশ।
২। একাত্তরের ২৭ মার্চ সহযোগীদের নিয়ে কবি মেহেরুননিসা, তাঁর মা এবং দুই ভাইকে মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনের বাসায় গিয়ে হত্যা।
৩। একাত্তরের ২৯ মার্চ বিকেলে সাংবাদিক খন্দকার আবু তালেবকে আরামবাগ থেকে মিরপুর জল্লাদখানা পাম্পহাউসে নিয়ে জবাই করে হত্যা।
৪। ২৫ নভেম্বর'৭১এ ৬০-৭০ জন রাজাকারসহ কেরানীগঞ্জ থানার ভাওয়াল খানবাড়ি এবং ঘাটারচরে (শহীদনগর) শতাধিক নিরস্ত্র গ্রামবাসীকে হত্যা ।
৫।
একাত্তরের ২৪ এপ্রিল পাকিস্তানি সেনা ও অবাঙালি রাজাকারদের সঙ্গে নিয়ে মিরপুরের আলোকদী (আলুব্দী) গ্রামে হামলা। ওই ঘটনায় ৩৪৪ জনের বেশি নিহত হন।
৬। একাত্তরের ২৬ মার্চ তার সহযোগী এবং পাকিস্তানি সেনাদের নিয়ে মিরপুরের ১২ নম্বর সেকশনে হযরত আলী লস্করের বাসায় গিয়ে হযরত, তাঁর স্ত্রী, দুই মেয়ে এবং দুই বছরের এক ছেলেকে হত্যা, আরেক নাবালিকা মেয়েকে গণ ধর্ষণ।
সুত্রঃ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
এতগুলো প্রমানিত অপরাধের শাস্তি যাবজ্জীবন!
বাংলাদেশ থেকে মৃত্যুদন্ড ঊঠিয়ে দেয়া হোক।
প্রমানিত ৩৮৮ হত্যার, কিশোরীকে গণ ধর্ষনের শাস্তি যদি যাবজ্জীবন হয় তা হলে আর কোনো অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদন্ড হতে পারেনা।
বাংলাদেশ থেকে মৃত্যুদন্ড ঊঠিয়ে দেয়া হোক।
প্রমানিত ৩৮৮ হত্যার, কিশোরীকে গণ ধর্ষনের শাস্তি যদি যাবজ্জীবন হয় তা হলে আর কোনো অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদন্ড হতে পারেনা।
৬ অভিযোগের কোন কোনটি প্রমানিত হয়েছে?
একটা তো অন্ততঃ হয়েছে।
না হলে শাস্তি কিভাবে দেয়া হল?
এখন প্রশ্ন হচ্ছে যদি একটি অভিযোগও প্রমানিত হয়ে থাকে তা হলে তাকে কেন মৃত্যুদন্ড দেয়া হল না?
দেশ থেকে মৃত্যুদন্ডের বিধান না তুলে দিয়ে এই রায় কিভাবে দেয়া হ'ল?
গত নির্বাচনে আমাদের নির্বাচনী এলাকায় জোটের প্রার্থী এরশাদ হওয়ায় বিষম বিপদে পড়তে হয়েছিল। স্বৈরাচারকে কেঊ ভোট দেবেনা।
"যুদ্ধাপরাধী বিচারের জন্যে স্বৈরাচারকে ভোট দিন'- এই আকুল আবেদন নিয়ে যাদের দ্বারস্থ হয়েছিলাম তখন, তারা আজ কি বলাবলি করছে?
যারা স্বৈরাচারের সাথে হাত মেলাতে পারে তাদের জন্যে যুদ্ধাপরাধীদের সাথে হাত মেলানো কোনো ব্যাপার নয়।
সবচে কষ্টের ব্যাপার হ'ল এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল ও করা যাবেনাঃ
দ্য ইন্টারন্যাশনাল (ক্রাইমস) ট্রাইব্যুনালস অ্যাক্ট ১৯৭৩ এর ২১ ধারা আপীল নিয়ে আলোচনা করেছে। ২১ ধারা অনুযায়ী-
[ 21. (1) A person convicted of any crime specified in section 3 and sentenced by a Tribunal shall have the right of appeal to the Appellate Division of the Supreme Court of Bangladesh against such conviction and sentence.
(2) The Government shall have the right of appeal to the Appellate Division of the Supreme Court of Bangladesh against an order of acquittal.
(3) An appeal under sub-section (1) or (2) shall be preferred within 2[ thirty days] of the date of order of conviction and sentence or acquittal.]
সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি দণ্ডাদেশ কমানোর জন্য আপীল করতে পারবে কিন্তু দণ্ডাদেশ বাড়ানোর জন্য রাষ্ট্রপক্ষ আপীল করতে পারবে না!
শুধুমাত্র বেকসুর খালাস যদি কারো প্রাপ্তি হয় তখন রাষ্ট্রপক্ষ আপীল করতে পারবে।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।