আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

সখী ভাবনা কাহারে বলে.........সখী ভালোবাসা কারে কয়?

একটি নিষ্ক্রিয় ব্লগ

মনিকা বারবার একই কথা বলছে...."আরে ঐ গাঁইয়্যা ছেলে তোর প্রেমে পড়েছে। তুইতো গাধা কিছুই বুঝিসনা। " রেণু মুখ বাঁকিয়ে বলে "আর আপনি একটু বেশীই বুঝে ফেলেছেন। প্রেমে পড়া এত সহজনা। " "কি বলিস তুই? ছেলেরা সহজেই প্রেমে পড়ে।

মেয়েরা সহজে পড়েনা তবে পড়লে এমনভাবে পড়ে যে আর উঠতে পারেনা। " "ইস্‌স্‌......পাকনা পাকনা কথা বলিসনা। তুই মনে হয় এ ব্যাপারে অনেক অভিজ্ঞ?" "নারে......অন্যকে দেখে শিখেছি। এখন তোকে দেখবো তুই হাবুডুবু খাচ্ছিস, উঠতে পারছিসনা। " "দেখ্‌ মনিকা আরেকবার ঐ গাধাটার ব্যাপারে কথা বললে রিক্সা থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেবো।

" "ওম্মা! তুই নিজেইতো কাল সারারাত ফোনে বেকুবটার ব্যাপারে কথা বললি। তুই নিজেই আগ বাড়িয়ে বললি যে ওর চোখে চোখ পড়লে সে চোখ সরিয়ে নেয়, আমার কী দোষ?" "আরে ধূর! লাজুক প্রকৃতির ছেলে। নিতান্তই গ্রামের ছেলে, চুপচাপ শান্তশিষ্ট। " "আহা কত দরদ! ডিপার্টমেন্টের সবচেয়ে ঝগড়াটে স্মার্ট মেয়ে সবচেয়ে গাঁইয়্যা ছেলের প্রেমে পড়েছে! হট নিউজ! হাহাহা......." "এ্যাই তোর অ্যাসাইনমেন্ট তুই নিজে করবি। আমারটা কপি করলে ঘাড় থেকে কল্লা ফেলে দেবো।

" "মাই গড্‌" বাসায় ফিরেই রেনু ব্যাগটা বিছানায় ছুঁড়ে ফেললো। এটা তার ছোটবেলা থেকেই অভ্যাস। কিছু কিছু অভ্যাস মানুষ বদলাতে পারেনা। এটা তেমন একটা অভ্যাস। বাসায় ফিরেছে সে প্রচন্ড রাগ নিয়ে।

রাগটা কার উপর ঠিক বুঝলোনা.....মনিকার উপর নাকি সুজন নামের সেই গেঁয়ো ছেলেটার উপর। ছেলেটা ইদানীং বিরক্তির চরম সীমায় উঠেছে। ক্লাসে সে এমন এক বেঞ্চে বসে যেন রেনু যেখানেই বসে আড়চোখে দেখা যায়। চোখে চোখ পড়লে সরিয়ে নেয়। রেনুর একবার ইচ্ছা করছিলো যেয়ে বলে,"সুজন তুমি কি কিছু বলতে চাও? যদি চাও বলে ফেলো, পরের ব্যাবস্থা আমি নেব।

" কিন্তু বলা হয়নি.......... কারোরই বলা হয়নি.....না রেনুর....না সুজনের। সুজন ছেলেটার চোখজোড়া অসম্ভব সুন্দর, ঘনকালো দিঘীর মত টলমলে চোখ। এই চোখজোড়া থাকার কারনেই বোধহয় রেনুর ছেলেটাকে ধমক দিতে ইচ্ছা করেনা। রেনুর হঠাৎ মনে হলো সে কোথায় যেন পড়েছে বুদ্ধিমান আর ক্ষুধার্ত মানুষের চোখ চকচক করে....বাকিদেরটা ম্লান থাকে। ছেলেটাকে দেখলে মনে হয় সে খুব নিঃসঙ্গ প্রকৃতির।

ইউনিভার্সিটিতে এত বছর কাটানোর পরেও তার কোন বন্ধু নেই। তার পাশে কোন ছেলেই স্বেচ্ছায় বসেনা...এটা কি অস্বাভাবিক নয়? রেণু নিজেই নিজের উপর বিরক্ত হলো এটা ভেবে যে কেন সে সুজনের কথা ভাবছে। তার মানে সেও কি ছেলেটার প্রতি দুর্বল? অসম্ভব.....হতেই পারেনা। কত বাংলিশ ছেলে রেনুকে পটানোর চেষ্টা করে আর সুজনতো তাদের কাছে কিছুইনা। দিন কাটতে লাগলো.....রেনুর একটা ভয়ানক সমস্যা দেখা দিলো।

সে নিজেই এটা নিয়ে চিন্তিত। সমস্যাটা হলো সে সুজনের চোখজোড়া না দেখে থাকতে পারেনা। আগে চোখাচোখি হলে রেণু খুবই রাগি চোখে তাকাতো, এটা ছেলেটা বুঝেও বুঝতোনা। এখন রেণু স্বাভাবিক চোখেই তাকায়, কিন্তু ছেলেটা আগের মত ঘনঘন তাকায়না, মাঝে মাঝে তাকায়। এটা খুশীর কথা হলেও রেনুর খুশী লাগছেনা।

তার মানে ছেলেটা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে? রেনুর মন খারাপ লাগছে। সেকি ছেলেটার প্রেমে পড়েছে? মনিকা হঠাৎ বললো,"শোন আজকে মারুফ নাকি বদি স্যারের ২ ঘন্টার ক্লাসে নাক ডেকে ঘুমাবে। সে আয়োজন করছে। সাথে তার চ্যালা বন্ধুরাও আছে। সবাই একযোগে নাক ডাকবে।

হাহাহা....." "তোরা এত ফালতু বিষয়ে মাথা ঘামাস ক্যান?" "তোর কি হয়েছে? আগের মত হাসিসনা.....ঝগড়া করিসনা। ছ্যাঁকা খেয়েছিস?" "হুমম.......প্রেমে না পড়ে ছ্যাঁকা খাওয়াকে কি বলে বলতো?" মনিকা অবাক হয়ে তাকায়। "আমি কোন মানুষের প্রেমে পড়িনিরে। একজোড়া চোখের প্রেমে পড়েছি। তুই আমার একটা উপকার করতে পারবি?" "কি উপকার? ইনাম চাই.....কি দিবি?' "কিছুইনা।

ঐ বেকুবটারে এখন একটু যেয়ে বল যে ছুটির পরে লাইব্রেরীর সামনে থাকতে। তার সাথে আমার জরুরী কথা আছে। " "ও মাই গড! ইহা আমি কি শুনিলাম! ঐ গাঁইয়্যাটার সাথে তোর কি কথা?" "তোকে বললে তো হবেনা। এটা একান্তই আমার পার্সোনাল ব্যাপার। " লাইব্রেরীর সামনে সুজন একা দাঁড়িয়ে আছে।

যে মেয়েটার সাথে পারুলের মিল আছে সে মেয়েটা নাকি তার সাথে জরুরী কথা বলবে। সুজন ভেবে পাচ্ছেনা মেয়েটা তাকে কি বলবে। সে বিব্রতবোধ করছে। মেয়েটা আসছে......ধীর পায়ে আত্মবিশ্বাসের ভঙ্গিতে। সুজন বিশ্বাস করতে পারলোনা যে এই মেয়ে নিজ থেকে তার সাথে কথা বলবে।

রেনু সুজনের চোখের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো..."সুজন তুমি ভালো আছ?" "হুঁ" "তুমিতো ক্লাসে খুব চুপচাপ থাক। ছেলেদের সাথেও কথা বলনা মেয়েদের সাথেও কথা বলনা। অন্য ছেলেরা হই হুল্লোড় করে আর তুমি একটু পরপর আড়চোখে আমার দিকে তাকাও। কেন?" সুজন একসাথে এতকথা শুনে খুবই অপ্রস্তুত হয়ে গেলো। সে মনে মনে কথা গুছাতে লাগলো..."স্যরি।

আর তাকাবোনা। " রেনুর উত্তর শুনে মন খারাপ লাগলো। কিন্তু প্রকাশ করলোনা। সে বললো,"আগে বল কেন তাকাও? সঠিক জবাব দিবে। " "তোমার সাথে আমাদের গ্রামের একটা মেয়ের খুব মিল আছে।

সে কথা বলার সময় তার ডান গালে টোল পড়ে। তোমারও ডান গালে টোল পড়ে। অবিকল পারুলের মত। এটা দেখলে আমার খুব ভালো লাগে, পারুলের কথা মনে হয়। আমি জানিনা কেন ভালো লাগে।

এটা অপরাধ হলে আমাকে ক্ষমা কর। আমি আর কখনও তোমার দিকে তাকাবোনা। " রেনুর হৃদয়টা হঠাৎ করে মোচড় দিয়ে উঠলো। সে বললো, "হুমম......আর তাকাবেনা। আমি তোমার এই চাহনিটা খুবই ঘৃণা করি।

আমি যা বলি সরাসরিই বলি। তুমি দয়া করে আমার কথায় মন খারাপ করবেনা এবং নেক্সট্‌ টাইম আমার দিকে তাকাবেনা। " রেণু গটগট করে হেটে যাচ্ছে। একটু বিদায় দিলোনা। এমনকি সুজনকেও কিছু বলার সুযোগ দিলোনা।

সুজন খুবই লজ্জিতবোধ করছে । রেনু রিক্সায় করে বাসায় যাচ্ছে। সে আজকে ইচ্ছা করেই মনিকাকে ফেলে একা একা চলে এসেছে। তার মনে হচ্ছে সে কি যেন হারিয়ে ফেলেছে, প্রিয় কিছু। ভালো লাগছেনা........একজোড়া চোখ তার হৃদয়কে ভেঙ্গে দিয়েছে।

ব্যাপারটা আশ্চর্যের। সে হঠাৎ রিক্সাঅলাকে রিক্সা ঘুরাতে বললো..."চাচা আগের জায়গায় নিয়ে যান। " "জে....আপনি টিকাটুলি যাইবেননা?" "যাব। আমার লোক ফেলে এসেছি। আপনি তাড়াতাড়ি যান।

" রেনু মনিকাকে ফোন করলো "হ্যালো মনিকা ৩ মিনিটের মধ্যে কার্জনের গেটে আয়। আমি রিক্সা নিয়ে আসছি। " "রেনু আমাকে এবার বল সুজনকে কী বলেছিস্‌?" "সেটা না জানলে কি হয়?" "বলনা দোস্ত" "বলছি....এই পাঁঠা তুই আমার দিকে তাকাস ক্যান? আরেকবার তাকালে মুলিবাঁশ দিয়ে চোখ গেলে দিব? ব্যাস ল্যাঠা চুকে গেল। " "হাহাহাহাহাহা.........তোর পক্ষে যারেতারে এমন কথা বলা স্বাভাবিক" "হুমম.......আচ্ছা মনিকা বলতো মানুষের কোন জিনিসটা সবচেয়ে সুন্দর। " "দার্শনিকের মত করে বলি?" "হ্যাঁ বল" "হৃদয়....." "তুই চিন্তা করে দেখ একোজোড়া চোখ যদি একটা সুন্দর হৃদয়কে ভেঙ্গে ফেলে তাহলে মেজাজ খারাপ হয়না?" "কি যাতা বলিস?" রেনু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো "বুঝবিনা।

তোর বোঝার সাধ্য নাই। "

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।