জীবন বুনে স্বপ্ন বানাই মানবজমিনে অনেক চাষ চাই
বাংলাদেশে নিরপেক্ষ লোক খুঁজে পাওয়া বড় কঠিন। যে যেই পেশায় থাকুন না কেন, সবাই রাজনীতিবিদ। আমাদের দেশে শিক্ষক রাজনীতিবিদ, চিকিৎসক রাজনীতিবিদ, আইনজীবি রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক রাজনীতিবিদ, ছাত্র রাজনীতিবিদ - মানে এদেশে কোন পেশার লোকই রাজনীতির বাইরে নেই। আমাদের বুদ্ধিজীবিরা প্রকাশ্যে কোন না কোন রাজনৈতিক দলের সমর্থনে গলাবাজি করেন, মিথ্যাচার করেন এবং রাজনীতি প্রভাবিত না হয়ে কোন কথা বলতে পারেন না।
মূলত রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গসংগঠেন নামে পেশাজীবিদের রাজনীতিতে নামানো হয়।
যে যেই দল করেন, সেই দল ক্ষমতায় এলে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সেই পেশাজীবি লুটপাটে নেমে পড়েন। তার কোন যোগ্যতা না থাকলেও রাজনৈতিক বিবেচনায় পদোন্নতি পেতে থাকেন, দুর্নীতি করতে থাকেন, দুর্নীতি করে টাকার ও সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলেন। আর যোগ্যতর যারা তারা কোন রাজনীতিতে না থাকলে অন্ধকারে তলিয়ে যেতে থাকেন।
স্বাধীনতার পরে রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি জাতি হিসেবে আমাদের দুর্নীতিবাজ, অথর্ব, মেধাহীন ও পশ্চাৎপদ করে তুলেছে। প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল গদি পাওয়ার লোভে বিভিন্ন পেশাজীবিদের তাদের কর্তব্য কাজের চেয়ে রাজনীতি করার প্রতি উৎসাহিত করে এসেছে।
আমরা জাতির মেধাবী সন্তানরা অবাধ দুর্নীতি করার সুযোগ পেতে যে যেভাবে পেরেছি নেতাদের পদলেহন করেছি, করেই যাচ্ছি। আজকে পেশাজীবিদের প্রতিটি সংগঠনে একাধিক বিভক্তি রাজনীতির নামে, সেখানে পেশাজীবিদের স্বার্থে কোন কার্যক্রম পরিচালিত হয় না। বরং হালুয়া রুটির ভাগ বাটোয়ারার কাজে ব্যবহৃত হয় এসব তথাকথিত পেশাজীবি রাজনৈতিক দালাল।
আমরা রাজাকারদের ঘৃণা করি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই। পাশাপাশি আজ স্বাধীনতা দিবসে আসুন আমরা নিজেদের শোধরানোর প্রতিজ্ঞা করি।
আর কখনো নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থে, দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের লোভে কোন রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি করব না আমরা। আমরা আমাদের মেধা ও শ্রমের মাধ্যমে গড়ে তুলব আমাদের ভবিষ্যৎ। কারো দুনম্বরীতে সহায়তা করব না এবং কাউকে এসব দুর্নীতি করতেও দেব না। আজ স্বাধীনতা দিবসে এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার। সবাইকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।