আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

রবি ঠাকুর নিয়ে অহেতুক বিতর্কঃ একটি প্রস্তাব

যুদ্ধাপরাধীর বিচার ও জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবী করছি

গত দুইদিন যাবত ব্লগে দেখছি একদল রবি ঠাকুরকে নিয়ে বিতর্ক করছে। বিষয় রবি ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিরোধিতা করেছেন কি না। একটু লক্ষ্য করলে দেখা যাবে - বিতর্কের উপস্থাপক কিন্তু বিতর্কের উপস্থাপন এভাবে করেনি। তার সুরটা ছিল এই রকম: ১) রবি ঠাকুর যে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিরোধিতা করেছিলেন সেইটা নিশ্চিত। ২) ড. আনোয়ার হোসেন রবি ঠাকুরে সাহিত্য থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে একটা মহা অন্যায় করেছেন - কারন উনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়ে সেই বিশ্ববিদ্যালয় স্হাপনের বিরোধিতাকারীর সাহিত্য থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে অপমান করেছেন।

৩) ড. আনোয়ার হোসেন একজন স্বল্প স্মরনশক্তির মানুষ (মাছের মতো) হিসাবে একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসাবে যোগ্য কিনা? কিন্তু ব্লগে দেখলাম একটা পয়েন্টের উপর দারুন একটা পোস্ট দিয়েছেন সুশান্ত। কিন্তু সেটা কি তাদের জন্যে যথেষ্ঠ? উত্তর হবে - না। কারন, যারা বিতর্ক সৃস্টি করছে তাদের উদ্দেশ্য ব্লগে এসে জ্ঞানার্জনের জন্যে যে এই কর্মটা করে না - সেইটা হলফ করে বলা যায়। তাহলে তাদের এই বিতর্ক সৃস্টির কারন কি? যদি পাঠকদের মনে থাকে - মোনায়েম খান নামে এক গভর্নর ছিলো পূর্ব পাকিস্থানে। যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ডেকে বলেছিলো - হিন্দু একটা লোকের গান কেন আমরা শুনবো - আপনারা রবীন্দ্র সংগীত লিখতে পারেন না।

সেই সুবাদে কায়কোবাদ হয়ে যান মহা কবি। আর রেডিও - সরকারী অনুষ্ঠানে নিষিদ্ধ হয় রবি ঠাকুরের গান। বিস্তারিত জানার জন্যে ছায়ানটের জন্মের ইতিহাসটির দিকে একটু চোখ বুলানো যেতে পারে। মোদ্দা কথা হলো - মোনায়েম খানকে মারা গেলেও তার প্রেতাত্না এখনও কারো কারো উপরে ভর করে আছে। তারপর আছে ড. আনোয়ার হোসেন - যিনি প্রগতিশীল হিসাবে পরিচিত।

রবি ঠাকুরে সাথে যদি এক ঢিলে তাকে ফেলে দেওয়া যায় - ক্ষতি কি? তারপর আসবে রবি ঠাকুর যেহেতু বঙ্গভঙ্গ চান নি - সুতরাং তার গান কেন জাতিয় সংগীত হলো...ইত্যাদি। কিন্তু বাঙালীর কাছে রবি ঠাকুরে ব্যক্তি জীবনের চেয়ে তার সাহিত্য কর্মের মূল্য অনেক বেশী। রবি ঠাকুরের কাছে আমাদের ঋণ - উনি বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বসাহিত্যের দরবারে স্থান করে দিয়েছেন - সমৃদ্ধ করেছে বিপুল ভাবে। একজন বাঙালী হিসাবে এই ধরনের বিতর্কে অংশ গ্রহন করে সময় নষ্ট না করে কয়টা রবীন্দ্র সংগীত শুনাকে শ্রেয়তর কর্ম মনে করি। কারন ব্যক্তি রবি ঠাকুরে চেয়ে তার সাহিত্যকর্মই আমাদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ন।

অনেকেই হয়তো একমত হবেন এই বলে যে কর্মের চেয়ে ব্যক্তি বড়। ঠিকাছে। আপনার এই মত থাকতেই পারে। যারা ব্যক্তি রবি ঠাকুরকে নিয়ে তর্ক করে তাকে বাংলাদেশ বিরোধী বানাতে চান - তারা আবার ঘটনাচক্রে গোলাম আজমের অনুসারীই বেশী। তাদের কাছে একটা বিতর্কের প্রস্তাব দিতে চাই: "শুনা যায় (কোন ভাল হাতে সূত্র নেই) গোলাম আজমের এক ছেলে তার চাচীকে ভাগিয়ে নিয়ে গেছে।

যে তার নিজের ছেলেকে সুশিক্ষা দিতে ব্যর্থ - তার অনুসরন করে কি ধরনের আদর্শিক হবে সমর্থকগন। " আসুন বিতর্ক শুরু করি।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।