আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

মাই পারফেক্ট ঈদ ডে

জামাত-শিবির দূরে গিয়া মর!

ঈদ মোবারক। সবাইকে ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা। কেমন আছেন সবাই? আপনাদের ঈদ কেমন কাটলো? যাই হোক আমার ঈদ কেমন কাটলো আপাতত তাই লিখছি। সাড়ে সাতটায় বাবা ধমক মেরে ঘুম থেকে উঠালেন। ঈদের জামাত আটটায়।

বাবা আমাকে তাড়াতাড়ি ঈদগায় আসতে বলে বেরিয়ে গেলেন। আমি দাত ব্রাশ করে, প্রাকৃতিক কাজ সেরে গোসলের জন্য ছুটলাম। প্রতি ঈদেই সাবান শ্যাম্পু দিয়ে ভালো করে গোসল করি, আজ পারলাম না। সময় ছিল না। শ্যাম্পু নিলাম না, কোন রকম গায়ে সাবান ডলেই ডুব দিব।

কিন্তু তাড়াহুড়া করতে গিয়ে আমার সাবান টাই পুকুরে ডুব দিল খোজার সময় নাই। কোনরকমে গোসল সেরে ঘরে এসে পাঞ্জাবি পায়জামা পড়লাম কিন্তু বোতাম খুজে পাওয়া গেল না। শেষ মেষ পাঞ্জাবী বদলে সাদাটাই পড়লাম, কিন্তু টুপি পাওয়া গেল না । গতকাল বড় আপু আমার ঘর গুছিয়েছে, কোথায় রেখেছে আল্লাহ মালুম। টুপি ছাড়াই নামাজে যাচ্ছি, সেমাই খেয়ে বাইরে গেলাম এমন সময় কুকুরে পাঞ্জাবী ছুয়ে দিল! মেজাজটা একদম খারাপ হয়ে গেল।

আবার ঘরে এসে পাঞ্জাবী বদলে শার্ট পড়লাম আবার অজু করলাম। ততক্ষনে ঈদগাহ আর কলেজ মাঠে নামাজে দাড়িয়ে গেছে। উপায়ান্তর না দেখে এতিমখানার জামাতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম। নামাজ মোটামুটি ভালোভাবেই শেষ হলো, কিন্তু নামাজের পর মোনাজাতের আগে এতিমখানার কর্তাব্যক্তিরা জামাতের নেতা বিএনপি আমলের সমাজকল্যানমন্ত্রী একাত্তরের আলবদর বাহিনীর প্রধান মুজাহিদের স্ততি গাওয়া শুরু করলেন । তার জন্য দোয়া করতে বললেন।

মেজাজ চরমে উঠে গেল । উঠে বেরিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নিলাম। অনেকেই রাগ করে উঠে বেরিয়ে যাচ্ছি দেখে খতিব মোনাজাত শুরু করলেন। নামাজ শেষে আবিস্কার করলাম আমার স্যান্ডেল কেউ মেরে দিয়েছে। কোলাকুলি শেষ করে খালি পায়েই গোরস্থানের দিকে হাটা দিলাম।

কাজিন ছোট বোনের কবর জিয়ারত করব। এমন সময় পথে ফারুক মামা জোর করে বাসায় নিয়ে গেল। খিচুড়ী আর হাসের মাংস। আলহামদুলিল্লাহ, ঝাল আর লবনের কমতি নাই। গলা জালিয়ে কোনরকমে বিদায় নিলাম।

গোরস্থানে ছোট বোনের কবরে গিয়ে ওর জন্য দোয়া করলাম। এরপর গেলাম নানাবাড়ি। নানার কবর জিয়ারত করলাম। বাসায় এসে একটু ফেসবুকে বসে দুইজনের মোবাইল নম্বর নিলাম। তারপর গেলাম কোরবানীর ঝামেলায়।

এবার আমরা ভাগে গরু কোরবানী দিলাম। জবাই শেষে চামড়া ছাড়ানোতে লেগে গেলাম। আমার কাজ গরুর ঠ্যাং ধরে রাখা। এরপর এ্যাজ এক্সপেক্টেড নারি-ভূড়ি থেকে গোবর ছাড়ানোর জন্য আমাকে পাঠাইতে চাইলো । এড়িয়ে যেতে চাইলাম, পারলাম না।

ঝাকা ভরা নাড়ি-ভূড়ি তিনজনে মিলে পুকুরে নিয়ে গেলাম। সাথের দুইজনরে দুইটা কইরা মার্লবোরো দিলাম কাজ ফাকি দেওয়ার জন্য। ওরা দুইজন গোবর ছাড়াইতে লাগলো আর আমি সিগারেট টানতে লাগলাম। পরিষ্কার টরিস্কার করে ভাগাভাগি শেষে বাসায় দিয়ে আসলাম। এরপর গোশত কোপানোর পালা।

আমি বটি নিয়ে বসে গেলাম মাংস পিস করতে। কিছুক্ষন পরেই বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল । আবার টেনেটুনে সবকিছু রুমের ভেতর নিয়ে গেলাম। সেখানে গোশত পিস করা শেষে ভাগ করার পালা। আবারও আমাকেই পাঠানো হলো পাল্লা-পাথর আনার জন্য ।

গরীবদের ভেতর গোশত বিতরনের সময় আমাকে সম্মানজনক কুকুর দাবড়ানোর কাজ দেয়া হলো। এখানে আবার মেজাজ খারাপের পালা। আরএফএল এর একদম নতুন বড় একটা নীল বালতি আনছিলাম বাসা থেকে। গোশত নেয়ার জন্য, সেইটা একজন নিয়ে গেলো । যতই বলি এইটা আমার বালতি সে তালগাছ আমার ধরে বসে থাকে ।

রাগের ঠ্যালায় মেজাজ একদম খারাপ হয়ে গেছে, মাইর দিবো ভাবলাম কিন্তু বাবা এসে থামিয়ে দিলেন, মাথা গরম করার জন্য উল্টা বাবার কাছে আমিই বকা খাইলাম আর আমার সামনে ঐ পোলা আমার বালতি নিয়া গেল। বালতি নাই, তাই ছুরি-চাপাতি-বটি একহাতে আর মাথায় বড় গামলা ভরা মাংস নিয়া হাটা দিলাম। মাথায় ব্যাথা শুরু হয়ে গেল । একেতো ঈদের দিন তার উপর দুপুর টাইম; কোন রিকশা বা ভ্যান পাইলাম না। মাথায় কইরাই বাসায় রওয়ানা দিলাম।

বাসা মিনিট পাচেকের রাস্তা, এই রাস্তায়ই মনে হইলো মাথা ঘুইড়া পইরা যাবো । কোন রকমে বাসায় পৌছায়া আবার আত্মীয় স্বজনদের জন্য প্যাকেট শুরু হইলো। আবারও আমার হাতেই ধরায়া দেয়া হইলো বিলি করার জন্য । চিৎকার কইরা কাদতে ইচ্ছা করতেছে তখন। গোশত বিলি করে এসে গোসলে যাবো, সাবান-শ্যাম্পু নিলাম।

আমি স্যাভলন সাবান ব্যবহার করি, কিন্তু সেইটা পুকুরে হারায়া গেছে, বাজারের দোকানও বন্ধ কোনমতে একটা খোলা পাইছিলাম, সেখানে স্যাভলন-ডেটল কিছুই নাই। লেডিস সাবান “ডাভ” পাইছি। আর ঈদের জন্য হেড এ্যান্ড শোল্ডার শ্যাম্পু কিনছিলাম ৩৫০ টাকা দিয়া। মালয়েশিয়ার প্রোডাক্ট। গোসলে গিয়া দেখি শ্যাম্পুতে ফেনা হয় না।

মাথা ধুয়ে আবার নিলাম, যেই লাউ সেই কদু, ফেনা হয় না। আম্মুকে দেখাইলাম। তারপর বুঝলাম ৩৫০ টাকা দিয়া আমি মালয়েশিয়ার হেড এ্যান্ড শোল্ডার কিনি নাই, কিনছি দেশী টাউট বাটপারদের তৈরী ভেজাল শ্যাম্পু, ৩৫০ টাকা হরির ভোগে! ছোট আপু ওর কুমারিকা হারবাল শ্যাম্পু বের করে দিল, বাহ কি সুন্দর! লেডিস সাবান আর লেডিস শ্যাম্পু, মান ইজ্জতের ক্যাথা পুরি সাবান শ্যাম্পু নিয়ে ডুব দিতে যাবো এমন সময় বড় আপু ছুরি-চাপাতি দিয়ে গেল পরিস্কার করতে । কেমন লাগে? বাধ্য ছেলের মত গোসল না করেই ভেজা শরীরে পরিস্কার করলাম, মুছে রোদেও দিলাম। তারপর গোসল সেরে ঘরে এসে একটু টিভির সামনে বসবো, এলাকার পোলাপাইনে ঘরে ঢুইকা চিল্লাফাল্লা শুরু কইরা দিছে।

খাওয়া দাওয়া সেরে আর দাড়িয়ে থাকতে পারলাম না, সোজা বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম, মাথা ব্যাথা আর শরীর ক্লান্ত অল্প সময়েই ঘুমে চোখ ভারী হয়ে এলো। একটু একটু ঘুম আসছে এমন সময় আমার রুমের পাশে পাচ ছয়টা কুকুরে কামড়াকামড়ি-দাবড়াদাবড়ি শুরু করে দিল ঘেউ ঘেউ এর জ্বালায় ঘুম ছুটে গেল, লাঠি নিয়া দৌড়ানি দিয়া আবারও ঘুমের চেষ্টা করছি এমন সময় পাশের বাসার ফাজিল মেয়েগুলি ফুল ভলিউমে “লুঙ্গি ড্যান্স” ছাইড়া দিল। কিছু কইতেও পারি না, সইতেও পারি না। শরীর ক্লান্ত ছিল তাই অনেক ঝমেলার পরও একটু ঘুম চলে এল। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে মোবাইল বাজা শুরু হইলো, সারাদিনের সব রাগ ঝাড়লাম মোবাইলের উপর।

ঘরের দেয়ালে ছুড়ে মারছি, বাট্যারি-বুটারি কোথায় ছিটকে পড়ছে কে জানে। মন মেজাজ খুবই খারাপ। একটু ধাতস্থ হয়ে ফ্রেশ হয়ে এসে ভাবলাম ঈদের প্রোগ্রাম দেখি, ছোট আপু হিন্দি সিরিয়াল দেখা নিয়ে ব্যাস্ত। চ্যানেল আই ধরলাম সাথে সাথেই চিৎকার চেচামেচি শুরু হয়ে গেল। আম্মু আর বড় আপু ওরে কি বলবে আমারেই বকা দিয়ে দিল।

সারাদিন মন-মেজাজ খুবই খারাপ ছিল। আসলেই হোয়াট এ ঈদ ডে

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।