আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ভাত দে ! হে ঈশ্বর হারামজাদা ! জনগণকে খাইয়ে তবেই চোরের বিচার কর...!

বন্ধ জানালা, খোলা কপাট !

একজন পিতা আত্মহত্যা করেছেন । দু'বছরের ফুটফুটে শিশু স্বর্ণার মুখে খাবার তুলে দিতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন । পরিবার-পরিজন নিয়ে তিন দিন না খেয়ে উপোস থাকার গ্লানী সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন এই হতদরিদ্র পিতা সোহেল । খাবারের অভাবে আত্মাহুতি দেয়া একজন সোহেলকে আমরা মনে রাখবোনা বেশীদিন । আমরা মনে রাখবো, গদিসীন সেই সামন্ত প্রভুকে ।

ক্ষমতার মসনদে বসে ঈশ্বর সেজে যিনি মানুষকে ভুখা মারছেন ! আরজন পিতা হয়েছেন সন্তান হন্তারক । দরিদ্রের কষাঘাতে অতিষ্ট পিতা হত্যা করেছেন তার ঔরষজাত দুই কন্যা সন্তান, সুরমা আর পারভিনকে ! যথাক্রমে ১৬ আর ৬ বছর বয়স যাদের । অভাবের সংসারে পাষন্ড পিতাটি পারেননি বড় মেয়ে সুরমার শ্বশুরালয়ের যৌতুকের দাবী মেটাতে । তিনি লাঞ্চিত হয়েছেন । মেয়ে সন্তান না থাকলে আর যৌতুক দিতে হবে না এই সত্যটি উপলব্দি করে ক্ষোভে হতাশায় গভীর রাতে দুই মেয়ের গলায় ধারালো দা চালিয়ে দিয়েছেন দারিদ্রের অভিশাপে অভিশপ্ত এই পাষন্ড পিতা আবুল কালাম ।

শেষে নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন । মধুপুরের রেহানা নামের যে মা'টি দুগ্ধপুষ্য শিশুসন্তানকে বুকের দুধের বদলে কচু-ঘেঁচু সেদ্ধ করে খাওয়াচ্ছেন বুকের দুধ শুকিয়ে গেছে বলে ! যে মা আর তার দুধের সন্তান মরণ পথের যাত্রী হয়েছেন সপ্তাহ ধরে সেদ্ধ কচু খেয়ে, ইতিহাসের পাতায় নাম ওঠিয়ে তারা হয়তো সম্মানীত হবেন না । তবে ইতিহাস হয়তো একদিন কথা কইবে, কি করে কচুর ব্যবহার হয়েছিল গদিসীন ঈশ্বরের পশ্চাতে ! ভবিষ্যত ইতিহাস হয়তো কথা কইবে বর্তমানের ৬০ বছরের বৃদ্ধা ভিখারী করিমনের সুর ধরে,-"মানসের বাড়িতে গেলে আগে খাওন চায়লে ফিরায় দিতো না, এহন কেউ আর খাওন দিতে চায়না । খাওন দিবো কেমনে সক্কলেরই তো পেটে টান !" ইতিহাস কথা কইবে ৫০ বছর বয়স্ক মুড়ি বিক্রেতা জাফরের কন্ঠ ধরে,-"ফখরুদ্দিন সরকার আমগোরে অনেক কিছু দিছে । তয় যে জিনিসটা বেশী দিছে তা হইলো টেনশন ।

এখন প্রত্যেক দিন সকালে ঘুম থিকা উইঠাই চিন্তা করতে হয়, দুপুরে কি খামু । দুপুরে খাবার জোগাড় হইলেও রাইতে কি না খায়া ঘুমামু ? " ইতিহাস বলে দেবে ভাতের বদলে আলু খাবার উপদেশের শেষ পরিণতি কি হয়েছিল ! এদিকে গদিসীন ঈশ্বর দুই নেত্রীর মুক্তির পথে সংলাপের নাটক সাজিয়ে চলেছেন । ওদিকে শিল্পের চাকা হচ্ছে স্থবির , ভেঙ্গে পড়ছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা । পানির সঙ্কট ওঠেছে চরমে । তবু গদিসীন ঈশ্বরের অহর্নিশী, 'সবকিছু ঠিক আছে, পর্যাপ্ত খাবার মজুৎ আছে' চিৎকার চৌরাস্তার গোল চত্তরে দাঁড়ানো বারবণীতার বিশেষ ইঙ্গিতের মতো কুৎসিত ঠেকে ।

তাই,একজন ভুখা আলাউদ্দিনের কথাকে নিজের মতো করে বলি,- ভাত দে ! হে ঈশ্বর হারামজাদা ! জনগণকে খাইয়ে তবেই চোরের বিচার কর...!

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।