এখানে নীল জল টলমল করে,এখানে নীলের ছায়া পড়ে
ানলা খোলা যােেচ্ছ না। একটু ফাক ফোকর পেলেই ঠান্ডা বাতাস হু হু করে ঢুকে পড়ছে ঘরে। সারা ঘর হিম শীতল হয়ে যাচ্ছে। গত রাত থেকে বৃষ্টি ,বৃষ্টির তালে তালে গাছগুলো খেমটা নাচে মেতে উঠেছে। বৃষ্টির শব্দ থিতিয়ে এসেছে,কিন্তু নিজেদের থামাতে পারছে না গাছ গুলো।
ছাই রঙা আলো চারদিকে ছেয়ে আছে। "এমন ও দিনে তারে বলা যায়"। সাথে মুড়ি চানাচুর,অনেকে বলবেন একটু রবিদা হলে মন্দ হতো না।
কিন্তু বাচ্চার দুধ নাই ঘরে। এই সব রোমান্টিকতা ছেড়ে বেড়িয়ে পড়তে হয় অনিশ্চয়তার সন্ধ্যায় দুধ আনতে।
বাসের জন্য অপেক্ষা। বেশ শীত পড়েছে। সোয়েটার বেধ করে বাতাসের ফলা ঠিক ছুয়ে যাচ্ছে শরীর। বাস ঠিক সময় মতোই এলো,ঠিক সময়ে নামিয়ে দিল গ্রোসারি স্টোরে। কিন্তু আবার বাস আসবে 30 মিনিট পর,স্টপেজে যেতে যেতে নাকের ডগা ছুয়ে বাস চলে গেল।
তার মানে আর ও 1 ঘন্টা বসে থাক স্টপেজে। ফুটপাতে বসানো ছাউনিতে বসে আছে বেগে দুধ,আরও কিছু দরকারী জিনিস। সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছে,ছাই রঙা আলো একে রাত বানিয়ে দিয়েছে। ছুনি গুলো কমার্শিয়ালের জন্য ভাল জায়গা। এর জন্য আলো সংযোগ দিতে গিয়ে কোনায় একটা কাচের স্লাব উধাও করে দিয়েছে।
যখনই ঠান্ডা বাতাসের হাত থেকে পরিত্রান পেতে কোনায় ঘিয়ে দাড়ায় তখন ই বুঝতে পারে এখানেও ফাক আছে,উপায় নাই গোলাম হোসেন,বাতাস তোমাকে ছোবেই। সাথে আছে গাড়ির চাকা ছিটানো পানি। কোন ভাবেই এড়ানো যাচ্ছে না। আজ গাড়িগুলোও বেপরোয়া,তাদের সর্বোচ্চ গতিবেগে চলছে মনে হয়। কি আর করা সব কিছু ভুলিয়ে রাখার জন্য হেরে গলায় গেয়ে উঠা ছাড়া অন্য কোন প্রতিকার পাওয়া গেল না।
100্#ীকা;জে দিল। ভুলিয়ে দিল সব শীত আর ছিটিয়ে দেয়া রাস্তার পানি, সাথে ছেলের খাওয়ার চিন্তা।
একটু পর যোগ হলো আর ও একজন । বিশাল ভপু ওয়ালা। কাজ থেকে বাসায় ফিরবে।
তাকে দেখেই থেমে গেল গলা। সেও ও বেশ কসরত করছে পানি থেকে নিজেকে বাচাতে। আর ও একজন যোয়ান পোলা যোগ দিল স্টপেজে। এর মাঝে একটি বাস আসলো, সবার চেহারায় একটা প্রশান্তি দেখা গেল। বাস কাছে আসতে ই মিইয়ে গেল সে শান্তি।
এটা 15 নাম্বার না।
হতাস হয়ে ঐ পোলা ফোনে কোন বন্ধুর সাথে কথা শুরু করে দিল। সেই মোটা লোকটার কাছেও মোবাইল আছে,কিন্তু ব্যভার করছে না খরচের ভয়ে। এখন ও 9টা বাজে না। 9 টার পর কল ফ্রি।
তার ও যে ইচ্ছে ছিল তা বুঝা যায় দুই বার কয়েন বক্সে ট্রাই করেছে। এই লোকের কাছে গান বিলাশিতা। তার মাথায় ঘুরছে কখন ঘরে যাবে, গিয়ে ফ্রেস হয়ে 8-10 ঘন্টার ক্লান্তি বিছানায় ছড়িয়ে দিয়ে ঘুম দিবে। ঐ সব রেন্মান্টিকতা, বৃষ্টি বিলাশিতা রবি বাবুকেই মানায়। এই লোকের কাছে এর কোন মানে নেই।
এই সব দেখে নিজেকে ভুলিয়ে রাখা যাচ্ছে না,তাই একটু দুরে গিয়ে আবার গান শুরু হলো,রবীন্দ্্র,নজরুল, বাংলা ছবির গান,কলকাতার গান, ব্যান্ডের গান কিছু বাদ নেই। সব ভুলিয়ে দিল
। নীল আকাশের নীছে আমি রাস্তা চলেছি একা," গানটা গাইতে গাইতে দেখি বাস আসছে। ঘরে ফেরা, আবার সেই ঘুরে চলা চাকায় নির্দষ্ট সময়ে,নির্ধারিত দায়িত্বে র বাস্তবায়ন।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।