আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

তুই জীবন ছাড়িয়া গেলি নিধূয়া পাথারে

আপাততঃ খই ভাজি...

গত বছর শীতের শেষদিকে আমি একটি বিনিদ্র রাত কাটিয়েছিলাম। আমার চোখের সামনে একটি রাতের জন্ম শুরু হয়। তার যৌবন পেরিয়ে যখন মধ্যবয়স তখন আমি ছাতে উঠে গেলাম। শুক্লপক্ষের তারাজ্বলা আকাশ। আমাদের পলেস্তারা খসে ইট বেরিয়ে পড়া নোংরা সিঁড়িঘরটা মোটেই সুন্দর দেখাচ্ছিল না তাতে।

তবু সেই ঘরের বাইরের দেয়ালে ঠেস দিয়ে আমি বসে থাকি। ধীরে ধীরে রাত বুড়ো হতে থাকে। আমি অস্থির হই। আমার খুব ইচ্ছেকরে সমস্ত পৃথিবী হঠাৎ অন্ধকারে ডুবে যাক। রাতের বয়স আরো বাড়ে।

নগরের আলো ফ্যাকাশে হতে হতে একসময় মিইয়ে যায়। কেবল তারার সংখ্যাবৃদ্ধি ঘটে। লক্ষ লক্ষ তারার শাঁদেলিয়ের আমার চারপাশে ভুতুড়ে অন্ধকার জমাট বাঁধতে দেয় না। আমি ঠায় বসে থাকি। ভেতরের দেয়ালে একটা টিকটিকি ডেকে ওঠে সরে পড়ে দ্রুত... এক ঝলক বাতাস পেছনের দেবদারু গাছের পাতায় সড়সড়ে আওয়াজ তুলে মিলিয়ে যায়... অনেক দূরের কোন রাস্তায় জোরে হর্ণ বাজিয়ে ছুটে যায় কোন ট্রাক কিংবা ভারি লরি।

তারপর একসময় সব চুপচাপ। একঘেয়ে নৈঃশব্দ নেমে আসে চারপাশে। আমার অদ্ভুত ভাল লাগতে শুরু করে সবকিছু। যথারীতি পুরনো সুখস্মৃতিরা এসে ভিড় জমালে সেই দূর্দান্ত রাতের হাওয়ায় সেসব ছড়িয়ে দিতে ইচ্ছে করে। রাত আরো গভীর হলে মদিরা বাতাসে আমার তন্দ্রামত আসে, হয়ত ঘুমিয়েও পড়ি।

...চোখ মেলে দেখি আরেকটি নতুন দিনের জন্মক্ষণ। মুয়াজ্জিনের আযান ভেসে আসছে। একটা, দু'টো করে শুরু হয়... তারপর একসাথে অনেকগুলো... আরেকটু পর আমি উঠে দাঁড়াই। পেছন দিকটায়, পূবাকাশে তখন পবিত্র আলো। তারও কিছু পর এই ইট-পাথরের স্তুপের শহরে সূর্য উঁকি দেয়।

ভবিষ্যতের পথে নতুন আরেকটা দিনের যাত্রা শুরু হল। আমি অবাক তাকিয়ে দেখি... আমার চোখের সামনে সূর্যটা একটু একটু করে জেগে ওঠে... মাঝ আকাশের দিকে ডিঙি বায়... ঠিক তখন অনেক অনেকদিন পর আমার খুব কান্না পায়। আমার পাঁচ বছরের ছোট্ট বয়স দরজার ওপাশ থেকে আমাকে ছুঁতে চায়। আমি তার কান্না কান্না মুখ দেখি কিন্তু আমার পা সরে না।


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।