'আমি একটি কথাই বলব, সেটা হচ্ছে...' তারপর দীর্ঘক্ষণ নিশ্চুপ, ঠোঁট দুটো শুধু কাঁপছে আর চোখের কোণ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে অশ্রু। বাংলার মুকুটহীন নবাব-খ্যাত অভিনেতা আনোয়ার হোসেন চেষ্টা করলেন তার শেষ ইচ্ছার কথাটি বলতে, কিন্তু পারলেন না। অব্যক্ত কথা তার হৃদয়েই থেকে গেল। কী ছিল নবাবের না-বলা কথাটি? এ প্রশ্ন আজীবন ঘুরপাক খাবে তার প্রিয়জনদের মনে। আনোয়ার হোসেন ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন প্রিয় কর্মস্থল এফডিসি ঘুরে দেখবেন।
তাই ১৮ জুন এফডিসিতে আনা হয় এ অভিনেতাকে। হুইল চেয়ারে ঘুরিয়ে দেখানো হলো পুরো এফডিসি। এফডিসির ঝরনা স্পটে আয়োজন করা হলো সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের। সবাই যখন মুকুটহীন নবাবকে অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য রাখছিলেন তখন আবেগাপ্লুত নবাব ফ্যালফ্যাল করে অসহায় দৃষ্টিতে চারদিকে তাকাচ্ছিলেন আর ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছিলেন। সাত বছর পর প্রিয় কর্মস্থল এফডিসিতে এলেন তিনি।
যার বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বরে কেঁপে উঠত সিনেমা হল, সেই অভিনেতা তখন নির্বাক। বার্ধক্যজনিত কারণে চার বছর ধরে শয্যাশায়ী তিনি। অভিনেতা সুব্রত নবাবকে সম্মান জানিয়ে যখন সিরাজউদ্দৌলার সংলাপ উচ্চারণ করছিলেন তখন হুইল চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ানোর ব্যর্থ চেষ্টা করলেন আনোয়ার হোসেন। স্ত্রী নাসিমা আনোয়ার চোখের অশ্রু মুছে দিয়ে সান্ত্বনা জানালেন তাকে। অনুষ্ঠানের উপস্থাপক সাংবাদিক আবদুর রহমান নবাবকে অনুরোধ জানিয়ে বললেন, আপনি আমাদের জন্য দোয়া করবেন।
নবাব কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে তিনবার বললেন_ দোয়া আছে, দোয়া আছে, দোয়া আছে। কিন্তু শেষ ইচ্ছার কথা বলে যেতে পারেননি তিনি।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।