আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

মা আমাকে ক্ষমা করে দিও

এই তো সেদিনের কথা,বাড়ি থেকে আসার সময় মাকে সালাম দিয়ে বলতাম, “মা আসি তাহলে”। মা বলত, “সাবধানে যাস ,আর রুম এ পৌছানোর পর ফোন দিবি”। বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পর যখন কোন কিছুর জন্য মন খারাপ হত মায়ের কাছে আশ্রয় খুজে নিতাম মনটা হাল্কা করার জন্য। যখন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম ফলাফল পেলাম সবার আগে মাকে ফোন করে বলতাম, “মা আমাদের ফলাফল দিছে,কিন্তু আমার রেজাল্ট খুব খারাপ হইছে”। মা বলত, “মন খারাপ করিস না ,চেষ্টা কর ,ফলাফল এমনিতেই আসবে”।

এমনি হাজারো কারণ –অকারণে মায়ের সাথে সবসময় যোগাযোগ রাখতাম। মা এইটা করব, ওখানে যাব, ওইটা খাব, বাড়ি আসব,খেলতে যাব- এরকম নানা বিষয়ে মায়ের কাছ থেকে পরামর্শ নিতাম। কিন্তু কয়েক বছর কেটে যাবার পর আমি বুঝতে পারলাম আমি আর সেই আগের মত নেই। কারণ এখন কোন কিছু করতে গেলে সব ব্যাপারে মায়ের অনুমতি নেই না, একটা কিছু করতে ইচ্ছে হল করে ফেলি,যদিও মনে মনে সব সময় ভাবি মা যদি জানতে পারে তাহলে সে কি ভাববে। মা আমি কি অনেক খারাপ হয়ে গেছি, জান মা আমি তোমার কাছে অনেক কিছু লুকিয়ে রাখি,আগের মত কোন কিছু করতে যাবার আগে অনুমতি নেই না, সত্যিই মা আমি অনেক খারাপ হয়ে গেছি তাই না।

বল মা আমার কি দোষ, আমি তো এই সমাজের এই মানুষ,এই সমাজের বিবেক এই আমাকে শিখিয়েছে তুই বড় হয়ে গেছিস, সব কিছুই যদি তুই মাকে বলিস তাহলে তো মা সবসময় চিন্তিত থাকবে। মা তুমি বল, কোন সন্তান কি তার মায়ের চিন্তিত মুখ দেখতে চায়। তাই তো মা আমি তোমার কাছ থেকে নিজস্ব কিছু হতাশা, কষ্ট লুকিয়ে রাখি। বল মা এটা কি আমার অপরাধ ? তবে মা তুমি জেনে রেখ, তোমার সন্তান কখনো তোমার কাছ থেকে কোন ভাল খবর লুকাবে না, আর যে কথাগুলো তোমার কাছ থেকে লুকিয়ে রাখি তার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবার জন্য আমি সবসময় তোমার হাসিমাখা মুখটাকে স্মরণ করি। বল মা এটা কি আমার অপরাধ,যদি অপরাধ হয় তাহলে মা আমাকে ক্ষমা করে দিও ।

আর , মা এতে যদি পাপও হয় তবু তোমার হাসি মুখের জন্য এ পাপ আমার কাছে খুব খুব সামান্যই…………………………………….. ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।