আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বিদেশে জনশক্তি রপ্তানীর ব্যাপারে একটি প্রস্তাব

কেএসআমীন ব্লগ

বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানী বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের একটি অন্যতম প্রধান খাত। তাছাড়া দেশের জনশক্তি এমপ্লয়েড হওয়ারও সুযোগ পায় অপেক্ষাকৃত ভাল সুযোগ সুবিধায়। কিন্তু সেই সুবিধায় অশনিসংকেত দেখা দিয়েছে ইতিমধ্যেই। সৌদিআরব, বাহরাইন, মালয়েশিয়া... এইসব দেশে বাংলাদেশী জনশক্তির ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়ে গেছে। কিছুদিন আগে সরকার বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণলয় গঠন করেছেন।

কিন্তু তাতে কোন ফায়দা হয়নি, বরং ঝামেলা বেড়েছে মনে হয়। মূল কারণ হচ্ছে, দেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানীর কোন নীতিমালাই নেই। বাংলাদেশ থেকে যারা যাচ্ছে বিদেশে চাকুরী নিয়ে বা চাকুরীর আশায় তাদের অন্তত: ৭৫% ই বিদেশে যাওয়ার যোগ্য নয়। আরব আমিরাতে বাংলাদেশীদের কোন চাহিদা নেই মুসলমান হওয়া সত্বেও কিন্তু ভারতীয়দের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে... এ অবস্থার জন্য দায়ী হচ্ছে আমাদের অযোগ্য সরকার। তারা আজ পর্যন্ত বিদেশে চাকুরী নিয়ে যাওয়ার জন্য একটা যুতসই নীতিমালা তৈরী করতে পারেন নি।

সংক্ষিপ্ত একটা আইডিয়া দেই। জনশক্তি রপ্তানীর চেহারাই পাল্টে যাবে আমাদের দেশের... কানাডা বা অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার মত পয়েন্ট সিস্টেম চালু করার ব্যাপারটা সরকারকে ভাবতে হবে। ৫/৬টা বিষয়ে মোট ১০০ নাম্বার থাকতে পারে। কমপক্ষে ৭০ নাম্বার পেলেই ঐ ব্যক্তি বিদেশে যাওয়ার জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হবেন। ১) শিক্ষাগত যোগ্যতা - ২০ নম্বর এসএসসি পাশ করলে ১৫, এইচএসসি ও তার উপরে হলে ২০ পাবে।

অস্টম শ্রেণী পাশ হলে ৫ পেতে পারে। ২) ব্যবহারিক ইংরেজী জ্ঞান - ২০ নম্বর ইংরেজী কথোপকোথনে পারদর্শী হলে সর্বোচ্চ ২০ পেতে পারবে কেউ। ৩) স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উর্ত্তীর্ণ হওয়া - ২০ নম্বর নির্ধারিত স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে নির্ধারিত টেস্টগুলো করাতে হবে। অসুখ বিসুখ না থাকলে ১৫ পাবে। স্বাস্থ্য সুঠাম হলে ও ভাল কর্মক্ষম হলে ২০ পর্যন্ত পেতে পারে।

৪) এপিয়ারেন্স এন্ড স্মার্টনেস - ২০ নম্বর বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে এটাও গুরুত্বপূর্ণ। এখানেও ২০ পর্যন্ত নম্বর দেয়া যাবে। ৫) আধুনিক চালচলন ও আচার ব্যবহার - ২০ নম্বর বিদেশে যাওয়ার আগেই চলাফেরার নিয়মকানুন, শিষ্ঠাচার ইত্যাদি শিখে নিতে হবে। এর জন্য গুমিংআপ সেন্টার থেকে প্রশিক্ষণ নিতে হবে। বাথরুম ব্যবহারই ধরুন না।

এটা না শিখে বিদেশে গেলে কিরকম বিড়ম্বনায় পড়তে হয়.... মোট=১০০ নাম্বার ২/৩টি প্রথম শ্রেণীর ট্রাভেল এজেন্সিকে নির্দিষ্ট মেয়াদে এই ক্ষমতা দিয়ে প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেট ইস্যু করার অনুমতি দেয়া যেতে পারে। জনশক্তি মন্ত্রণালয় তাদের শুধু তদারকী করবেন। জনশক্তি আমদানীকারকরা নাম্বারের ভিত্তিতেও আমাদের লোকবল নিতে পারেন। কারো কারো বিশেষ ট্রাভেল এজেন্সির প্রতিও আগ্রহ বেশী থাকতে পারে। দায়িত্বপ্রাপ্ত এজেন্সিগুলো তাদের নিজেদের স্বার্থেই ভালভাবে কাজ করবে।

জনশক্তি মন্ত্রণালয় ও এই এজেন্সিগুলো বিদেশে আমাদের শ্রমিকদের চাকরীর বাজার সম্প্রসারনেও যথাসাধ্য কাজ করবে। একবার দক্ষ ও যোগ্য লোকবল বিদেশে যাওয়া শুরু করলে আমাদের শ্রমিকদের চাহিদা বাড়বে, সুনাম বাড়বে।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।