শনিবার গণভবনে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আমি ধন্যবাদ জানিয়েছি বিরোধী দলীয় নেতাকে চার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য। আশা করি আগামী নির্বাচনেও তিনি অংশ নেবেন। ”
তবে বিরোধী দলের দাবি অনুযায়ী নির্দলীয় সরকারের অধীনে যে আগামী সংসদ নির্বাচন যে আওয়ামী লীগের অধীনেই হচ্ছে, তা আবারো স্পষ্ট করেছেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, “অন্যান্য দেশে যেভাবে নির্বাচন হয়, ঠিক সেভাবেই হবে। … ভোট দেবার মালিক জনগণ।
ভোট দিলে আছি না হলে নাই। ”
আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ’ হবে- এমন আশা প্রকাশ করে শেখ হাসিনা আবরো বলেন, “গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে যেভাবে নির্বাচন হওয়ার কথা সেভাবেই আগামী নির্বাচন হবে। ”
যারা তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতি ফেরানোর পক্ষে বলছেন তাদেরও সমালোচনা করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “এভাবে গণতন্ত্র নিয়ে আর খেলা চলবে না। ”
তত্ত্বাবধায়কের ‘খাল কেটে’ আর ‘কুমির’ না আনার জন্য বিরোধীদলীয় নেতার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনের ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বিলুপ্ত হওয়ায় এখন নির্বাচিত সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে।
দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না বলে দাবি করে আসছে বিরোধী দল। তবে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে একটি নির্বাচিত সরকার থেকে আরেকটি নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী।
সকালে গণভবনে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে মত বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করা একান্ত ভাবে অপরিহার্য। কোথাও থেকে তা শুরু করতে হবে।
জনগণ তাদের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার যাতে প্রয়োগ করতে পারে। ”
আগামী ১৫ জুন রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তারিখ রয়েছে। বিগত কয়েকটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী না দিলেও এবার চার সিটিতে বিরোধী দল সমর্থিত প্রার্থীরা অংশ নিচ্ছেন।
পঞ্চম ও ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সময়ের নির্বাচনের তুলনা করে শেখ হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লীগ জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করে। তাই নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করি নাই।
”
বর্তমান সরকারের সময়ে জাতীয় সংসদের উপ-নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকার পর্যায়ের সাড়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, “আমাদের নিয়ত তো ভোট চুরি করা না। জনগণের ভোটের অধিকার সংরক্ষণ করা। গণতান্ত্রিক অধিকার সুসংহত করা। ”
সবার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের ‘সার্চ কমিটি’ গঠন করার কথাও মনে করিয়ে দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নির্বাচন কমিশন আর্থিকভাবে স্বাধীনতা ভোগ করছে। নির্বাচনের সময়ে জনপ্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকে। তারা তাদের ইচ্ছামতো বদলি করতে পারে।
“এতোগুলো নির্বাচন হয়েছে। কেউ অভিযোগ করতে পারেনি।
প্রতিটি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠূ ও নিরপেক্ষ হয়েছে। ”
বর্তমান সরকারের সময়ে জনগণ তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছে দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে পেরেছে।
“আমাদের অনেক প্রার্থী পরাজিত হয়েছে। কিন্তু আমরা ভোট চুরি করে কেড়ে নিতে যাই নাই। এটা আমাদের নীতি না।
আগামীতেও তা করব না। … আগামীতেও জনগণের ভোটেই নির্বাচিত হবো- এটাই আমাদের আকাঙ্খা,” বলেন শেখ হাসিনা।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।