অস্ত্র মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ‘খলনায়ক’ তারকা সঞ্জয় দত্তের কাছের এক বন্ধু জানিয়েছেন, গত মে মাসে কারাবন্দী হওয়ার পর এরই মধ্যে ১৭ কেজি ওজন হারিয়েছেন বলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী এ তারকা অভিনেতা। জেলের ভাত খেয়ে তাঁর ওজন কমেছে কি না, তা অবশ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সঞ্জয় ১ অক্টোবর দুই সপ্তাহের জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন। মুম্বাইয়ের পালি হিলের বাসায় পরিবারের সবার সঙ্গে ভালোই সময় কাটছে তাঁর। শুরুর দিকে জেলে বসে ঘরের ভাত খাওয়ার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করলেও, ইয়েরাওয়াড়া কারা কর্তৃপক্ষের কড়াকড়ির কারণে সঞ্জয়ের সেই খায়েশ পূরণ হয়নি।
অন্যান্য সাধারণ কয়েদির মতো সঞ্জয়কেও জেলের খাবারই খেতে হয়েছে।
সঞ্জয়ের ওজন কমা প্রসঙ্গে তাঁর কাছের বন্ধু বলেন, ‘বিগত কয়েক বছরে সঞ্জয়কে শারীরিকভাবে এতটা ফিট দেখা যায়নি। ১৯৮১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘রকি’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে অভিনয়জীবন শুরু করেছিলেন তিনি। ছবিটিতে তাঁকে যেমন দৈহিক গড়নে দেখা গিয়েছিল, এখনো তাঁকে ঠিক তেমনটাই দেখাচ্ছে। এখন কোনো অ্যাকশন ছবিতে অভিনয় করলে তাঁকে দারুণ মানাবে।
’ সম্প্রতি এক খবরে এমনটিই জানিয়েছে সান্তাবান্তাডটকম।
সঞ্জয়ের বন্ধু মজা করে আরও বলেন, ‘জেলের চার দেয়ালে বন্দী হলে এভাবে যদি ওজন কমে, তবে আমি বলব, বলিউডের সব অভিনেতারই কিছুদিনের জন্য হলেও কারাগারে কাটানো উচিত। ’
প্রসঙ্গত, ১৯৯৩ সালের মার্চে মুম্বাইয়ে ধারাবাহিকভাবে বেশ কয়েকটি স্থানে ১২টি শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরিত হয়েছিল। ওই ভয়াবহ বিস্ফোরণে ২৫৭ জন নিহত হয়। আর আহত হয় ৭০০ জনের বেশি।
ভয়াবহ ওই সহিংসতার এক মাস পর বিস্ফোরণ মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকা ও বাড়িতে অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে সঞ্জয়কে গ্রেপ্তার করে মুম্বাই পুলিশ।
এ ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার সন্দেহে সঞ্জয় দত্তের বাড়ি তল্লাশি করে লাইসেন্সবিহীন একটি নাইন এমএম পিস্তল এবং একটি একে-৫৬ রাইফেল খুঁজে পায় পুলিশ। পরবর্তী সময় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগ থেকে নিষ্কৃতি পেলেও বাড়িতে অবৈধ অস্ত্র রাখার দায়ে ২০ বছর আগের মামলায় গত ২১ মার্চ সঞ্জয়কে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন ভারতের সর্বোচ্চ আদালত।
গত ১৬ মে আদালতে আত্মসমর্পণের পর প্রথমে মুম্বাইয়ের আর্থার রোড কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় সঞ্জয়কে। সেখানে ছয় দিন বন্দী থাকার পর তাঁকে ইয়েরাওয়াড়া কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।
এই মামলায় আগে দেড় বছর সাজা খেটেছেন সঞ্জয়। এই হিসাবে ২০১৬ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত তাঁকে ইয়েরাওয়াড়া কারাগারে বন্দী থাকতে হবে।
শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত আগস্টে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেছিলেন সঞ্জয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১ অক্টোবর সকালে ১৪ দিনের জন্য প্যারোলে মুক্তি পান তিনি। মুক্তি পেয়েই পুনের ইয়েরাওয়াড়া কারাগার থেকে সরাসরি মুম্বাইয়ে নিজ বাসায় চলে যান সঞ্জয় দত্ত।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।