পথের প্রান্তে আমার তীর্থ নয় ,,,,,পথের পাশেই আছে মোর দেবালয়
পরিচয় করিয়ে দেই উপকারী সব্জী মুলা
মুলা তরকারীর নাম শুনলেই আমরা অনেকেই নাক কুঁচকে ফেলি। বিশেষ করে আমি। এটা খাবারযোগ্য একটি তরকারী হতে পারে তা আমাদের অনেকেরই কল্পনার বাইরে। নাহ এত ফেলে দেয়ার মত সব্জী মুলা নয়। জাপানীদের অন্যতম প্রধান একটি খাবার মুলাতে আসুন দেখি কি আছে এমন।
আমার প্রতি রাতের খাবার ১ বাটি সব্জীর স্যুপ । কাল তাতে মুলা যোগ করেছিলাম। খুব ভালো লাগলো খেতে।
প্রথমেই দেখতে পাই প্রায় ৯০% ভাগ পানি সমৃদ্ধ এই মুলাতে রয়েছে খুবই কম পরিমান স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং কোলষ্টেরল । এছাড়াও এতে আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ এবং ভিটামিন রয়েছে প্রচুর পরিমানে।
মুলাতে আরো আছে ছত্রাক এবং ব্যাক্টিরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার প্রয়োজনীয় উপকরন। কিছু গুরুত্বপুর্ন পুষ্টি উপাদান আর খনিজে সমৃদ্ধ মুলাতে পাওয়া গেছে পটাসিয়াম, ভিটামিন-সি, ফোলেট, ফাইবার, ম্যাঙ্গানিজ, কপার, ম্যাগ্নেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি৬, রিবোফ্লেভিন এবং সোডিয়াম।
১০০ গ্রাম কাচা মুলায় পুষ্টিমান রয়েছে
ক্যালোরি ১৬
পানি ৯৫.৩ গ্রাম
প্রোটিন 0.৭ গ্রাম
শর্করা ৩.৫ গ্রাম
চর্বির পরিমান 0.১ গ্রাম
চিনি ১.9 গ্রাম
ক্যালসিয়াম ২৫.0 মিঃগ্রাম
লোহা 0.৩ মিঃগ্রাম
ম্যাগনেশিয়াম ১০মিঃগ্রাম
পটাশিয়াম ২৩৩ মিঃগ্রাম
ভিটামিন এ ৭.0 ইউনি
ভিটামিন সি ১৪.৮ মিঃগ্রাম
ভিটামিন কে ১.৩ মাইক্রোগ্রাম।
জিঙ্ক 0.৩ মিলিগ্রাম
ওমেগা৩ ফ্যাটি এসিড ৩১.0 মিলিগ্রাম
ওমেগা ৬ ফ্যাটি এসিড ১৭.0 মিলিগ্রাম
এত এত গুন সম্পন্ন মুলাকে আমরা কি হতশ্রদ্ধাই না করি।
এখন দেখা যাক বিভিন্ন রোগের জন্য মুলার উপকারী দিকগুলো ।
লাল জাতের মুলার সালাদ, এটা একটু ঝাল হয়ে থাকে সাধারনত।
জন্ডিস
রক্তের দুষন পরিস্কার করায় বিশাল এবং সেই সাথে শক্তিশালী এক ক্ষমতা রয়েছে মুলায়। যা আমাদের লিভার এবং পাকস্থলীর সমস্ত দুষন এবং বর্জ্য পরিস্কার করে থাকে। এছাড়াও মুলা জন্ডিসের অন্যতম কারন বিলিরুবিনের পরিমান কমিয়ে তাকে একটি গ্রহনযোগ্য মাত্রায় নিয়ে আসে যা কিনা জন্ডিসের চিকিতসার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। এমনকি মুলা রক্ত কনিকায় অক্সিজেন সরবরাহের পরিমান বাড়িয়ে তুলে, ফলে জন্ডিস রোগটি যে আমাদের শরীরের রক্ত কনাগুলো ভেঙ্গে ফেলে তার পরিমান কমিয়ে আনে।
অর্শ
অর্শের প্রধান কারন হচ্ছে কোষ্ঠকাঠিন্য। ফাইবার সমৃদ্ধ সব্জী মুলা অত্যন্ত সাফল্যের সাথে এই দিকটি মোকাবেলা করে থাকে। খাবার হজম করার এক শক্তিশালী উপাদান মুলা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এই রোগের আশংকাকে নির্মুল করে। আর এর মাঝে যে পানি রয়েছে তা পরিপাক ক্রিয়াকে গতিশীল করে তোলে।
মুলার অতুলনীয় স্বাদের সালাদ
ওজন কমানো
আজকাল সবাই স্লিম ফিগারের অধিকারী হতে চায়।
কেউ পছন্দ করে না সে মুটু হোক। তাছাড়া এই স্থুল স্বাস্থ্য অনেক রোগের আবাস। স্লিম হওয়ার জন্য কত প্রচেষ্টা, কত ডায়েট কত জিম কত কিছু। কিন্ত মুলা খুব সহজেই আপনাকে আপনার চাহিদামত স্বাস্থ্যের অধিকারী করে তুলবে। মুলা মানুষের ক্ষুধাকে নিবৃত্ত করে খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে তাছাড়া এতে ক্যালোরীর পরিমান খুব কম।
আরো রয়েছে প্রচুর পরিমান ফাইবার, পানি এবং হজমযোগ্য শর্করা। এটা ডায়েটিং এর জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি উপাদান কারন মুলায় ক্ষুধা নিব্বৃত্ত হয়। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে শরীরের মেটাবলিজমে সাহায্য করে ওজন কমায়।
ক্যান্সার
ক্যান্সার শুনলেই আমরা ভয়ে শিউরে উঠি। আজ পর্যন্ত ক্যান্সারের পরিপুর্ন চিকিতসা আবিস্কৃত হাই লেভেল ভিটামিন সি,এন্টি অক্সিডেন্ট এবং শরীরের দুষন দূর করার ক্ষমতাসম্পন্ন মুলা ওরাল,পাকস্থলী,বৃহদন্ত,কিডনী এবং কোলন ক্যান্সার চিকিতসার সাথে সম্পৃক্ত।
ক্যান্সারের সেল নির্মুলেও এর অবদান রয়েছে।
শ্বেতী রোগ
আমরা অনেকেই দেখি শ্বেত রোগ নিয়ে ভয়াবহ এক মানসিক দুঃশ্চিন্তায় জীবন অতিক্রম করছে। সমাজে মুখ দেখানো তাদের জন্য অসহনীয়। কিন্ত রোগটি ছোয়াচে নয়, শরীরের রং উদপাদনকারী তার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ায় এই বিপর্যয়। শ্বেত রোগের চিকিৎসায় মুলা অত্যন্ত কার্য্যকরী।
এন্টি কারসেনোজিনিক উপাদান সম্বরদ্ধ মুলার বীজ আদার রস এবং ভিনেগারে ভিজিয়ে লাগাতে হবে। নাহলে কাঁচা মুলা চিবিয়ে খেলেও হবে।
স্কিনের সমস্যা
প্রচুর পরিমান খনিজ এবং ভিটামিনে পুর্ন মুলা স্কিনের বিভিন্ন সমস্যায় অত্যন্ত উপকারী। বিভিন্ন ক্ষত সারানো ছাড়াও কাচা মুলা ফেস প্যাক এবং ক্লিন্সার হিসেবেও দারুন উপকারী।
পোকার কামড়
মৌমাছির হুল অথবা যে কোন পোকা মাকড়ের কামড় দিলে মুলার রস লাগিয়ে দিবেন।
সাথে সাথেই ফোলা এবং ব্যাথা কমে যাবে।
জ্বর
জ্বর এবং এর কারনে শরীর ফুলে যাওয়া কমাতে সাহায্য করে অত্যন্ত উপকারী সব্জী মুলা।
কিডনী রোগ
কিডনীর অকার্যকরতায় মুলা অত্যন্ত্য উপকারী। কারন এতে রয়েছে সংক্রমন দূর, পরিস্কার করার ক্ষমতা এবং সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো মুলার প্রচুর পানি কিডনীর ভেতরে জমে থাকা সমস্ত দূষনকে দূর করে দেয়।
শ্বাস নালীর সংক্রমন।
আমাদের শ্বাসনালী প্রতিনিয়ত বিভিন্ন কারনে সংক্রমিত হচ্ছে। যেমন এলার্জি,ইনফেকশন, ঠান্ডা লাগা ইত্যাদি। মুলা এসব রোগ নির্মুল করে এছাড়াও বিভিন্ন সংক্রমন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
লিভার এবং গলব্লাডার
লিভার এবং গলব্লাডার চিকিতসায় মুলা অত্যন্ত কার্যকরী। মুলা বিলিরুবিন, বাইলস,এনজাইমস,এবং এসিড উৎপাদন ও নিয়ন্ত্রন করে থাকে।
এছাড়াও নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ, ক্ষুধা বৃদ্ধি, হুপিং কফ, গলায় ক্ষত, এসিডিটি, বমিভাব, মুত্রনালীর প্রদাহ এবং মাথা ব্যাথার জন্য অত্যন্ত উপকারী। কাঁচা মুলা আলসার এবং বিভিন্ন সংক্রমন থেকেও রক্ষা করে।
বাজার করা আমার শখ। সেখানে গেলে আমি মুলার কিনার দিয়েও হাটি না। কিন্ত নেটে মুলার এত গুন পড়ে আমিতো তাজ্জব হয়ে গেলাম।
সাথে সাথে কিনে নিয়ে আসলাম এক কেজি মুলা। আর চারটে টাকি মাছ । অত্যন্ত আদর যত্নের সাথে তৈরী করলাম আমাদের দেশ বিক্রম্পুরের একটি প্রিয় খাবার মুলা টাকি ভর্তা। আমাদের দুজনের পরিমান তৈরী করলাম।
সব্জী কুরোনীতে কুরানো মুলা
উপকরনঃ
১, সাদা মুলা একটি বড় সাইজ।
২,টাকি মাছ ৪টা
৩,পেয়াজ দুটো
৪,কাচা মরিচ পরিমান মত
৫, ধনেপাতা পরিমান মত।
৬,সরষের তেল ১ টেবিল চামিচ।
৭,লবন পরিমান মত।
প্রথমে মাছ ধুয়ে হলুদ লবন মাখিয়ে ভেজে কাটা ছাড়িয়ে নিন। এরপর মুলা ছিলে সব্জী কুরুনীতে কুড়ে পানি চিপে ফেলে নিন।
পেয়াজ, কাচামরিচ, ধনেপাতা কুচিয়ে নিন। এরপর সব কিছু একসাথে মাখিয়ে গরম গরম ভাতের সাথে পরিবেশন করুন মুলা টাকি ভর্তা।
ভেজে বেছে নেয়া টাকি মাছ। এই কাজের দায়িত্ব দিয়েছিলাম গৃহকর্তাকে, বেশিরভাগ মাছই নাকি ভীষন কাটা, তাই পরিমান কম
সব উপকরন এক সাথে, তেলের বোতল ছবির বাইরে
সব উপকরন এক সাথে মেখে তৈরী হলো অত্যন্ত মজার একটি ভর্তা
ভালো না লাগলে কিচ্ছু বলার নাই ।
ভর্তার ছবিগুলো তাড়াহুড়া করে আমার মোবাইলে তোলা,
তাই এমন ঝাপ্সা ।
বাকিগুলো নেট থেকে নেয়া।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।