নিজেকে সবসময় সর্বজ্ঞানী মনে হয় বলেই বুঝতে পারি যে আমি মস্ত বোকা অথবা মহামূর্খ। ।
সময় সম্ভবত ১৯৭৩ এর বর্ষাকাল।
মোহাম্মাদপুর এর বাবর রোডের ছোট্ট দোতলা একটি বাড়ির সামনে পুলিশের গাড়ি দাড়িয়ে আছে,
বাড়ির গৃহিণী ভীত চোখে পুলিশের কান্ড-কারখানা দেখছেন। তাকে বিব্রত মনে হচ্ছে, বিব্রত হওয়ার কারনও অবশ্য আছে, এই বাড়ীর বড় ছেলের গতকালই মাত্র বিয়ে হয়েছে, ঘরে নতুন বউ, নতুন বউয়ের সামনেই পুলিশ ঘরের জিনিসপত্র বাইরে ছুড়ে ফেলছে।
বেচারা নতুন জামাই বোকা বোকা চোখে এদিক সেদিক তাকাচ্ছে।
বোকা বোকা চেহারার জামাইকে বিব্রত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করল তাঁর ছোট বোন, দৌড়ে এসে বলল “ভাইয়া, তুই ভাবিকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে বেরিয়ে যা” বেচারা বোধহয় এই অপেক্ষাতেই ছিল, সাথে সাথে বউকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ল।
বেচারি বউ এখনও বিয়ের পোষাকেই আছে, পাল্টানোর সময়টাও পায়নি। ঝিরি ঝিরি বৃষ্টির মধ্যেই হুড-খোলা অবস্থায় দুইজন সাতমসজিদ রোড ধরে ঘুরছে। নতুন বউ কিঞ্চিৎ লজ্জিত, বিয়ের পোশাকে রিক্সায় ঘুরতে লজ্জা পাওয়াটাই স্বাভাবিক, রিক্সার হুড তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছে বারবার, যুবক দিচ্ছেনা।
ভাবসাবে মনে হচ্ছে নিজের বালিকা বধুর রূপ পৃথিবীকে দেখাবে বলেই সে বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে ভিজছে।
গল্পের যুবক আমাদের পরিচিত, যুবকের নাম “হুমায়ুন আহমেদ”। বাংলার সাহিত্যের অপার পরিবর্তন সাধন করা রহস্যপ্রিয় এই মানুষটির ব্যক্তিজীবনও ছিল তাঁর লেখনীর মতই বৈচিত্র্যময়। আগামীকাল হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন। তাঁর জন্মদিনে পৃথিবীর সুদ্ধতম অভিনন্দন রইল।
“জনম জনম তব তরে কাঁদিব”
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।